ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : তথ্য ও উপাত্ত
ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সিলেটে অবস্থিত বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর

অবস্থান :
সিলেট সদরের বড়শাল এলাকায় এই বিমানবন্দরটি অবস্থিত। সিলেটের জিরো পয়েন্ট থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে উত্তর-পূর্ব দিকে এই বিমানবন্দরটি অবস্থিত।ইতিহাস :
১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে জাপানিরা যখন বার্মা থেকে আক্রমণ চালাতে থাকে তখন এই বিমানবন্দরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেসময় এখানে শুধু যুদ্ধবিমানই ওঠা-নামা করতো। এরপর বেশ কয়েকবার এই বিমানবন্দরটির অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়। বিমানবন্দরটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল কাজ আরম্ভ হয় ১৯৮৬ সালে। এই সময় টার্মিনাল ভবন, নেভিগেশনাল যন্ত্রপাতি, রানওয়ে, ছোট যান চলাচলের জায়গা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।১৯৯৮ সালে 'এ-৩১০'-এর মতো মধ্যম আকারের বিমান ওঠানামা শুরু করে এই বিমানবন্দরটিতে। ২০০২ সালে এখানে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। ২০০৬ সালে এর টার্মিনাল বড় করার পর এখানে পুরোপুরিভাবে আন্তর্জাতিক বিমানসমূহ চলাচল শুরু হয়। ২০০৭ সালে এখান থেকে হজ ফ্লাইট পাঠানো শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালে এই বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং স্টেশন চালু হয়। ২০১৫ সালে এই বিমানবন্দরে সিলেট-দুবাই ফ্লাইট চালু করার মাধ্যমে সিলেট-মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট চলাচল শুরু হয় এখানে।
আরও পড়ুন : এক নজরে দেখে নিন : বিমান ভ্রমণে উচিত নয় যা
কার্যক্রম :
এই বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী বিমানসমূহ চলাচল করে। এখানে থেকে জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আবুধাবি, দোহা, দুবাই, লন্ডনের হিথ্রো ও জেদ্দা থেকে সিলেটে নিয়মিত তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া, বেশ কিছু বেসরকারি বিমান সংস্থার ফ্লাইটও এখানে পরিচালিত হয়। এগুলো হল নভোএয়ার, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এছাড়া এই বিমানবন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, সিলেট-কক্সবাজার ইত্যাদি রুটে বিমান চলাচল করে থাকে। এই বিমানবন্দর থেকে কার্গো বিমানও চলাচল করে। স্কাইএয়ার এখান থেকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করছে।যা যা আছে এই বিমানবন্দরে :
দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘ রানওয়েটি হল এই বিমানবন্দরের। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর আন্তর্জাতিক বহির্গমন এরিয়া অনেক বড় করে তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক এই বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা রয়েছে। এখানে উন্নত গাড়ি পার্কিং সুবিধা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, লাগেজ ট্রলি, লাগেজ র্যাপিং, কার্গো সার্ভিস, হুইল চেয়ার, প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যাংকিং সেবা, খাবারের সুবিধা, হোটেল বুকিং সার্ভিস, নামাজের ঘর, বিশুদ্ধ পানি, ওয়াইফাই, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম (এফআইডিএস), টিকেট সেলস কাউন্টারসহ আরও নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়া এখানে যাত্রীদের জন্য অন এরাইভাল ভিসা বুথ ও ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ বুথ রয়েছে।আরও পড়ুন : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : ইতিহাস ও তথ্য উপাত্ত
নিকটবর্তী হোটেলসমূহ :
এই বিমানবন্দরের আশেপাশেই অনেকগুলো ভালো মানের হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: সানহা উইন্ডট্রিপ, সেকেন্ড হোমস, নভেম ইন এন্ড হলিডেইস, হলি ইন, ব্রিটেনিয়া হোটেল, হোটেল গ্র্যান্ড জাফরান, ফারমিস গার্ডেন হোটেল, হোটেল পায়রা, হোটেল মুসাফির, হোটেল হলি গেইট ইত্যাদি। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ও কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে এই বিমানবন্দরটি ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সেখান থেকে রিক্সা, সিএনজি বা অটো রিক্সায় চড়ে অতি সহজেই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা যায়। রিক্সায় ভাড়া পড়বে ১২০ থেকে ২০০ টাকা। আর সিএনজিতে ভাড়া পড়বে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। বিমানবন্দরটির টার্মিনালের সামনের পার্কিং এরিয়াতে সবধরনের পরিবহনই ভাড়ায় পাওয়া যাবে।যোগাযোগ :
এয়ারপোর্ট ম্যানেজার, সিলেট, বাংলাদেশ ফোন: +880 821 714243 ইমেইল : apmsylhet@caab.gov.bd
PABX: +880 821 725391 to 94
রুবাইদা আক্তার এস এম