বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আধুনিকতার মোড়ক পরেছে বটে! কিন্তু, এই ঢাকা শহরে রয়েছে শত শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য। ঢাকা শহর যে ঐতিহ্যকে লালন করে গড়ে উঠেছে, সেটা তুলে ধরার জন্যই এই লেখা। তার সাথে জানবো আরও কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে, যেগুলোতে গিয়ে খুব সহজেই কাটিয়ে তুলতে পারেন আপনার একঘেয়েমি।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় রয়েছে সুদীর্ঘ প্রাচীন ইতিহাস। চারশত বছরের পুরাতন এই ঢাকার রয়েছে বিভিন্ন নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং বিনোদন কেন্দ্র। এখান আমরা একে একে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় ১৫টি স্থান সম্পর্কে জানবো।
১. লালবাগ কেল্লা
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত মুঘল দুর্গ লালবাগ কেল্লা; ছবি : রনবির
ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে লালবাগের কেল্লা অবস্থিত যা মূলত একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ। মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ কর্তৃক এটির নির্মাণকাজ ১৬৭৮ সালে শুরু হয়েছিল। তিনি সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেও সম্রাট পদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
কিন্তু এটির নির্মাণ কাজ পুরো করে যেতে পারেননি তাই মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে এর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন, কিন্তু তিনিও তা পরিপূর্ণভাবে শেষ করে যাননি। এটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত রয়েছে এবং বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে জাদুঘর হিসেবে সকলের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ।
২. হোসেনি দালান
হোসেনি দালান রাজধানীর পুরানো ঢাকায় অবস্থিত একটি শিয়া উপাসনালয় এবং কবরস্থান যা মোগল শাসনামলে সতেরো শতকে নির্মিত হয়। এটি ইমামবাড়া নামেও পরিচিত। ইমারতের গায়ে শিলালিপিতে ফারসি ভাষায় লিখিত কবিতা অনুসারে এটি হোসায়নি দালান হিসেবে পরিচিত। ইমারতটি মুহাম্মাদ (সা:) এর নাতি ইমাম হোসেনের ৬৮০ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে শহীদ হওয়াকে স্মরণ করে নির্মাণ করা হয়।
৩. রোজ গার্ডেন
বর্তমানে শুটিং স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া রোজ গার্ডেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এক ভবন; ছবি : উইকিপিডিয়া
রোজ গার্ডেন বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন, যা দেশি-বিদেশী পর্যটকদের নিকট ঢাকার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। রোজ গার্ডেন মূলত রোজ গার্ডেন প্রাসাদ নামেও পরিচিত। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় অবস্থিত একটি অন্যতম স্থাবর ঐতিহ্য।
এই প্রাচীন ভবনটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা করে। রোজ গার্ডেন ১৯৭০ থেকে নাটক ও টেলিফিল্ম শুটিং(Shooting) এর স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৪. বড় কাটরা ঢাকায় চকবাজারের দক্ষিণে বড় কাটরা অবস্থিত যা মুঘল আমলের একটি সরাইখানা ছিল। প্রথমে এটি শাহ সুজার বসবাসের স্থান হিসেবে ব্যবহার করার কথা থাকলেও পরে এটি মুসাফিরখানা হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
১৬৪৪ থেকে ১৬৪৬ সালে সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার নির্দেশে দেওয়ান মীর আবুল কাসিম দ্বারা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই ইমারতটি নির্মাণ করা হয়। পূর্বে স্থাপত্য সৌন্দর্যের কারণে বড় কাটরার সুনাম থাকলেও বর্তমানে এটি ভগ্নাবশেষ হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।
৫. ছোট কাটরা এটি শায়েস্তা খানের আমলে তৈরি একটি ইমারত। এ ইমারতটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় আনুমানিক ১৬৬৩ - ১৬৬৪ সালের দিকে এবং তা ১৬৭১ সালে শেষ হয়। এটি বড় কাটারার পূর্বদিকে হাকিম হাবিবুর রহমান লেনে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
ইমারতটি দেখতে অনেকটা বড় কাটারার মত। তবে এটি আকৃতিতে বড় কাটারার চেয়ে ছোট এবং এ কারণেই এটি ছোট কাটারা হিসেবে পরিচিত। তবে ইংরেজ আমলে এতে বেশ কিছু সংযোজন করা হয়েছিল। খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক লিওনার্দ ১৮১৬ সালে এখানে ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল খুলেছিলেন।
বর্তমানে ছোট কাটারায় একটি ভাঙা ইমারত ছাড়া কিছুই বাকি নেই। চারদিকে অসংখ্য দোকান এমন ভাবে ঘিরে আছে যে এটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে মুঘল আমলে এমন একটি স্থাপত্য ছিল।
৬. আহসান মঞ্জিল
নওয়াব আবদুল গনি নির্মিত বুড়িগঙ্গার তীরে আহসান মঞ্জিল; ছবি : উইকিপিডিয়া
পুরনো ঢাকার ইসলামপুরের কুমারটুলি এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আহসান মঞ্জিল অবস্থিত। এটি পূর্বে ঢাকার নবাবদের আবাসিক প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নওয়াব আবদুল গনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ-র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে আহসান মঞ্জিলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে সমাপ্ত হয়। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে এখানে একটি বৈঠক হয় যেখানে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আহসান মঞ্জিল কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
৭. তিন নেতার মাজার
এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি স্থাপনা।এটি স্বাধীনতার পূর্বে বাংলার তিন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা - 'হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী', 'খাজা নাজিমুদ্দিন' ও 'শেরে-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক-এর কবরের ওপর নির্মিত ঢাকার অন্যতম একটি স্থাপত্য নিদর্শন যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যা ১৯৬৩ সালে স্থপতি মাসুদ আহমেদ এবং এস এ জহিরুদ্দিন এই তিন নেতার স্মরণে নির্মাণ করেন।
এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রমনা এলাকায় হাইকোর্টের পেছনে এবং তিন নেতার মাজার এর পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। এটি ১৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মোগল শাসনামলে শাহজাদা আযমের সময়কালে নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির চত্বরে রয়েছে হাজী শাহবাজের সমাধি। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৬৮ ফুট ও প্রস্থ ২৬ ফুট এবং এতে তিনটি গম্বুজ রয়েছে।
৯. তারা মসজিদ
আঠারো শতকে নির্মিত ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদ; ছবি : পিন্টারেস্ট
পুরনো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে তারা মসজিদ অবস্থিত। তারা মসজিদ সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙের তারায় খচিত এক অপরূপ নিদর্শন যা আঠারো শতকের প্রথম দিকে নির্মিত হয়। কিন্তু মসজিদের সঠিক নির্মাণ-তারিখ জানা যায়নি।
জানা যায়, আঠারো শতকে ঢাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি মীর আবু সাঈয়ীদের নাতি জমিদার মির্জা গোলাম পীর ঢাকার আরমানিটোলায় আসেন। তিনিই এই মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে ১৯২৬ সালে আলী জান বেপারী আবার মসজিদটির সংস্কার করেন। মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয়েছে।
১০. রায়েরবাজার বধ্যভূমি
এটি শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতি স্মারক যা ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকায় অবস্থিত।স্থপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও জামি আল শাফি স্মৃতিসৌধটির নকশা করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১-এর সহায়তায় রায়েরবাজারে স্মরণ তৈরির প্রাথমিক প্রস্তাবনা আনা হয়েছিল, যারা ১৯৯১ সালে এর একটি অস্থায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
১১. জাতীয় জাদুঘর
শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর; ছবি : উইকিপিডিয়া
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত দেশের প্রধান জাদুঘর যা ২০ মার্চ, ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ৭ আগস্ট, ১৯১৩ সালে। পরে ১৯৮৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারিখে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেয়া হয়।
এখানে নৃতত্ত্ব, চারুকলা, ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, প্রকৃতি এবং আধুনিক ও বিশ্ব-সভ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে মোট ৪৪টি প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে একটি সংরক্ষণাগার, গ্রন্থাগার, মিলনায়তন এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনালয়।
বিবি মরিয়ম কামান ঢাকার কেন্দ্রস্থল গুলিস্তানের ওসমানী উদ্যানে অবস্থিত। সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৭ শতকে ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন এবং রাজধানী ঢাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে 'কালে খাঁ জমজম' ও 'বিবি মরিয়ম'সহ বেশ কিছু কামান তৈরি করা হয় যা বিশালত্বে, নির্মাণ শৈলীতে ও সৌন্দর্যে ছিল ভারতখ্যাত।
বিবি মরিয়ম কামানের দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ও এর মুখ ৬ ইঞ্চি প্রশস্থ। ঢাকার কামান তৈরির কারিগর 'জনার্দন কর্মকার' কামানটি তৈরি করেন। সুবেদার মীর জুমলার ১৬৬১ সালে আসাম অভিযানের সময় এই কামানটি ব্যবহৃত হয়েছিল।পরে যুদ্ধ বিজয়ের স্মারক হিসেবে তিনি এটিকে বড় কাটরার দক্ষিণে সোয়ারীঘাটে স্থাপন করেন।
সেখান থেকে ১৮৪০ সালে ঢাকার চকবাজারে এবং পরে তা ১৯২৫ সালে সদরঘাটে স্থাপন করা হয়। তারপর এই কামানটিকে গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার গুলিস্তানে স্থাপন করা হয়। সর্বশেষ এটিকে ১৯৮৩ সালে গুলিস্তানের মোড় থেকে উঠিয়ে এনে ওসমানী উদ্যানের প্রধান দরজার পেছনে স্থাপন করা হয়।
১৩. বাহাদুর শাহ পার্ক
সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাসমাখা বাহাদুর শাহ্ পার্ক; ছবি : প্রবির দাস
বাহাদুর শাহ পার্ক পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত। এটি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া পার্ক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে সর্বশেষ মুঘল সম্রাট এর নামানুসারে এর নাম বাহাদুর শাহ পার্ক রাখা হয়। বাহাদুর শাহ পার্কের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস।
১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহের সময় শতশত সিপাহী এবং তাঁদের বেসামরিক সহযোগীদের এই পার্কেই জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল। পরে ১৮৫৮ সালে সিপাহীদের স্মরণে "নবাব খাজা আব্দুল গনি" এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ছোট এই পার্কটির চারপাশে রাস্তা থাকায় দর্শনার্থীদের নিকট পার্কটিকে একটি চত্বর এর মতো মনে হতে পারে।
১৪. সাত গম্বুজ মসজিদ সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।এটি মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ। এই মসজিদটিতে চারটি মিনার ও সাতটি গম্বুজ রয়েছে।এই কারণে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'। এটি মুঘল আমলের অন্যতম একটি নিদর্শন যা ১৬৮০ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ নির্মাণ করেন।মসজিদটি দেখতে লালবাগ দুর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদের মতো।
১৫. কার্জন হল
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে থাকা কার্জন হল; ছবি : উইকিপিডিয়া
এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এটি একটি ঐতিহাসিক ভবন, যা পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত। এটি 'লর্ড কার্জন'-এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়। ইংরেজ আমলের একটি নিদর্শন হলো 'কার্জন হল', যা মূলত ঢাকা কলেজের পাঠাগার হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল।
কিন্তু পরে এটি ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের কিছু শ্রেণীকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল আকর্ষণীয় স্থল হচ্ছে এই কার্জন হল। যার অপরূপ সুন্দর স্থাপত্য দর্শনার্থী ও শান্তিপ্রিয় মানুষদের হৃদয় আকৃষ্ট করবে।