ঐতিহ্যবাহী শকুনি লেক : মাদারীপুর
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শকুনি লেক
প্রাচীনকাল হতেই মাদারীপুরের এই জনপদটি ব্যবসা বাণিজ্য এবং বাংলা সভ্যতার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ছিল। মাদারীপুরের পূর্বাংশ তখন ইদিলপুর এবং পশ্চিম অংশ কোটালিপাড়া নামে পরিচিত ছিল। ইদিলপুর ছিলও চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের উন্নত জনপদের একটি এবং কোটালিপাড়া ছিল বাংলার সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র। চতুর্থ শতকে এসে এই দুই অংশই ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। কালের পরিক্রমায় রাজ শাসন ফেরিয়ে ব্রিটিশ আমলে এসে ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর প্রশাসনিক স্বীকৃত লাভ করে এবং স্বাধীনতার পর ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য মণ্ডিত মাদারীপুর বাংলাদেশের দক্ষিণ দ্বার হিসেবে পরিচিত।
পদ্মা, আড়িয়ালখাঁ, কুমার নদী বিধৌত মাদারীপুরে রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থান। এসব স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো মাদারীপুরের শকুনি দিঘী। এছাড়াও এখানে আছে আউলিয়াপুর নীলকুঠি, সেনাপতির দিঘি, হাজরাপুর দরবার শরীফ, প্রণবানন্দের মন্দির, মঠের বাজার মঠ,রাজারাম মন্দির, ঝাউদি গিড়ি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি, শাহ মাদার (র:) দরগাহ শরীফ, কুলপদ্দি জমিদার বাড়ি সহ বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান।
শকুনি লেক
মাদারীপুর সদরের অন্যতম আকর্ষণের স্থান হল শকুনি লেক। লেকের নীল পানি এবং আশপাশে প্রাণবন্ত পরিবেশ সকলে মুগ্ধ করে। অবসর কাটাতে যেকোনো বয়সী মানুষেরই এখানে আগমন ঘটে এবং ছুটির দিন গুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শকুনি লেক নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়ভাবে এটি মাদারীপুর লেক নামেই পরিচিত।মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই দিঘীটি মানবসৃষ্ট একটি দিঘী। দিঘীটির আয়তন ১ লাখ ১ হাজার ১৭২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ৪৮৬ মিটার ও প্রস্থ ১৯৮ মিটার। জানা যায়, ১৯৪৩ সালে মাদারীপুর শহরকে উত্তাল নদী আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় থেকে সরিয়ে আরও দক্ষিণে এনে স্থাপনের জন্য এই দিঘীটি খনন করা হয়।পদ্মা এবং আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন রক্ষায় দিঘীটি খনন করে এর চারপাশে নতুন করে শহর স্থাপন করা হয়। বিশাল এই দিঘীটি খনন করার জন্য তৎকালীন প্রশাসন বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক ভাড়া করে আনে। ৯ মাস সময় লাগে দিঘীটির খননকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে। তবে, পরবর্তীতে স্থানীয়দের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করতে ২০১৩ সালে দিঘীটিকে সাজিয়ে এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এটিকে নান্দনিক লেকের চিত্র দেয়া হয়। তখন ২২ কোটি টাকা খরচ করা হয় এর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে। লেকটিকে ঘিরে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম ঝর্ণা, কফি শপ, রেস্টুরেন্ট এবং ছাউনি। এছাড়াও এই সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পে আছে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশু পার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এমপি থিয়েটার মঞ্চ। যা লেকটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে। প্রায় ২০ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা এই লেকে স্থানীয়দের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে এখানে মানুষের আগমন শুরু হয়। সব বয়সী মানুষের ভিড়ই হয় এখানে।
যেভাবে যাবেন : দিঘীটি শহরের কেন্দ্রেই অবস্থিত। মাদারীপুর শহর থেকে রিকশা অথবা যেকোনো মোটরচালিত বাহনে করে এখানে আসতে পারেন।
আরো পড়ুন ঃ বিশ্বের সেরা ব্যয়বহুল ও সস্তা শহর : কেন এবং কারা আছে এই তালিকায়?
সাখাওয়াত হোসেন এস এম
