বাটাম দ্বীপ : ছুটি কাটানোর জন্য একটি অনবদ্য জায়গা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাঝে প্রাণবন্ত শহর এক দ্বীপ
কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে ঘুরে আসুন বাটাম দ্বীপে। ছবি : দ্যা ক্রেজি টুরিস্ট
জীবন মানে কি শুধুই দৈনন্দিন সময়ের কাজগুলো করা কিংবা ছুটির দিনগুলো ঘরে বসে অতিবাহিত করা? কখনো কী ভেবে দেখেছেন আপনার ভ্রমণ তালিকায় এখন পর্যন্ত কয়টি জায়গা যুক্ত হয়েছে? শুধুমাত্র অর্থ এবং সময়কে দোষারোপ করলে কিন্তু কোথাও ভ্রমন করা হয় না। নিজেকে দৈনন্দিন এই সময়গুলো থেকে ছুটি দিতে হলে ভালো একটি ভ্রমণের তুলনা নেই। প্রাকৃতিক পরিবেশ সাথে প্রাণবন্ত একটি শহরে গড়ে ওঠা দ্বীপ অপরিমেয় ভূমিকা রাখতে পারে। তেমনই একটি দ্বীপ ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ।
সিঙ্গাপুরের অপরপ্রান্তে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থিত ছুটি কাটানোর জন্য এটি একটি অনবদ্য জায়গা।
ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ দেশটির অষ্টম বৃহত্তম শহর এবং ইন্দোনেশিয়ার তৃতীয়তম প্রবেশ পথ। সিঙ্গাপুর থেকে বাটাম দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। মাত্র ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি বাটাম দ্বীপে যাওয়া যায়। এখানে প্রায় ১,২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৯ জন লোকের বসবাস ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ।
ছবি : রেন্ট কার্স বাটাম
আয়েশ করে থাকার জন্য এবং ভ্রমণের জন্য বাটাম দ্বীপ পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্যস্থান। আপনি হয়তো এখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন পাবেন না। কিন্তু এখানে অসংখ্য রিসোর্ট, স্পা, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে রয়েছে যা জীবনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। রাতের বেলা স্থানগুলো আরও বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে জেগে ওঠে। সন্ধ্যার সময় বিনোদনের আসরে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে দ্বীপের সর্বত্র। শুধুমাত্র প্রাণবন্ত পরিবেশের সময় অতিবাহিত করার জন্যই নয় এখানে ডাইভিং এবং সার্ফিং-এর জন্য অসংখ্য পর্যটক আসে।
বাটাম দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ পানিতে বিভিন্ন ক্রীড়া কৌশল। সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো পর্যটন স্থানে বিভিন্ন ক্রিয়া কৌশল দেখতে হলে বেশ খরচ করতে হয়। কিন্তু এখানে যৎসামান্য খরচে পানির ওপর ক্রীড়া কৌশল দেখতে পাবেন। এর জন্য বাটাম ক্যাবল স্কা পার্কটি সর্বোৎকৃষ্ট।
[caption id="attachment_27473" align="alignnone" width="1024"]
ডাইভিং এবং সার্ফিং এর জন্য বিখ্যাত বাটাম দ্বীপ। ছবি : দ্যা ক্রেজি ট্যুরিস্ট
এছাড়া বাটাম দ্বীপে আসলে পর্যটকরা মহাভিহারা দুতা মৈত্র মন্দিরে ঘুরতে যান। নিজের মনের ভেতরকার শান্তি বা আত্মার শান্তি খুঁজে পেতে হলে এখানে আসা যায়। মন্দিরে উপাসকরা ভালো ভাগ্যের জন্য ধূপ জ্বালিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়।
এখানে রয়েছে রঙিন বুদ্ধমূর্তি এবং মন্দিরের অপরদিকে খোদাই করা জ্যোতিষ্কমন্ডলী যা সম্ভ্রান্ত সময়ের নিদর্শনকে প্রকাশ করে। আরেকটি মজার বিষয় হলো এখানে ক্রয় করার জন্য যে সকল খাবার রয়েছে সবই সুন্দর প্রাণীর গঠন আকৃতিতে হয়ে থাকে।
মহাভিহারা দুতা মৈত্র মন্দির, বাটাম দ্বীপ। ছবি : লেইজার এন্ড মি
কেন্দ্রীয় বাটাম দ্বীপের আশেপাশে অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অত্যাশ্চর্য পেনিইয়েনগাট দ্বীপ। হাঁটার জন্য এই জায়গা অতুলনীয়। এখানে রয়েছে বিখ্যাত কুনিং মসজিদ (হলুদ মসজিদ), যার প্রাচীর তৈরি হয়েছে ডিমের খোসা দিয়ে। সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার জন্য এখানে বেশ জনপ্রিয় তিনটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। শেই এনাম, রেজিকি এবং হার্বর রেস্তোরাঁ বেশ জনপ্রিয় এবং খাবার খুবই সু-স্বাদু। অনেক মানুষ বাটাম দ্বীপে আসে শুধুমাত্র জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলো ভ্রমণের জন্য। আপনি যদি আরও বেশি কিছু অনুসন্ধান করতে চান সেক্ষেত্রে উত্তর উপকূলে ঘুরতে পারেন।
আপনি একটি মোটর বাইকে অথবা সাইকেলে চড়ে যেতে পারেন। যেতে যেতে উভয় পাশের বৃক্ষ শ্রেণীর মধ্যকার দৃশ্যপট মনকে আলোরিত করে তুলবে। এছাড়া রৌদ্রস্নান করতে চাইলে যেতে হবে নঙসা সৈকতে। আরামপ্রদ কোলাহলহীন সময় পার করতে অনেক পর্যটকই এখানে আসেন। এখান থেকে বেশ চমৎকার সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যায়।
বিখ্যাত কুনিং মসজিদ যেটি হলুদ মসজিদ নামে বেশি পরিচিত। ছবি : হালাল ট্রিপ[/caption]
এছাড়াও বাটাম দ্বীপের নিকটবর্তী অসংখ্য ঝুলন্ত সেতু রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেয়ার ল্যাং সেতু। সেতুটি মূলত গ্যালাং দ্বীপের সাথে বাটাম দ্বীপকে সংযুক্ত করেছে।
বাটাম দ্বীপে মেসেজের জন্য বিভিন্ন স্পা রয়েছে। সেখানে অসংখ্য পর্যটক আসে শরীরকে সতেজ করে তোলার জন্য। সবচেয়ে বিখ্যাত স্পা ঘর ইজাবেলা স্পা হাউজ।
ডুবুরিদের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য যে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সেটি ব্যবহার করে আপনি নিজেও ইচ্ছামত পানিতে ডুব দিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এখানে স্বচ্ছ পানিতে ডাইভিং-এর জন্য উৎকৃষ্ট।
এছাড়া রয়েছে গলফ খেলার জন্য কয়েকটি রিসোর্ট। যারা গলফ খেলতে ভালবাসে এখানকার রিসোর্টগুলো তাদের জন্য স্বর্গ স্বরূপ। রিসোর্টে রয়েছে বিভিন্ন বার ও খাবারের দোকান।
[caption id="attachment_27476" align="alignnone" width="1756"]
সমুদ্রের উপর ঘরে থাকার সুযোগ পূরণ করতে পারেন বিনটান দ্বীপে এসে। ছবি : পিন্টারেস্ট
বিলাসবহুল সময় অতিবাহিত করতে চাইলে আপনি যেতে পারেন বিনটান দ্বীপে। আপনার বাজেট বেশি হলে বিনটান দ্বীপে যাওয়া উত্তম। কিন্তু বাজেট সীমিত হলেও এখানে এক রাত অতিবাহিত করতে পারেন। বিনটান দ্বীপ বাটাম দ্বীপের থেকে কিছুটা কম ব্যস্ততম। বাটাম দ্বীপের বেশিরভাগ জায়গায়ই আধুনিক।
কিন্তু আপনি যদি আধুনিকতার বাইরে থেকে প্রাচীন সময়ের ঘরবাড়ি দেখতে চান তাহলে যেতে হবে তানজুং উমা অঞ্চলে। পানির উপরে অবস্থিত ঘরগুলো বেশ চমৎকার। ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ বিদ্যায় তৈরি হয়েছে এগুলো। এছাড়া আপনি পরিবার নিয়ে ওকারিনা পার্কে যেতে পারেন। সেখানে থ্রিডি সিনেমা হল রয়েছে। আর কেনাকাটা করার জন্য যেতে পারেন নাগোয়া হিল শপিংমলে।
কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বিমানে করে প্রথমে আপনাকে সিঙ্গাপুরে চাঙ্গি বিমানবন্দরে যেতে হবে। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা ৫০ মিনিট এবং আপনার খরচ পরবে ৮,০০০ টাকা থেকে ৬৩,৪০০ টাকা পর্যন্ত। এরপর বাসে করে তানাহ মিরাহ টার্মিনালে যেতে হবে। আপনার সময় লাগবে ১৫ মিনিট এবং খরচ পরবে ১৫০ টাকা। টার্মিনাল থেকে সরাসরি বাটাম দ্বীপে নৌকায় করে যেতে পারবেন ৪৫ মিনিটে। এক্ষেত্রে খরচ পরবে ৬৫০ টাকা।
খাওয়া-দাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা : বাটাম দ্বীপে খাবার বেশ সুস্বাদু এবং আকর্ষণীয়। খাবারের খরচ প্রায় ৩৫০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। হোটেল খরচ প্রতি রাতের জন্য ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সতর্কতা :
- রাতের বেলা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন।
- রাতের বেলা একা একা কোনো অনুষ্ঠানে না যাওয়াই উত্তম। যদি কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা কোনো জায়গায় দেরি হয়ে যায় তাহলে কারও জন্য অপেক্ষা করুন অথবা অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- সরাসরি ট্যাপের পানি খাবেন না, এমনকি ফাইভ স্টার হোটেল গুলোতেও খাবেন না। খাবারের পানি পানের আগে নিশ্চিত করে নিন যে পানি পাঁচ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নেয়া হয়েছে কিনা।