এম ভি বে ওয়ান : তারকামানের বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ এখন বাংলাদেশে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : 'এম ভি বে ওয়ান' জাহাজের পূর্বনাম 'এম ভি সালমিয়া মারু'

এম ভি বে ওয়ান mv bay one

বিলাসবহুল এম ভি সালমিয়া মারু দেশীয় পর্যটকদের অন্যতম আগ্রহের জায়গা এখন; ছবি : সংগৃহীত


 অনেক পর্যটকেরই বিলাসবহুল ক্রুজ শিপে ভ্রমণের স্বপ্ন থাকে। মূলত 'ক্রুজ শিপ' শব্দটি শুনলেই মাথায় আসে অত্যন্ত বিলাসবহুল বিরাট এক নৌযান যাতে ভ্রমণকারীরা উপভোগ করতে পারবেন অবকাশযাপনের বিলাসবহুল সব আয়োজন। যেখানে থাকবে উচ্চমানের স্টাফ, বিনোদনের নানান আয়োজন। এক কথায়, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের দিকে সর্বোচ্চ নজর দেয়া হবে। আমাদের দেশে এই সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা আশাহত হয়ে আসছে। তবে এখন খুব শীঘ্রই সে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। কারণ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ক্রুজ শিপ এম ভি বে ওয়ান চলে এসেছে বাংলাদেশে। আমাদের দেশের পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে তারকামানের এই ক্রুজ শিপটি।

'এম ভি বে ওয়ান' নামের এই জাহাজটির পূর্বনাম ছিল ‘এম ভি সালমিয়া মারু’। মালিকানা পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে এনে এর নতুন নাম দেয়া হয়েছে। দেশের খ্যাতনামা জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি. এর অর্থায়ন ও পরিচালনায় এই ক্রুজ শিপটি জাপান থেকে আমদানি করা হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে জাহাজটি পূর্ব চায়না সাগরে সিঙ্গাপুর অভিমুখী হয়ে ১৮ নটিক্যাল মাইল বেগে তার যাত্রা শুরু করে। এই জাহাজটি মালয়েশিয়ার কাছাকাছি উপকূল ইন্দো–মালাক্কা স্ট্রেট হয়ে এরপর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় ১৯ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে জাহাজটিকে রাখা হয়েছে মেরিন একাডেমির পাশে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ডকইয়ার্ডে। এখানে জাহাজটির সংস্কার কাজ চলছে। এই জাহাজটিকে পর্যটকদের জন্য ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যেই এই বিলাসবহুল ক্রুজ শিপটি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন : সাগরের প্রথম মেগাশিপ নামে খ্যাত সভারিন ক্রুজের সমাপ্তি কি এ বছরেই?


এম ভি বে ওয়ান mv bay one

দেশের সর্ববৃহৎ ক্রুজ শিপ এম ভি বে ওয়ান; ছবি : সংগৃহীত


 ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত তারকা মানের এই শিপটিতে দুই হাজারের বেশি আসন রয়েছে। উত্তাল সমুদ্রে চলতে সক্ষম এই জাহাজটি এখন দেশের সর্ববৃহৎ ক্রুজ শিপ। ১২১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫ দশমিক ৩ মিটার ড্রাফটের গভীর সমুদ্রগামী এই জাহাজটি সর্বোচ্চ ২৪ নটিক্যাল মাইল/ঘণ্টা বেগে চলতে সক্ষম । এতে ৫,৫০০ এইচপির দুটি লো আরপিএম ইঞ্জিন রয়েছে। এই জাহাজটিতে পর্যটকরা পাবেন আন্তর্জাতিক মানের ক্রুজ শিপে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। শুধুমাত্র দেশীয় পর্যটকই নয়, বিদেশী পর্যটক আকর্ষণেও সক্ষম তারকামানের এই জাহাজটি। যা আমাদের দেশের পর্যটনখাতে নতুন এক দুয়ার উন্মোচন করতে চলেছে। দুই হাজারের বেশি সংখ্যক যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটিতে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, বাংকার বেড কেবিন , টুইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন রয়েছে।

এটিতে আরও আছে বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স হল, ড্যান্স বার, সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। তারকামানের এই জাহাজটি শুধুমাত্র কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটেই নয়, কক্সবাজার/চট্টগ্রাম থেকে ক্রুজ সার্ভিস হিসেবে দ্বীপাঞ্চলগুলোতে প্রমোদ ভ্রমণেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া কেবল অভ্যন্তরীণ রুটে নয়, আন্তর্জাতিক রুটেও এ জাহাজটির পর্যটন সেবা সম্প্রসারিত হতে পারে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরে জাহাজটির জন্য আলাদা জেটি নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। অত্যাধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিলাসবহুল এ জাহাজে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে পর্যটকরা নতুন এক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন। এম ভি বে ওয়ান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে ও জাহাজটির টিকেট বুকিং ও রিজার্ভেশন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন : ০১৬১১ ৩৫০ ৪৩৪ এই নম্বরে ।

  রুবাইদা আক্তার   এস এম