ইন্দোনেশিয়ায় ভালোবাসা দিবস বিরোধী র্যালি। ছবি : সংগৃহীত১৪ই ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাসা দিবস উদযাপন বেশ জনপ্রিয় হলেও দেশভেদে এর ভিন্নতাও দেখা যায়। ইসলামিক রীতিনীতির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিভিন্ন দেশে প্রকাশ্যে ভালোবাসা দিবস পালনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। বিভিন্ন দেশের আলেমদের মতে, ভালোবাসা দিবস সময় ও অর্থের অপচয় ঘটিয়ে মানুষকে অনৈতিক সম্পর্কে উৎসাহ দিয়ে থাকে যা ইসলামে একেবারেই কাম্য নয়।
এছাড়া তাদের মতে দিনটির উৎস কোনভাবেই ইসলামিক চিন্তা-চেতনার সাথে খাপ খায় না তাই কাতারসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের আলেমরা অনেক আগে থেকেই এই দিনটি পালনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এর বাইরেও ১৭৭৬ সালে ফ্রান্সে ভালোবাসা দিবসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
বর্তমানে বেশ আয়োজনের সাথে পালিত হলেও ইংল্যান্ডে পিউরিটানরা ক্ষমতায় থাকাকালীন ভালোবাসা দিবস পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
মুসলিম দেশ হিসেবে ইরান ২০০৮ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভালোবাসা দিবসকে। এর আগে দেশটিতে ৩০ বছরের নিচে তরুণ প্রজন্মের নিকট দিবসটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। কর্তৃপক্ষ এই দিনটিকে 'পশ্চিমা বিশ্বে অধ:পতিত সংস্কৃতি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই দিনভিত্তিক যেকোনো কার্যকলাপ থেকে দেশবাসীকে দূরে রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
মূলত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব থেকে নিজ দেশীয় মুসলিমদের মুক্ত রাখতেই ইরানে নিষিদ্ধ করা হয় ভালোবাসা দিবস পালন। এর ধারাবাহিকতায় ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কার্ড ছাপানো, উপহার সামগ্রীর আদানপ্রদানও একপ্রকার অবাঞ্ছিত এখানে।
২০০৮ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রকাশ্যে ভালোবাসা দিবস সংক্রান্ত প্রচারও দেখা যায় না।
শুধু ইরান নয় ২০০৯ সালে সৌদি আরবেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয় ভালোবাসা দিবস পালন সংক্রান্ত বিষয়াদি। তাদের মতে ভালোবাসা দিবস পালন বিভিন্নভাবে নারীদের সম্মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে সৌদি আরবে রেস্টুরেন্টে নারী পুরুষের জন্যেও রয়েছে আলাদা বসার স্থান তাই স্বভাবতই ভালোবাসা দিবসের প্রচারণা সেখানে মূল্যবোধ অবক্ষয় হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে।
বিভিন্ন দেশে ইসলামের পরিপন্থী না হওয়ায় দিনটি পালন নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ছবি : সংগৃহীতরাশিয়ার বেলগ্রেডেও ২০১১ সালে ১৪ই ফেব্রুয়ারি পালনে নিষেধ আরোপ করা হয় এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত সকল উদযাপন বাতিল করা হয়। প্রায় ৬০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ মালয়েশিয়াতে ২০১২ সালে ভালোবাসা দিবসে অনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কিছু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে দেশটিতে এর দিনটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
রক্ষণশীল আলেমরা অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানে ভালোবাসা দিবসের বিরোধিতা করে আসছিলেন। পরে ২০১৭ সালে পাকিস্তানে ভালোবাসা দিবস পালন এবং এর সাথে সম্পর্কযুক্ত সকল কিছু নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরিবর্তে তারা দিনটিকে ‘'সিস্টার্ড ডে' হিসেবে পালন করে এবং এই দিনে নারীদেরকে স্কার্ফ উপহার দেয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই দিবস জনসাধারণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হলেও ফ্লোরিডাতে ভালোবাসা দিবস পালন করাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীরা ২০১৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালনের বিরুদ্ধে র্যালি আয়োজন করে। ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণশীলদের ধারণা ভালোবাসা দিবস এলকোহল পানে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করে। মুসলিম অধ্যুষিত হলেও একমাত্র আচেহ প্রদেশেই এই দিনটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও একটি রাজনৈতিক অংশ এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি এবং জার্মানিতে স্বয়ং জনগণ এবং সরকারিভাবেও এই দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।