সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হতে পারে, সচল হতে পারে আন্তর্জাতিক রুটও

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থা চলাচলের অনুমোদন পেতে পারে





বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। ছবি : সংগৃহীত


বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের ৮ তারিখ (৮ মে ) থেকে দেশের আকাশপথে ফ্লাইট সীমিত পরিসরে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। তবে, সবকিছু নির্ভর করছে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির ওপর। পরিস্থিতি উন্নতি হলেই ও বেবিচকের অনুমোদন পেলে শিগগিরই টিকিট বিক্রি শুরু হবে। শনিবার (২ মে) বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান এর বরাতে জানা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৮ মে থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সব এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জানা গেছে করোনাভাইরাসের কারণে কীভাবে ফ্লাইটগুলো চলবে? এ ব্যাপারে বেবিচকের কাছে একটি পরিকল্পনাও দিয়েছে এওএবি। এ নিয়ে ২৯ এপ্রিল তাদের মধ্যে বৈঠকও হয়। বৈঠক পরবর্তীতে এয়ারলাইন্স গুলো ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। প্

রসঙ্গত, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়াও তিনটি বেসরকারি বিমান সংস্থা—ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। অভ্যন্তরীণ আকাশপথে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে এই চারটি বিমান সংস্থার অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতিদিন ১৪০টির মতো ফ্লাইট চলাচল করত। এসব ফ্লাইটে প্রায় ১২ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করতেন। সব ফ্লাইটই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল রুটে চলাচল করে। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের আটটি রুটে প্রতিদিন ৪০টির মতো ফ্লাইট চালু থাকতে পারে। প্রতি ঘণ্টায় তিনটির বেশি ফ্লাইট ছেড়ে যেতে পারবে না। বিমানবন্দরের রানওয়েতেও উড়োজাহাজগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করবে। সর্বোচ্চ ৫০ জন বা ৭৫ শতাংশ যাত্রী প্রতিটি ফ্লাইটে থাকবে। তিনটি ফ্লাইটের বেশি যাত্রী একসঙ্গে বিমানবন্দরে টার্মিনালে থাকতে পারবেন না। টার্মিনালের ভেতরেও সামাজিক দূরত্বে যাত্রীরা থাকবেন।

প্রতিটি বিমান সংস্থার যাত্রীদের জন্য আলাদা জায়গা চিহ্নিত করা থাকবে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের মাস্ক ও গ্লাভস বদলে এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে নতুন গ্লাভস দেয়া হবে। এগুলো পরেই তাদের ফ্লাইটে যেতে হবে। উড়োজাহাজের ভেতরেও সামাজিক দূরত্বে আসনে বসতে হবে। যাত্রীদের পাশাপাশি উড়োজাহাজগুলোকেও জীবাণুমুক্ত করে প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। এদিকে করোনাভাইরাস মহামারির পরিপেক্ষিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল। এই পর্যায়ে  আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে দেশের দুটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে অনুমতি দেয়া হতে পারে বলে বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়। তবে, এই মুহুর্তে বিমান সংস্থা দুটির নাম বলতে রাজি হননি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) কাছে আবেদনের পরিপেক্ষিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন,সিএএবি যদি নির্দেশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে পারে এবং এয়ারলাইন্সকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারে তবে তারা ফ্লাইট পরিচালনা অনুমতি পেতে পারে।

এক্ষেত্রে সবোর্চ্চ দুটি এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। করোনা ভাইরাস মহামারির পরিপেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে সোমবার (০৪ মে) সকাল ১০ টায় গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের আটটি জেলার জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী সিএএবি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসবেন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সিএএবির চেয়ারম্যান বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করব। পরিস্থিতি যদি আমাদের অনুকূলে থাকে তবে আমরা দুটি বিমানসংস্থাকে অনুমতি দিতে পারি।' উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ রাত ১২টা থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথমে ১০টি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ করে বাংলাদেশ। পরে আন্তর্জাতিক সব বিমান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটেও সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।  

এস এম ইফতেখার মাসুম   এস এম