বাইশরশি জমিদার বাড়ি : ফরিদপুর
জমিদার প্রথার ইতিহাসে বাইশরশি জমিদাররা অন্যতম জমিদার

ইতিহাস
১৭ শ শতাব্দীর দিকে লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার ব্যবসা বাণিজ্যে লাভবান হতে থাকেন। এক সময় তারা বিপুল অর্থ – সম্পত্তির মালিক হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তারা কয়েকটি পরগণা কিনে জমিদারী শুরু করেন। ১৮শ শতক থেকে হিন্দুস্থান ও পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা ২২টি জমিদারী এস্টেটের মালিক হন। বাইশরশি জমিদার বাড়ি ছিলও ফরিদপুরে এই জমিদারীর অন্যতম একটি নিদর্শন। পটুয়াখালী জেলার বাউফলে অবস্থিত মহেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়িটিও বাইশরশি জমিদার বংশের একটি জমিদারী এস্টেট। এখানে প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বাইশরশি জমিদার বাড়িটি তৈরি করা হয়। এই সময় এখানকার জমিদার ছিলেন জমিদার রায় বাহাদুর মহেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী। সুবিশাল বাগানবাড়ী, দ্বিতল বিশিষ্ট ১৪ টি ছোট বড় অট্টালিকা এবং দিঘী সমেত এই জমিদার বাড়িটি জমিদারী ঐতিহ্য নিয়ে টিকে ছিলও। এখানকার দিঘীতে আছে ৫টি শান বাঁধানো পুকুর ও পূজামণ্ডপ।বর্তমানে জমিদার বাড়িটি অনেকাংশে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও এর কিছুটা অংশ টিকে আছে এখনো। ১৯৪৭ সালের পর জমিদার বংশের অন্যান্য সদস্যরা কলকাতা চলে গেলেও থেকে যান জমিদার রায় বাহাদুর মহেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর সন্তানেরা। জমিদার প্রথা বাতিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ১৯৬২ সালের পূর্বে কলকাতা থেকেই তারা জমিদারীর দেখাশুনা করতো। সুকুমার রায় বাহাদুর ও তার ৩ ভাইয়ের মধ্যে ভূপতি রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায় চৌধুরী ছিলেন চিরকুমার। গৌর গোপাল রায় ছিলেন নিঃসন্তান এবং বড় ভাই অবিনাশ রায় চৌধুরী ছিলেন এক সন্তানের জনক। তার একমাত্র পুত্র অমরেশ রায় চৌধুরী, যিনি বর্তমানে উপমহাদেশের একজন নামকরা সংগীত শিল্পী। ১৯৭১ সালের পূর্বেই সুকুমার রায়ের তিন ভাই মারা যান এবং স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অমরেশ রায় মা রাজলক্ষ্মী রায় চৌধুরীকে নিয়ে রাজশাহীতে পালিয়ে যান। বাইশরশিতে থেকে যান কেবল সুকুমার রায় চৌধুরী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নানান দুঃখ কষ্টে তিনি আত্মহত্যা করেন।
স্বাধীনটার পর
পরবর্তীতে যদিও অমরেশ রায় চৌধুরী ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে আসার চেষ্টা করেন তবে নিরাপত্তা-জনিত কারণে তিনি আর এখানে আসতে পারেন নি। এখানে ফেরার জন্য এবং নিজ সম্পত্তি উদ্ধারে তিনি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদনও করেন। এরপর এই বিশাল বাড়িটির আর কোন অভিভাবক না থাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবেই এটি গণ্য হয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর জমিদার বাড়িটির অবস্থান। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির অভাবে এর অনেক জমি ভূমি দস্যুরা দখল করে নিয়েছে। পরিত্যক্ত ও অব্যবস্থাপনায় থাকা এই জমিদার বাড়িটি এক সময় স্থানীয় ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। টিকে থাকা কিছু অংশে এই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের মতে সরকারের সঠিক তত্ত্বাবধানে ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। আকর্ষণ করতে বিপুল পর্যটককেও।এস এম