বিমান চলাচলে আবারও নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ৩০ মে পর্যন্ত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বিমান চলাচলে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা





হংসবালা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ছবি : সংগৃহীত


 করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের সব ধরনের যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের (শিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট) ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা ৩০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ নিয়ে ষষ্ঠ দফা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করল বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে, চীনের ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। সরকার মহামারীর কারণে ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক, নৌ ও আকাশ পথে চলাচলে বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার বেবিচকের এই সিদ্ধান্ত আসে। এ সময়ের মধ্যে যাদের টিকিট বুকিং ছিল তারা সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্ট কিংবা সরাসরি বিমানের অফিস থেকে কিনে থাকলে সেখানে যোগাযোগ করে রিফান্ডের টাকা ফেরত নিতে কিংবা যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিমানের ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে সর্বশেষ ১৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।গতকাল বৃহস্পতিবার পুনরায় সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিধি-নিষেধের মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল কামরুজ্জামান এর বরাত দিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউএই, ইউকে -এর সাথে বিদ্যমান বিমান চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সোহেল কামরুজ্জামান। এতে আরও বলা হয়, তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র শিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে।

বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে চার্টার ফ্লাইট এর আওতামুক্ত থাকবে। তবে কার্গো, ত্রাণ-সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। বেবিচক সূত্রে জানা যায়, 'করোনার প্রাদুর্ভাব কমাতে সরকার ইতোমধ্যে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। তাই সামাজিক দূরত্ব ও সবার সর্বাত্মক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরাও ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করেছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে তাদের সকল নিয়মিত ফ্লাইট ৩০মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।তবে চীনের ফ্লাইট, বিশেষ ফ্লাইট এবং কার্গো ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

' উল্লেখ্য, এর আগে করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ছাড়া সব দেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী সব বিমান সংস্থার ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় বেবিচক। এরপর আরেকটি আদেশে এই সময়সীমা আরও সাতদিন বাড়িয়ে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা ১৪ তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়। পরের ধাপে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছিল। এরপর ৭ মে ও ১৫ মে পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখার পর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্ধিত করা হয়েছে ৩০ মে পর্যন্ত।    

এস এম ইফতেখার মাছুম   এস এম