যশোর বিমানবন্দর : তথ্য ও উপাত্ত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ১৯৬০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে যশোর বিমানবন্দর

যশোর বিমানবন্দর Jessore Airport

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ছিলো যশোর বিমানবন্দর; ছবি : ডেভিড স্টেনলি


যশোর বিমানবন্দর (Jessore Airport) বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর একটি। এটি দেশের সবচেয়ে পুরাতন বিমানবন্দর। যশোর শহরে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করে। এই বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

অবস্থান

এই বিমানবন্দরটি যশোর শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা থেকে এই বিমানবন্দরটির দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার।

ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিমানঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিলে যশোরে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করে। ছয় মাসের মধ্যে এই বিমানঘাঁটিটি নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পর তা চালু করা হয়। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এই বিমান ঘাঁটিটি চালু ছিল। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে ভারত ভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখানে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণ করেন। এরপর ১৯৫৬ সালে যশোরে একটি পূর্নাঙ্গ বিমানবন্দর চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে, এই বিমানবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৬০ সালে তার যাত্রা শুরু করে।

আরও পড়ুন : বরিশাল বিমানবন্দর : তথ্য ও উপাত্ত

কার্যক্রম

এই বিমানবন্দরটি দেশের একমাত্র বিমান প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এটিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি মতিউর রহমান, যশোর এর অংশ হিসাবেও ব্যবহার করছে। এই বিমান বন্দরটির রানওয়ে যেকোনো ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এই বিমানবন্দরটিতে সামরিক বিমানসহ অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনকারী বিমানসমূহ চলাচল করে থাকে। এই বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বিমানের মাত্র দুটি ফ্লাইট নিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে তার বিমান চলাচল শুরু করে। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন মোট নয়টি সরকারি-বেসরকারি যাত্রীবাহী বিমান যাওয়া-আসা করে। এই বিমানবন্দরটিতে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করে।

চলাচলকারী বিমানসমূহ

এই বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্স ঢাকা-যশোর রুটে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বেসরকারি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজও এই বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করত। কিন্তু বর্তমানে এই বিমানসংস্থা তাদের ফ্লাইটটি স্থগিত রেখেছে। এছাড়া এই বিমানবন্দর থেকে ৫-৬টি কার্গো ফ্লাইটও নিয়মিত চলাচল করছে। এই কার্গো বিমানগুলো কক্সবাজার থেকে চিংড়ি মাছের পোনা নিয়ে এই বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট পৌঁছতে মাত্র ৪০ মিনিট সময় লাগে। যেকোনো বিমান অফিস থেকে ঢাকা থেকে যশোরের বিমান টিকিট কাটতে পারবেন। এছাড়া ওয়েবসাইট থেকেও টিকিট কাটা যাবে। এছাড়া ডিসকাউন্ট পেতে চাইলে ট্রাভেল এজেন্সি থেকেও টিকিট কাটতে পারেন।

আরও পড়ুন : জেস গার্ডেন পার্ক : যশোরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র

যা যা আছে এই বিমানবন্দরে

এই বিমানবন্দরটিতে আছে টার্মিনাল ভবন ও সু-প্রশস্থ রানওয়ে। এই বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা রয়েছে। এখানে উন্নত গাড়ি পার্কিং সুবিধা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জ, লাগেজ ট্রলি, ব্যাগেজ স্ক্যানিং, কার্গো সার্ভিস, হুইল চেয়ার, প্রাথমিক চিকিৎসা, নামাজের ঘর, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন সুবিধা, টিভি, ওয়াইফাইসহ আরো নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

নিকটবর্তী হোটেলসমূহ

এই বিমানবন্দরের আশেপাশে বেশকিছু ভালো মানের হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : জাবির হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, ইকবাল মঞ্জিল সার্ভিসড এপার্টমেন্ট, হোটেল সিটি প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ওরিয়ন ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল শামস ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ডিভাইন সেন্টার লিমিটেড, সিটি প্লাজা রুফ রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। যোগাযোগ এয়ারপোর্ট ম্যানেজার, যশোর, বাংলাদেশ ফোন: +880 421 64033, +880 1708167298 Tower: +880 421 65032 ইমেইল: apmjessore@caab.gov.bd

রুবাইদা আক্তার   এস এম


Click Here To See More