ধরলা সেতু : দেশের উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করায় পর্যটকদের সমাগম দেখা যায় এখানে
উদ্বোধনের সময় নতুন সাজে সজ্জিত ধরলা সেতু। ছবি : সমকাল
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর সাথে এদেশের মানুষের সখ্যতা অনেক পুরনো। নদীর ঢেউ, নদীর তীরে বাঁধা সারি সারি নৌকা, ঠান্ডা বাতাসের দোলা কিংবা নদীর চরে কাশফুলের মেলা-বাঙ্গালি মনের সাথে নদীর বন্ধন চিরদিনের। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী 'ধরলা'। কারণ, এই নদী ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের মাঝে বহমান। হিমালয়ে এই নদীর জন্ম হলেও জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার হয়ে এই নদী লালমনিরহাট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ধরলা নদীর প্রবেশপথ কিছুটা আলাদা। বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এই নদী ভারতের পূর্বে ঢুকে আবার বাঁক নিয়ে কুড়িগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তের মধ্যবর্তী এই নদী 'ধরলা' নামে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিশে আজও প্রবহমান। বাংলাদেশে ধরলা নদীর প্রবহমান অংশের দৈর্ঘ্য ৭৫ কিলোমিটার। কুড়িগ্রাম জেলায় এই নদীর গভীরতা ৩৯ ফুট। ধরলা নদীর উপরে নির্মিত প্রথম সেতুর দৈর্ঘ্য ছিল ৬৪৮ মিটার। পরবর্তীতে কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি রক্ষা এবং কুড়িগ্রামের সাথে লালমনিরহাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্যে ধরলা নদীর উপরে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করা হয়।
ধরলা সেতুর রাতের সৌন্দর্য । ছবি : সংগৃহীত[/caption]
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় ধরলা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতু ফুলবাড়ি, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষকে সহজে রংপুর যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা করে দেয়।
২০১৮ সালের ৩রা জুন উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বড় সেতু উদ্বোধন করা হয়। এই সেতুর নাম দেয়া হয় 'শেখ হাসিনা ধরলা সেতু'। তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুর উদ্বোধন করেন। এই সেতুর জন্য কুড়িগ্রামের মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকগুলো বছর।
২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পর ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে এই সেতুর ভিত্তি স্থাপন করা হয়। পুরো সেতুটি মোট ১৩ হাজার ৮৫৬ একর জমির ওপর অবস্থিত। ফুলবাড়ি অংশে জমির পরিমাণ বেশি, প্রায় ১০ হাজার ৫৬৮ একর। লালমনিরহাট অংশে জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৮৮ একর।
পুরো সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯৫০ মিটার। এটি একটি ডাবল লেন সেতু। সেতুটি ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া। সেতুর দুইপাশে রয়েছে ১ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট রাস্তা যেন লোকজনের যাতায়াতে সুবিধা হয়। উনিশ স্প্যানবিশিষ্ট পুরো সেতুটি পিসি গার্ডার দিয়ে তৈরি।
প্রত্যেকটি স্প্যান ৫০ মিটার লম্বা। এছাড়া রয়েছে আঠারোটি পিয়ার এবং ২৪০টি পাইল। সেতুটিতে নৌকা চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে ৭ দশমিক ৬২ মিটার জায়গা। ফুলবাড়ি উপজেলার এই সেতুটি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের প্রায় ২ হাজার ৯১৯ মিটার রাস্তাকে সংযুক্ত করেছে।
কুড়িগ্রামের মানুষের আশার এই সেতু তৈরিতে খরচের পরিমাণ ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ২০১২ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে। স্থানীয় মানুষজন প্রতিদিন এখানে ভিড় করেন। বিকেলবেলা ভিড় বেশি থাকে। ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে সেতুর নিচে নদীর স্রোত দেখতে দেখতে সময় কাটান এখানে আসা মানুষজন। এছাড়া পর্যটকদের সংখ্যাও কম নয়।
[caption id="attachment_29466" align="alignnone" width="889"]
ছবি : নিউজ ইনসাইড
অনেকে ধরলা নদীর বুকে পালতোলা নৌকায় ঘুরে বেড়ান। এখানে ঘুরতে আসা মানুষের কথা বিবেচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে একটি পার্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্কটি নদীর পাড়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। পার্কে গাছপালার পাশাপাশি রয়েছে বসার জায়গা। এখান থেকে বসে নদী ও সেতু দেখা যায়। আর নদীর পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল বড় মাঠ। দিনের ধরলা সেতুর সাথে রাতের ধরলা সেতুর যেন বিস্তর পার্থক্য। রাতে সেতুর চারিদিকের বাতিগুলো যখন একসাথে জ্বলে ওঠে, তখন যেন সেতুর রূপই বদলে যায়। আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে সেতু ও নদীর চারদিকের পরিবেশ।
কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসার জন্য বাসে আসা সবচেয়ে ভালো। বাসে আসতে চাইলে হক চেয়ার কোচ, জবা চেয়ার কোচ, এসবি চেয়ার কোচ, মোল্লা চেয়ার কোচ, হানিফ চেয়ার কোচ ও নাবিন চেয়ারে সরাসরি ঢাকা-কুড়িগ্রামে আসতে পারবেন। এসব বাসে সময় লাগবে সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে আট ঘণ্টা। ট্রেনে আসতে চাইলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে করে সরাসরি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসতে পারবেন। কুড়িগ্রামে নামার পর অটো, ইজিবাইক কিংবা রিকশায় করে ধরলা সেতু দেখতে যাওয়া যায়।
যেখানে থাকবেন : কুড়িগ্রাম মূল শহরের বিভিন্ন হোটেলে থাকতে পারেন। কুড়িগ্রামের হোটেলগুলোর মধ্যে মেসার্স হোটেল স্মৃতি, মেসার্স হোটেল মেহেদী, মেসার্স হোটেল আরজি, মেসার্স হোটেল অর্ণব প্যালেস, মেসার্স হোটেল নিবেদিকা উল্লেখযোগ্য।
খাবার : কুড়িগ্রাম সদরে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে। যেমন : রব্বানিয়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ, রাঁধুনি হোটেল ও রেস্তোরাঁ, রূপসা হোটেল, নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও ইষ্টি কুটুম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ধরলা সেতুর কাছাকাছি বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান রয়েছে। যেমন : সাজু চা বিস্কুটের দোকান, শহীদুলের চায়ের দোকান ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র : https://samakal.com/bangladesh/article/1806127/%EF%BB%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80 https://www.dailyjanakantha.com/details/article/350854/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81-%E0%A6%86%E0%A6%9C-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80/