ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অবস্থিত বর্ডার হাট। ছবি: ভ্রমণ গাইড
হাতে কেবল একদিন সময় থাকলে আশেপাশের ঘোরাঘুরির জায়গাগুলোর মধ্যে চলে যেতে পারেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত কসবা বর্ডার হাটে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের মালিকানায় এই হাট পরিচালিত হয়।
জায়গাটিতে দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা হয় বললেও ভুল হবে না একেবারে। ভিসা এবং পাসপোর্ট ছাড়াই এই হাটে কেনাকাটা এবং পরিদর্শন করা যায়।
২০১৫ সালের ১১জুন থেকে শুরু হওয়া এই বর্ডার হাট বসে প্রতি সপ্তাহের রবিবারে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা অবধি।
হাটের দিন আশেপাশের জেলাগুলো থেকেও ব্যবসায়ীরা যান পণ্য বিক্রয় এবং সংগ্রহ করতে।
কাপড়- চোপড়, শাকসবজি, কসমেটিকস, খাদ্যদ্রব্য, গৃহস্থালির জিনিসপত্র, কৃষিপণ্য ইত্যাদি ছাড়াও পাওয়া যায় নিত্য প্রয়োজনীয় নানা ব্যবহার্য জিনিসপত্র।
কেউ যদি ভারতে ঘুরতে না গিয়েও সেখানকার জিনিসপত্র কিনতে চান তাদের জন্য বর্ডার হাট হতে পারে আদর্শ জায়গা। একই সাথে দেখতে পারবেন আখাউড়া চেক পোস্ট।
এই চেক পোস্টে বিকেলে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর উদ্যোগে প্যারেডের আয়োজন করা হয় এবং আগত দর্শকেরা তা দেখতেও পারেন। প্যারেড দেখতে আগত দর্শকদের জন্য বসার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
বর্ডার হাটে ঢুকতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কিংবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কাগজের ফটোকপি দেখিয়ে বিজিবি ক্যাম্প থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। ছবি: আওয়ার কন্ঠ ২৪ ডট কম
যা মনে রাখা উচিত :
১। সাধারণত সপ্তাহের রবিবার হাট বসলেও এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মঙ্গলবারে সকাল ১০-৪টা পর্যন্ত হাট বসে।
২। এই হাট থেকে সরকারিভাবে ২০০ ডলার সমমূল্যের জিনিসপত্র কেনার পারমিশন রয়েছে।
৩। সকাল ১১টার আগে পৌঁছলে উপজেলা পরিষদ থেকেও টিকেট সংগ্রহ করা যায়।
বর্ডার হাটের টিকেট :
বর্ডার হাটে ঢুকতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কিংবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কাগজের ফটোকপি দেখিয়ে হাটে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প থেকে ৩০ টাকা মূল্যের টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। প্রত্যেক হাটের জন্য ১,০০০টি টিকেটের ব্যবস্থা থাকে। তাই ১০টার আগেই টিকেট সংগ্রহ করা উচিত।
ঢাকার কমলাপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় তিশা, রয়েল এবং বি আর টি সি এর এসি এবং নন এসি বাস। যার ভাড়া পড়বে ২০০-৩০০টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সায়েদাবাদে নেমে সেখান থেকে অটো রিক্সা নিয়ে যাওয়া যাবে বর্ডার হাটে।
এছাড়া ট্রেনে গেলে নামতে হবে কসবা স্টেশনে। পাশেই পড়বে বর্ডার হাট। কসবা থেকে বর্ডার হাটে যেতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে।
থাকার ব্যবস্থা :
সাধারণত দিনে গিয়ে ফিরে আসা গেলেও এখানে রয়েছে রাতে থাকার ব্যবস্থা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক বাজার এবং জগত বাজারে রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল।
খাওয়ার ব্যবস্থা :
বর্ডার হাটে যাবার পথে চোখে পড়ে বেশ কিছু খুচরো নাস্তার দোকান। এছাড়া আর দশটা লোকালয়ের মত এখানেও আশেপাশে চোখে পড়বে নান রেস্তোরা ।
দর্শনীয় স্থান :
বর্ডার হাট ঘুরে হাতে সময় থাকলে আরও দেখতে পারেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি, কেল্লা জামে মসজিদ, হরিপুর জমিদার বাড়ি, ধরন্তি হাওড়, কালভৈরব মন্দির এবং ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল।
বি: দ্র: যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে তার পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যা দর্শনীয় স্থান এবং সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য ক্ষতিকর।