ক্যাফে কর্ণার : ৭০ বছর ধরে সফলভাবে চলমান পুরান ঢাকার এই রেস্তোরাঁ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরের ভুড়িভোজ সব কিছুতেই পূর্ণাঙ্গ স্বাদ

ক্যাফে কর্ণারের বিখ্যাত ক্রামচাপ যা এখনও আগের মতই জনপ্রিয়। ছবি : ডিসকভার ফুড ইন ঢাকা

প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। পুরান ঢাকার মধ্যকার রেস্তোরা বলতে বিউটি বোর্ডিং তখন বেশ জনপ্রিয় হলেও আশেপাশে তখনো তেমন কোনো রেস্তোরা ছিল না। ঠিক এই সময়েই হরি নারায়ণ ঘোষের হাত ধরে নর্থব্রুক হল রোডে স্থাপিত হয় ক্যাফে কর্ণার যা শত ফেলে আসা সময়ের সাক্ষী হয়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

এখানেই একসময় চায়ের আড্ডায় দেখা যেত বিখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ কিংবা কবি সাহিত্যিকদের। জানা যায়, এখানেই প্রায় নিয়মিত চায়ের আসর জমাতে আসতেন প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমান, ফজলে লোহানী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, আহমেদ ছফা প্রমুখ। ভেতরকার আয়োজন বেশ সাদামাটা।

পুরানো দরজা পার হয়ে ভেতরে ঢুকলে সামনে পড়বে আড়াআড়ি রাখা দুটি টেবিল আর ডানদিকে রয়েছে আরো চারটি টেবিল। একসাথে প্রায় ২৫-৩০ জন এখানে বসতে পারেন। দেয়ালের দিকে তাকালে চোখে পড়বে মূল্য তালিকা সম্বলিত খাবারের নাম। এখানের বিকেলের খাবারের সমাহার বেশ জনপ্রিয় তাই তখন বসার জায়গা পেতে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আশির দশক থেকে ক্যাফে কর্ণারের ম্যানেজার হিসেবে আছেন অনিল মিত্র আর বর্তমানে এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়া। ক্যাফে কর্ণারে সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার অবধি সবকিছুই পাওয়া যাবে যার খরচও হাতের নাগালের মধ্যে। সাধারণত সকালের নাস্তায় ডাল, ভাজি, ডিম, পরোটা এবং চা পাওয়া গেলেও দুপুরে মোরগ পোলাও এবং অন্যান্য খাবারের দেখা মিলবে।

বিকেলে চায়ের আড্ডায় ভাজাভুজি হিসেবে উপড়ি পাবেন ক্রামচাপ, কাটলেট, চিংড়ি ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই কিংবা মোগলাইয়ের স্বাদ। তবে, ক্যফে কর্ণারের সবচেয়ে পুরানো আইটেম এখানের ক্রামচাপ যা একেবারে শুরু থেকেই এখানে এখনও স্বমহিমায় বিদ্যমান। গরম পাউরুটির সাথে পরিবেশন করা এই ক্রামচাপের স্বাদ নিতে সঙ্গত কারণেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের আনাগোণা দেখা যায় বিকেলের দিকে। ক্রামচাপের স্বাদ নিতে আপনাকে গুণতে হবে মাত্র ১২৫ টাকা।cafe corner old dhaka ছবি : ডিসকভার ফুড ইন ঢাকা

এছাড়া সকালের নাশতায় পরোটা ও ডালভাজির দাম মাত্র ১৫ টাকা সাথে পছন্দ অনুযায়ী চেখে দেখতে পারেন খাসির ভুনা কিংবা ডিমও। খাসির ভুনার দাম পড়বে ৭০ টাকা। মোরগ পোলাওয়ের দাম ১১০ টাকা। আর বিকেলের চায়ের আসরের বিখ্যাত ভাজাভুজির দামও বেশ নাগালে মাত্র ১০-১০০টাকা। জমজমাট এই ক্যাফে কর্ণার প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা অবধি খোলা থাকে।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গা থেকে প্রথমে যেতে হবে পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল রোডে। ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে দক্ষিণ দিকে লালকুঠি হয়ে সোজা বুড়িগঙ্গার তীরে গিয়ে মিশেছে নর্থব্রুক হল রোড। বাংলাবাজার ও নর্থব্রুক হল রোডের মিলিত স্থান চৌরাস্তা নামে পরিচিত।

পশ্চিম দিকের সড়ক ধরে এগোলে বাংলাবাজার হয়ে পাটুয়াটুলির দিকে যাওয়া যায় আর পূর্বদিকে একই সড়ক ধরে পৌঁছে যাওয়া যাবে বিউটি বোর্ডিং। বাংলাবাজার সড়ক আর নর্থব্রুক হল রোডের কোনায় ২৮, নর্থব্রুক হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ 'নিউ ক্যাফে কর্ণার'। ফোন : ০১৯৬৬৪১০৫৮২। বি:দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।  


জোহরা মহসীন 


এস এম


তথ্যসূত্র : www.daily-bangladesh.com/country/211066 www.deshrupantor.com/rup-rupantor/2019/07/18/155762 www.prothomalo.com