চেরি উৎসব-এর জন্য জাপানের সেরা পাঁচটি জায়গা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : চেরি উৎসব ঃ ট্রাভেল বাংলা ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ বোধহয় পাওয়া যাবে না
প্রকৃতির দিকে তাকালে আমরা যেমন বুঝতে পারি বসন্ত এসে গেছে তেমনই জাপানে বসন্তের দূত বলা হয় চেরি ব্লজম বা চেরি ফুলকে। জাপানের জাতীয় ফুল হলো সাকুরা বা চেরিফুল। জাপানের প্রায় সর্বত্র চেরিফুল দেখা যায়। চেরিফুলের এই সময়টিতে জাপান সরকার ছুটির ব্যবস্থা করে থাকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বাগানগুলোতে পরিবার, বন্ধু- বান্ধব মিলে সবাই ভিড় করতে থাকে চেরিফুল দেখতে। চেরিফুলের নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগের জন্য আকর্ষণীয় পাঁচটি জায়গা নিয়ে আজ বলা হবে।

শিনজুকু গায়েন ( Shinjuku Gyoen) :
জাপানের জাতীয় বাগান হলো শিনজুকু গায়েন যা শিনজুকু এলাকায় অবস্থিত। হানামি ( চেরি ফুলের উৎসব) দেখার জন্য এটি টোকিওর সেরা জায়গাগুলোর মাঝে অন্যতম। আটান্ন দশমিক তিন হেক্টর প্রশস্থ এই বাগানটিতে প্রায় ১০০০ এর মত চেরি ফুলের গাছ রয়েছে। চেরিফুল সাধারণত দুই সপ্তাহের মত স্থায়ী হয়। তাই আপনি যদি মূল সময়টিতে চেরি ফুল দেখতে না পান, তবে চলে আসুন শিনজুকু বাগানে। এখানে মূল সময়ের চেয়েও কিছুটা বাড়তি সময় চেরিফুল দেখতে পাবেন। শহরের প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও শিনজুকু বাগানে একধরণের প্রশান্তির বাতাস বইতে থাকে। চেরি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসময় অসংখ্য পর্যটক এখানে ভিড় করতে থাকে। বাগানে যেকোনধরণের মদ্যপান নিষিদ্ধ, দর্শনার্থীরা সাধারণত পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সাথে এসময় পিকনিক বা হেটে শিনজুকুর চেরির সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে।যেভাবে যাবেন :
টোকিও শহরের প্রাণকেন্দ্রেই অবস্থিত শিনজুকু গায়েন। জে আর শিনজুকু স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাটাঁ পথ হলো শিনজুকু গায়েন। যেহেতু চেরি উৎসব উপভোগের জন্য এটি একটি বিখ্যাত স্থান তাই এর আশেপাশে গড়ে উঠেছে রেস্টুরেন্ট, শপিংমল ও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র।
মেগুরো নদী (Meguro River) :
নদীর তীরে চেরির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে মেগুরো নদী হলো অন্যতম। মেগুরো নদীটি টোকিওর কাছে শিবুয়ার একটি অঞ্চল নাকামেগুরো তে অবস্থিত। নদীর দুই তীর ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে প্রায় ৮০০টি চেরিফুলের গাছ। একদিকে নদীর নির্মল পানি আর অন্যদিকে চেরির নজরকাড়া সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। চেরিফুল ফোটার মূল সময়টিতে নদীর তীরে চেরিফুল উৎসবের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া নদীর পাশেই বেশকিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে যার ছাদে বসে আপনি চেরিফুলের মনকাড়া দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। চেরিফুলগুলো যখন সম্পূর্ণভাবে ফোটে, চেরির গোলাপী পাপড়িগুলো তখন বাতাসের সাথে উড়তে থাকে এবং নদীর জলের সাথে ভাসতে থাকে যা এক স্বর্গীয় পরিবেশের জন্ম দেয়। এমন মোহনীয় দৃশ্য দেখতে মেগুরা নদীর তীরে চেরিফুলের সময় দেশবিদেশের পর্যটক ভীড় করে থাকে।যেভাবে যাবেন :
নাকেমেগুরো স্টেশন থেকে কিছুটা হেটেঁই পৌছে যাওয়া যায় মেগুরা নদীর তীরে।
চিদরিগাফুচি (Chidorigafuchi) :
শুধুমাত্র টোকিও নয় জাপানের মধ্যে চেরিফুল দেখার একটি অন্যতম আরেক জায়গা হলো চিদরিগাফুচি। জাপানের সবচেয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত চেরিফুলের জন্য এটি আকর্ষণীয় জায়গা। আগে এটি এডো প্রাসাদের জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি ইম্পেরিয়াল প্রাসাদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। জায়গাটির ৭০০ মিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ২০০ টি চেরিফুলের গাছ রয়েছে। চেরি দেখতে এখানে প্রায় ১ লাখ লোকের সমাগম হয়। চিদরিগাফুচিতে চেরির দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় নৌকার মাধ্যমে। দর্শনার্থীরা নৌকা ভাড়া করে জলপথে চেরিফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে। বাতাসের সাথে চেরির পাপড়ি যখন নদীর পানিতে পড়ে তখন তা অসম্ভব সুন্দর পরিবেশের জন্ম দেয়। চেরিফুল ফোটাকে কেন্দ্র করে এখানে উৎসবের আয়োজন করা হয় যা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে থাকে।ভ্রমণের সেরা সময় :
মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম পর্যন্ত চেরিফুলের সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাওয়া যাবে।রিকুগিয়েন বাগান (Rikugien Garden) :
জাপানের ঐতিহ্যবাহী বাগান হলো রিকুগিয়েন বাগান। এটি টোকিওর বানকিয়ো এলাকায় অবস্থিত। জাপানের সবচেয়ে সুন্দর বাগানগুলোর মাঝে একটি হলো রিকুগিয়েন বাগানটি। এর নজরকাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্য ও পুকুরের স্বচ্ছ জল বাগানটিতে জাপানের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলে।
যেভাবে যাবেন :
কোমাগোমে স্টেশন থেকে ৭ মিনিটের হাটাঁ পথে যাওয়া যাবে রিকুগিয়েন বাগানে।টোকিও মিডটাউন (Tokyo Midtown) :
টোকিওতে অবস্থিত টোকিও মিডটাউন হলো মূলত একটি বহুতলবিশিষ্ট ভবন। ভবটিতে রয়েছে শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও আবাসনের জায়গা। ভবনটিকে কেন্দ্র করে রাস্তার দুইপাশ জুড়ে রয়েছে প্রায় দেড়শটির মত চেরিগাছ। তাই চেরিফুলের মৌসুমে বহুতল বিশিষ্ট এই ভবন থেকে কেনাকাটা বা আড্ডা দেয়ার সাথে সাথে চেরির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
যাওয়ার মূল সময় :
মার্চের শেষের থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।আরো পড়ুন ঃ শিবাজাকুরা : স্বর্গের সৌন্দর্য যখন পৃথিবীতে
ইন্দিরা বিশ্বাস
এস এম