কুড়িগ্রামের বীর শহীদদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : স্মৃতি বিজরিত শহীদদের উদ্দেশ্যে তৈরি করা ফলক
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক। ছবি : সংগৃহীত
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙ্গালি জাতির মুক্তির লড়াই। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে দেশের প্রতিটি জেলার মানুষজন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কুড়িগ্রাম জেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। ২৫ মার্চের ভয়াল কাল রাতের পর কুড়িগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই এপ্রিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী লালমনিরহাট ও রংপুর থেকে সৈন্যদল নিয়ে এগিয়ে আসে। গন্তব্যস্থল ছিল কুড়িগ্রাম জেলা। মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁধা পেরিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরে ঢুকে পড়ে। তারা নির্মমভাবে গুলি চালাতে শুরু করে। জেলখানার দায়িত্বরত অফিসার এবং পাঁচজন সিপাহীকে ডেকে সার্কিট হাউজের রাস্তায় তাদেরকে গুলি করে পাকিস্তানি বাহিনী। লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলগাছের নিচে লাল রক্তের ছাপ রেখে তখনই শহীদ হন লাল মোহাম্মদ, আনসার আলি, সাজ্জাদ আলি ও জহির উদ্দিন। দায়িত্বরত ইন-চার্জ অফিসার শেখ হেদায়েত উল্লাহ আহত হয়ে একইদিনে হাসপাতালে মারা যান। পাঁচজন সিপাহীর একজন সিপাহী ছিলেন আব্দুল জলিল। তিনিও আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু তিনি পরে নিখোঁজ হন। জেলা ইন-চার্জসহ চারজন শহীদ আজও কুড়িগ্রামের ইতিহাসে উজ্জ্বল। তাঁরা কুড়িগ্রাম জেলার প্রথম শহীদ। তাঁদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে 'শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক'।
ছবি : সংগৃহীত
চারজনের নামের ফলক আর তাদের সমাধি যেন এখনও জানান দেয় যে তাঁরা আমাদের স্মৃতিতে আজও বেঁচে আছেন। একসময় অবহেলায়, অযত্নে পড়ে থাকলেও এখন অবস্থা বদলেছে। লাল রঙের দুইটি স্তম্ভ দাঁড়িয়ে রয়েছে। উপরে বড় বড় করে লেখা 'শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক'। সবার উপরে রয়েছে একটি তেজস্বী সিংহের ভাস্কর্য। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও নির্ভীকতার সাথে এই ভাস্কর্য যেন একদম সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুরো স্মৃতি ফলকের স্থান ইস্পাতের রেলিং দিয়ে ঘেরা এবং সামনে রয়েছে ছোট দরজা। ভেতরে রয়েছে লাল-সবুজ পতাকা। পতাকায় রয়েছে কুড়িগ্রামের সকল শহীদদের নাম। মহান মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাঁদের ত্যাগ কখনও ভোলা সম্ভব নয়। তাই তো স্মৃতি ফলকের সামনে দাঁড়ালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধায় মন ভরে যায়। কুড়িগ্রাম এলে এই স্মৃতি ফলক দেখতে ভুলবেন না। অবশ্যই ঘুরে যাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি জড়িত এই স্থান থেকে।
কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসার জন্য বাসে আসা সবচেয়ে ভালো। বাসে আসতে চাইলে হক চেয়ার কোচ, জবা চেয়ার কোচ, এসবি চেয়ার কোচ, মোল্লা চেয়ার কোচ, হানিফ চেয়ার কোচ ও নাবিন চেয়ারে সরাসরি ঢাকা-কুড়িগ্রামে আসতে পারবেন। এসব বাসে সময় লাগবে সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে আট ঘণ্টা। ট্রেনে আসতে চাইলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে করে সরাসরি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসতে পারবেন। কুড়িগ্রাম থেকে রিকশা, অটো কিংবা ইজিবাইকে করে স্মৃতি ফলক দেখতে যেতে পারবেন।
যেখানে থাকবেন : কুড়িগ্রাম মূল শহরের বিভিন্ন হোটেলে থাকতে পারেন। কুড়িগ্রামের হোটেলগুলোর মধ্যে মেসার্স হোটেল স্মৃতি, মেসার্স হোটেল মেহেদী, মেসার্স হোটেল আরজি, মেসার্স হোটেল অর্ণব প্যালেস, মেসার্স হোটেল নিবেদিকা উল্লেখযোগ্য।
খাবার : কুড়িগ্রাম সদরে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে। যেমন : রব্বানিয়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ, রাঁধুনি হোটেল ও রেস্তোরাঁ, রূপসা হোটেল, নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও ইষ্টি কুটুম উল্লেখযোগ্য।
তথ্যসূত্র : http://www.kurigram.gov.bd/site/page/6ecd650d-18fd-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8 https://bangla.tourtoday.com.bd/%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A6-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF/