ক্রুকেড ফরেস্ট : পোল্যান্ডের রহস্যময় পাইন বন

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পোল্যান্ডের ক্রুকেড ফরেস্ট, যে বনের সকল গাছই বাঁকা





এই বনের প্রতিটি গাছ মাটির সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণে মুখ করে বাঁকা হয়ে লম্বা হয়ে উপরের দিকে উঠেছে বলে বনটির নাম ক্রুকেড ফরেস্ট। ছবি : পোল্যান্ড রিভ্যাল্ড ডট কম


 মানব সভ্যতার সাথে বন-অরণ্যের সম্পর্ক অত্যন্ত আদিম। সভ্যতার বিকাশের সাথে অরণ্যের সংখ্যা কমলেও মানুষের সাথে এর সম্পর্কের ঘাটতি হয়নি তেমন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত নানা অরণ্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সব সময়ই থাকে। নানান দেশে অনেক গভীর অরণ্য আছে যার সাথে জড়িয়ে আছে রহস্য। এসকল রহস্য মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। তেমনি এক রহস্যময় বন হল পোল্যান্ডের ক্রুকেড ফরেস্ট (Crooked Forest)। পাইন গাছের এই বনে সবগুলো গাছই একইভাবে বাঁকা হয়ে বেড়ে উঠেছে। এই বনকে ঘিরে তাই পর্যটকদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে।

অবস্থান

পোল্যান্ডের পশ্চিমে গ্রিফিনো শহরের কাছে নাউই কেজারানো গ্রামে এই বনটি অবস্থিত। এই বনের সবগুলো গাছ অদ্ভুত রকমের বাঁকা। এই বনের প্রতিটি গাছ মাটির সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোনে উত্তর দিকে মুখ করে বাঁকা হয়ে লম্বা হয়ে উপরের দিকে উঠেছে। আর এই কারণেই এই বনটিকে ক্রুকেড ফরেস্ট নামে ডাকা হয়। এই ক্রুকেড ফরেস্ট পাইন গাছের বন। পাইন গাছ মানেই চমৎকার সুন্দর এক গাছ। তবে এই বনে প্রবেশ করলে পাইন গাছের সৌন্দর্যের দিকে নজর না যেয়ে আপনার চোখ কপালে উঠবে এই গাছগুলোর আজব আকৃতি দেখে।

আরও পড়ুন : পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ : ১১ বছরে পাড়ি দিয়েছিলেন ৬৪টি দেশ



ক্রুকেড ফরেস্ট Crooked Forest

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সামরিক যুদ্ধ ট্যাঙ্কের আঘাতে এই কচি গাছের চারাগুলো এভাবে বেঁকে গিয়ে বেড়ে উঠেছে। ছবি : সংগৃহীত


এই বনে ২২ টি সারিতে ৪০০টির মতো পাইন গাছ আছে। এই গাছগুলোর প্রতিটিই একইভাবে বাঁকানো। মাটির কাছ থেকে কাণ্ড পর্যন্ত এমন বাঁকানো গাছ পৃথিবীতে বিরল। আর তাই এই বনকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। ১৯৩০ সালে এই গাছগুলি লাগানো হয়। কিন্তু কিভাবে এই গাছগুলো এরকম বেঁকে গেল তার সঠিক তথ্য কারো জানা নেই। এ নিয়ে বিভিন্ন ধারনা গড়ে উঠেছে মানুষের মাঝে। কিছু মানুষের ধারণা এই গাছগুলো ভিন গ্রহ থেকে এলিয়েনরা এসে লাগিয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন এই এলাকায় মহাকর্ষীয় শক্তির প্রভাব বেশি। তাই এই গাছগুলো তার প্রভাবে এভাবে বেঁকে উপরের দিকে উঠেছে। কেউ কেউ মনে করেন তুষার ঝড়ের কারণে গাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ভালো আসবাবপত্র তৈরির জন্য কাঠুরেরা গাছগুলোকে এভাবে কেটে বড় করেছিল। আবার অনেকে বলেন, নৌকা বানানোর জন্য গাছগুলোকে এভাবে লাগানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন : বাবু ডাইং বনভূমি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ





শ্যুটিং ছাড়াও সারা বছর পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে বনটি, ক্রুকেড ফরেস্ট, পোল্যান্ড। ছবি : ৩৫ ফটো ডট প্রো


 কেউ কেউ মনে করেন কম্পাস টিম্বার দিয়ে কৃত্রিম কোনও পদ্ধতি অবলম্বন করে যান্ত্রিক উপায়ে এই গাছগুলোকে এইরকম আকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কি পদ্ধতিতে এমনটা করা হয়েছে তা কেউ সঠিক জানে না। তবে সবচেয়ে বেশি যে ধারণাটি শোনা যায় তা হল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই শহর ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধের সময় এই জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সামরিক ট্যাঙ্ক গিয়েছিল। এই যুদ্ধ ট্যাঙ্কের আঘাতে এই কচি গাছের চারাগুলো এভাবে বেঁকে গিয়ে বেড়ে উঠেছে। এই সব ধারনার পেছনে কোনও শক্ত-পোক্ত প্রমাণ নেই। সবই কেবলমাত্র ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। গাছগুলোর এই একইরকম বক্রতার রহস্য উন্মোচনের জন্য উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা চেষ্টা করে আসছেন। যদিও এখন পর্যন্ত তার কোনও সঠিক কারণ খুঁজে পাননি। এই বনে অনেক পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। এছাড়া শুটিং এর জন্যও এই বনে অনেকে আসেন।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম