চিত্তাকর্ষক গোল্ডেন ব্রিজ : ভিয়েতনাম
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : গোল্ডেন ব্রিজ

এই ডানাং এ গোল্ডেন ব্রিজ অবস্থিত। ডানাং এর 'বা না হিলস'-এর ওপরে তৈরি করা হয়েছে এই অভিনব সেতু। নাম গোল্ডেন ব্রিজ হলেও সেতুটি সোনার নয়। তবে সোনালী রঙের ছড়াছড়ি পুরো সেতুতে। তাই নাম দেয়া হয়েছে গোল্ডেন ব্রিজ। তবে, এই সেতুটির বিশেষত্ব হলো এর 'হ্যান্ডস অফ গড' বা 'ঈশ্বরের হাত'। পাহাড়ি এই শহরে গাছপালা আর পাথুরে ‘বা না হিলস’ ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে এই 'ঈশ্বরের হাত'। দুই হাত তুলে ধরেছে ধনুকের মতো বাঁকানো সোনালি রঙের এই সেতু। অনন্য এই স্থাপত্যশৈলী এই সেতুটিকে করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক নিদর্শন।
সেতু নির্মাণ
প্রথমে ১৯১৯ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিকরা হিল স্টেশন হিসেবে পাহাড়ের উপরে ১৫০ মিটার লম্বা উচ্চতায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে এই সেতুটি তৈরি করে। স্থানীয় ভাষায় ব্রিজের নাম 'কাউ ভাং', যার অর্থ সোনার সেতু। সে সময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল ভিয়েতনাম। বর্তমানে সেই পুরনো সময়ের উপনিবেশিক রূপটিই যেন নতুন করে নিয়ে আসা হয়েছে এ এলাকায়। ১৯১৯ সালে নির্মাণ করা হলেও এই সেতুটিকে পরবর্তীতে নতুনভাবে সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে কয়েক বছর আগে। ৪৯০ ফুট উঁচু এই সেতুটি খুলে দেয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে পড়ে। যার ফলে অসংখ্য পর্যটকদের আগমন ঘটতে থাকে এখানে। চমৎকার এই স্থাপত্যটি সামাজিক মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত সেতু হিসেবে পরিচিত।ডানাং
পাহাড়ি রাস্তার মতো এই সেতুটি এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে পাহাড়ের ওপর দিয়ে। মাঝে পাথরের হাত দুটি যেন সেতুটিকে উপরে তুলে ধরে রয়েছে। এর মাঝে হেঁটে বেড়ায় দর্শনার্থীরা। এই ব্রিজ থেকে ডানাং শহরটি খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়। চারপাশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। তাক লাগানো এই সেতুটি আপনার স্থাপত্য ধারণায় নতুনত্ব যোগ করবে। কোনো গাড়ি চলাচল করে না সেতুটিতে। কেবল কার স্টেশনে ওঠার জন্য দারুণ সুন্দর এই সেতুটি ব্যবহার করা হয়। এই গোটা ডানাং অঞ্চলটি সেই উপনিবেশের রেপ্লিকা হিসেবেই গড়ে তোলা হয়েছে। ফরাসি স্টাইলের দুর্গ, ক্যাথিড্রাল, বাগান সবটা মিলে চমৎকার একটি অঞ্চল এটি। এখানে লেডি গাগা এবং মাইকেল জর্ডানের মূর্তি সমন্বিত মোম জাদুঘরও রয়েছে । সম মিলিয়ে দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে এখানে। পর্যটকদের কাছে মূল আকর্ষণ এই গোল্ডেন ব্রিজ হলেও বাকি এই আকর্ষণীয় স্পটগুলো দেখতে ভুলবেন না।রুবাইদা আক্তার এস এম
