রাবাংলা : হিমালয়ের কোলে সবুজে ঘেরা মেঘ পাহাড়ের শহর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মৈনাম পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নির্জনতা প্রেমীদের রাবাংলা


Ravangla রাবাংলা

দক্ষিণ সিকিমের ছোট পাহাড়ি শহর নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য; ছবি : হেড টু হিলস ডট কম


ভারতের স্বর্গরাজ্য সিকিম বলতেই পর্যটকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন গ্যাংটকে। সেখানকার বরফের রাজ্য দেখে বেশিরভাগ পর্যটক চলে যান নাথুলা, পেলিং, লাচুক, ইয়কসাম কিংবা সাঙ্গু লেকে। তবে যারা ভ্রমণে ঝামেলাহীন নির্জন প্রকৃতি পছন্দ করেন তাদের জন্য সিকিমে সবচেয়ে দারুণ লোকেশন হল রাবাংলা (Ravangla)। সবুজে ঢাকা পাহাড়ি এই শহরে দু’চোখ ভরে প্রকৃতির সুধা পান করতে পারবেন। ছোট্ট এই শহরটি কম খরচে ছুটি কাটানোর দুর্দান্ত এক ঠিকানা।

অবস্থান

দক্ষিণ সিকিমের ছোট পাহাড়ি শহর রাবাংলা৷ এটি ৭,০১৬ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সুউচ্চ মৈনাম পাহাড়ের পাদদেশে রাবাংলা দাঁড়িয়ে তার রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে। এখানে চোখ জুড়ে শুধু সবুজের সমাহারে ঢাকা পাহাড় চোখে পড়ে। জনবসতি এখানে খুবই কম। নির্জনতা আর প্রশান্তির এই আবাসটি নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য পর্যটকদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিক নৈসর্গের এই শহরে প্রায়ই মেঘের দল মৈনাম পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে বৃষ্টি হয়ে নামে। রাবাংলার পাহাড়ি শোভায় বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখতে পাবেন। নেপালি, ভুটিয়া, তিব্বতিসহ অনেক বাঙালিদেরও পেয়ে যাবেন এখানে। প্রকৃতির নৈসর্গের সাথে বিচিত্র সংস্কৃতি এই ছোট শহরটিকে আরও মনোরম করে তুলেছে।

আরও পড়ুন : রংবুল : দার্জিলিং এর অপার নৈসর্গের পাহাড়ি গ্রাম



Ravangla রাবাংলা

রাবাংলায় অবস্থিত বৌদ্ধ পার্ক; ছবি : ফ্লিকার



প্রকৃতির সৌন্দর্য

এখানে সারা বছরই রোদবৃষ্টির লুকোচুরি খেলা চলে। সবুজে ছাওয়া রাবাংলা একেক ঋতুতে একেক রঙে হাজির হয়। যেমন মার্চ ও এপ্রিল মাসে রাবাংলা ছেয়ে যায় জানা-অজানা বিভিন্ন ফুলের রঙিন শোভায়। আবার শীতে বরফের চাদরে ঢেকে যায় রাবাংলা শহর। এখান থেকে নরসিং, সিম্ভো, পান্ডিম, কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গরাজি দেখা যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য খুব ভালো করে দেখতে কষ্ট করে হেঁটে উঠে যেতে পারেন মৈনামের একদম চূড়ায়। আরও ঘণ্টা খানেক হাঁটলে পেয়ে যাবেন ভালেদুঙ্গা। এই জায়গা থেকেও হিমালয়ের অসাধারণ রূপ দেখা যায়। ছোট একটি শহর হওয়ায় রাবাংলায় হেঁটেই দিব্যি ঘুরা যায়। গাড়ীর খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না এখানে। হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে যায় পাহাড়ে গা থেকে নেমে আস ঝর্না। পায়ে পায়ে ঘুরে ফিরে দুরন্ত মেঘেদের দল।

কি কি উপভোগ করবেন

পায়ে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যান বুদ্ধ পার্কের দিকে। পাঁচ কিলোমিটারের মতো পথ। চলার পথে গায়ে এসে ছোঁবে হিমেল স্নিগ্ধ হাওয়া৷ সাথে চোখে পড়বে দূর পাহাড়ের সবুজে ঘেরা ঢেউ। অপার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পৌঁছে যাবেন পার্কে। এই বিশাল পার্কে আছে বিরাট এক বুদ্ধ মূর্তি। পার্কের এক অংশ দেখা শেষ হলে অন্য অংশে রয়েছে তথাগত ট্যাসেল৷ এছাড়া এখানে দেখতে পাবেন শিশু সন্ন্যাসীদের শিক্ষা নেওয়ার দৃশ্য। আগস্ট মাসের শেষে এই জায়গাটিকে স্থানীয় উৎসবের জন্য চমৎকার করে সাজানো হয়।

আরও পড়ুন : ম্যাগনেটিক হিল : লাদাখের অপার সৌন্দর্যের মাঝে রহস্যময় পাহাড়


Temi_Tea_Garden_Ravangla রাবাংলা

রাবাংলায় অবস্থিত সবুজঘেরা টেমি টি গার্ডেন; ছবি : উইকিমিডিয়া


এই পার্কের সাথেই একটি মনাস্ট্রি আছে। পার্কের সাথে এই মনাস্ট্রিও দেখা হয়ে যাবে। গাড়ি নিয়ে ঘুরলে চলে যেতে পারেন রালং, ডলিং, টুমলং মনাস্ট্রিতেও। রাবাংলায় আরও আছে রাবং গুম্ফা, তিব্বতি উদ্বাস্তুদের হ্যান্ডিক্রাফট সেন্টার। রাবং গুম্ফা থেকে রাবাংলার অপরূপ প্রকৃতি দেখতে পাবেন। যারা ট্রেকিং ভালোবাসেন তারা রাবাংলার থেকে ওক, বাদাম, ম্যাগনোলিয়া, রডোডেনড্রনের বৃক্ষের অরণ্যে ঘুরে আসতে পারেন। এখানে ট্রেকিং করে পৌঁছাতে সময় লাগবে ছয় ঘণ্টার মত। এছাড়াও রাবাংলা থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন নামচি, চারধাম, সামদ্রুপচে, টেমি টি গার্ডেন, রালং, বোরং, তাশিডিং, রিনচেনপং বা কালুক থেকে। মাত্র দুই দিনেই রাবাংলা খুব ভালো করে ঘুরে ফেলা যায়।

যেভাবে যাবেন :

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রাবাংলার দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে আসলে খরচ পড়বে ৩,৬০০-৪,০০০ টাকা। এছাড়া কম খরচে আসতে চাইলে শিলিগুড়ির এন এস টি বাস-স্ট্যান্ড থেকে শেয়ার জিপেও আসতে পারেন। মাথাপিছু ভাড়া পড়বে ৮০ টাকা। এন এস টি বাস-স্ট্যান্ড থেকে বেলা সাড়ে বারোটায় রাবাংলা যাবার সরাসরি বাসও পাওয়া যায়। এছাড়া গ্যাংটক থেকেও বাস বা গাড়িতে রাবাংলা আসতে পারেন। গ্যাংটক থেকে রাবাংলা দু’ঘণ্টার রাস্তা।

যেখানে থাকবেন :

রাবাংলায় থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল রয়েছে। এগুলোতে থাকার খরচ বেশ কম। হোটেলগুলোতে অনায়াসে বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানে বেশ কিছু বাঙালি হোটেলও রয়েছে।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম