আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসকেএস ইন রিসোর্ট : গাইবান্ধা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : এসকেএস ইন রিসোর্ট, গাইবান্ধা



এসকেএস ইন রিসোর্ট SKS Inn Resort

ছবি : সংগৃহীত


আরামদায়ক অবকাশ যাপনের অন্যতম একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে রিসোর্ট। পর্যটকদের কাছে রিসোর্টগুলো তাই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেকোনো ছুটিতে অনেকেই পরিবার নিয়ে আজকাল চলে যান রিসোর্টে ঘুরতে। এছাড়া, যেকোনো স্থানে ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক ও আনন্দপূর্ণ করতে ভালো মানের রিসোর্টে থাকাটা অনেকেই পছন্দ করেন। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য তাই নানা ধরনের রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিনোদনের মিশেলে এই রিসোর্টগুলো সুন্দর সময় কাটানোর জন্য দারুণ গন্তব্য হিসেবে দিন দিন প্রিয় হয়ে উঠেছে। আপনার গাইবান্ধা ভ্রমণে যদি ভাবছেন কোথায় থাকবেন তাহলে নিশ্চিন্তে চলে যেতে পারেন এসকেএস ইন রিসোর্ট (SKS Inn Resort)-এ।

গাইবান্ধা জেলা শহরের কাছে গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কের রাধাকৃঞ্চপুরে এই রিসোর্টটি অবস্থিত। প্রায় পাঁচ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠা এই রিসোর্টটির চারদিকে ফসলের মাঠ আর সবুজ দিয়ে ঘেরা। গাইবান্ধার বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশন এই রিসোর্টটি গড়ে তুলেছে। উত্তর জনপদের মফস্বল শহরে এতো সুন্দর রিসোর্ট আছে তা হয়তো কেউ না এলে বুঝতেই পারবেন না। অপার নিসর্গ আর কোলাহল-মুক্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই রিসোর্টে অতিথিদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রকম আয়োজন রয়েছে। এই রিসোর্টটির পরিবেশ অত্যন্ত নান্দনিক। সাজানো-গোছানো রিসোর্টটি অনেকটা পার্কের মত। রিসোর্টে প্রবেশ করতেই হাতের ডান পাশে পড়বে জলধারা নামে একটি রেস্টুরেন্ট। প্রাকৃতিক ঝর্ণার আদলে এই রেস্টুরেন্টের পাশেই রয়েছে একটি কৃত্রিম ঝর্ণা। মনোরম পরিবেশে দর্শনার্থীদের গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে কদমতলা, বাদামতলা, বাঁশতলা, পলাশতলা, পাকুরতলা ও মহুয়াতলা নামের সুন্দর কয়েকটি স্থান। পুরো জায়গাজুড়ে আছে রকমারী বৃক্ষরাজি।


এসকেএস ইন রিসোর্ট SKS Inn Resort

ছবি : সংগৃহীত


 গাছে ধরে আছে আম, জলপাই, কামরাঙ্গাসহ নানাবিধ ফল। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে মাটির কলসি। এই কলসিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের পাখি বসবাস করে। সন্ধ্যার পর এখানে বেজে উঠে রবীন্দ্র সংগীতসহ বিভিন্ন ধরণের দেশের গান। এখানে আছে আকর্ষণীয় পুকুর। এই পুকুরে রয়েছে নানা প্রজাতির দেশী মাছ। রাতে এই রিসোর্টটির পরিবেশ আরও বেশি মনোরম ও সুন্দর হয়ে উঠে। চারদিকে বিভিন্ন রঙের লাইটিং এ পরিবেশটি আরও উপভোগ্য হয়ে উঠে।

কি কি উপভোগ করবেন

এখানকার স্টাফদের আতিথিয়তা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেক উন্নত। পুরো জায়গা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব ফোর্স দিয়েও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। প্রশিক্ষণ, কনফারেন্স, সেমিনার, কর্মশালা আয়োজনের জন্য এখানে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৫টি হলরুম। আরও আছে জিমনেসিয়াম, ওয়াইফাই এর সুবিধা। রয়েছে বারবিকিউ করার সুবিধা। শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরণের খেলনা সামগ্রী। সকল প্রকার বাংলা, চাইনিজ ও ফাস্টফুড খাবার পাওয়া যাবে জলধারা রেস্টুরেন্টটিতে। এখানে রয়েছে দুইটি ডাইনিং স্পেস যেখানে একসাথে ৭০ ও ১০০ জন স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারবেন।

এছাড়া বাহিরের যে কেউ অর্ডার দিয়ে এখানে খেতে পারবে। ছোট ছোট পুকুরপাড়ে এক-একটি কটেজ গড়ে তোলা হয়েছে। এই কটেজগুলোর নাম দেয়া হয়েছে গাইবান্ধার বিখ্যাত জায়গার নামে এবং বিভিন্ন ফুল-ফলের নামে। প্রতিটি কটেজের পুকুরে মাছ ও হাঁস আকৃতির বিভিন্ন বোট রাখা আছে। এখানে ৭টি কটেজ আছে। যার মধ্যে আছে বালাসী, ভবাণীগঞ্জ ও রাধাকৃঞ্চপুর। এই তিন ভবনে আবাসনের জন্য রয়েছে ৬১টি এসি রুম (সিঙ্গেল/ডাবল) এবং ১১টি নন-এসি রুম (সিঙ্গেল/ডাবল)। প্রতিটি রুমে রয়েছে সৌখিন ও রুচিসম্মত ফার্নিচার, এলইডি টিভি, মিনি ফ্রিজ, রুম হিটার, ঠান্ডা ও গরম পানিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। এছাড়াও আছে অত্যাধুনিক ডিজাইনের নীলকুঞ্জ, কামনী, ছায়ানীড়সহ ৫টি কটেজ। যার মধ্যে ২টি ওয়াটার কটেজ এবং ১টি রয়্যাল ডিলাক্স কটেজ। যেখানে অন্যান্য রুমের সুবিধাদিসহ বাড়তি সুবিধা হিসেবে রয়েছে সু-পরিসর বাথটাব।



এসকেএস ইন রিসোর্ট SKS Inn Resort

ছবি : সংগৃহীত


এই কটেজগুলোর ভাড়া সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। সিঙ্গেল নন-এসি রুমের ভাড়া ৮০০ টাকা, টুইন নন-এসির ভাড়া ১,০০০ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল নন-এসি ২,০০০ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড টুইন এসি রুমের ভাড়া ২,৫০০ টাকা। এছাড়া, সিঙ্গেল ডিলাক্স এসি রুমের ভাড়া ২,৫০০ এবং টুইন ডিলাক্স এসি রুমের ভাড়া ২ হাজার ৮০০ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ওয়াটার কটেজের ভাড়া ৩,৫০০ টাকা, ডিলাক্স কটেজ (সিঙ্গেল) ৩,২০০ টাকা, ডিলাক্স কটেজ (সিঙ্গেল) ৬ হাজার এবং সুইট কটেজ ৭ হাজার টাকা।


যেভাবে যাবেন :

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এসি, নন-এসি বাস ছাড়ে। এদের মধ্যে আছে শ্যামলী পরিবহন, আল-হামরা পরিবহন, এস আর ট্রেভেলস, অরিন ট্রেভেলস ইত্যাদি। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা। এছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে চড়েও গাইবান্ধা যেতে পারেন। এরপর গাইবান্ধা শহর রিকশা বা অটোরিকশা নিয়ে কলেজ রোডের দিকে মাত্র ৪ কিলোমিটার গেলেই পেয়ে যাবেন এই রিসোর্টটি।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম