গিয়েথুর্ন : রাস্তা ছাড়া অনিন্দ্য সুন্দর এক গ্রাম

গ্রামটির অন্যতম আকর্ষণ হলো : এই গ্রামে কোন রাস্তা নেই



গিয়েথুর্ন (Giethoorn)

ছবি: সংগৃহীত


উত্তর পশ্চিম ইউরোপের অন্যতম এক ধনী দেশ নেদারল্যান্ডস। দেশটি অনেকের কাছে হল্যান্ড নামেও পরিচিত, যদিও হল্যান্ড নামে এই দেশটির দুটি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। ইউরোপ ভ্রমণে পর্যটকদের নিকট অন্যতম আকর্ষণ এই নেদারল্যান্ডস। ১২ টি প্রদেশ নিয়ে গঠিত দেশটি পর্যটকদের নিকট এক স্বর্গরাজ্যই বলা যায়। নেদারল্যান্ডস এর ৫০ ভাগেরও বেশি জায়গা সমুদ্রতলের প্রায় ১ মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। বাকি অংশ সমুদ্রতলের নিচে অবস্থিত। আর তাই দেশটির নামও নেদারল্যান্ডস বা নিম্নভূমি রাখা হয়। পুরো দেশটি খাল এবং নদী নালা দিয়ে বেষ্টিত। এর যোগাযোগ ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে এই খাল গুলোকে কেন্দ্র করে। কেউ চাইলেই নৌ পথেই পুরো দেশটি ভ্রমণ করতে পারে।

নেদারল্যান্ড এর একটি গ্রাম গিয়েথুর্ন (Giethoorn)। ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের আজ জানানো হবে পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ এই গ্রামটি নিয়ে। ছবির মত সুন্দর এই গ্রামটির অন্যতম আকর্ষণ হলো : এই গ্রামে কোন রাস্তা নেই। এখানে সবাই নৌকায় করেই চলাফেরা করে। শান্ত শিষ্ট, সবুজেঘেরা রাজকীয় সৌন্দর্যের এই গ্রামটি 'নেদারল্যান্ডসের ভেনিস' নামেও পরিচিত। রাজধানী আমস্টারডাম থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত গ্রামটি একদম নিরিবিলি, একদম যান্ত্রিক কোলাহলবিহীন পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে চলা নৌকাগুলোতেও ব্যবহার করা হয় শব্দবিহীন ইঞ্জিন।


গিয়েথুর্ন (Giethoorn)

ছবি: সংগৃহীত[



গিয়েথুর্ন যেনো এক রূপকথার দেশ

১২৩০ সালে স্বপ্নের মতো এই গ্রামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরো গ্রামে ভ্রমণ করতে হবে জলযানে করে। গ্রামের বিভিন্ন দিক দিয়ে খাল চলে যাওয়ায় গ্রামটি ছোট ছোট দ্বীপে ভাগ হয়ে রয়েছে। আর তাই এদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে রয়েছে ১৫০টিরও বেশি কাঠের সেতু। এখানে খালের ধারে ধারে রয়েছে নানান ধরণের কটেজ। সবুজ ঘাস, গাছপালা এবং নানান রঙের ফুলের সমারোহ দেখা যায় এইসব কটেজ গুলোর আঙ্গিনায় কিংবা ক্যানেলের দুপাশের বাঁধানো পাড়ে। নান্দনিক এবং রূপ কথার দেশের মতো পরম শান্তির এই দেশটির জনসংখ্যা প্রায় দু হাজার ৬শ'। এই শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আপনি কিছু জাদুঘর এবং সংগ্রহশালাতেও ভ্রমণ করতে পারেন। ডাচ ফিল্মমেকার বার্ট হান্সট্রা তার কমেডি ফিল্ম 'ফ্যানফেয়ার'-এর শুটিং এই গ্রামে করার পর ১৯৫৮ সালে গ্রামটা বিশ্বের পর্যটকদের নজরে আসেন। নৌকায় ঘুরার পাশাপাশি এই গ্রামে কিছু জাদুঘর এবং সংগ্রহশালার দেখাও পাবেন।

Museum De Oude Aarde এ দেখা পাবেন রত্ন ও খনিজ পদার্থের নানান সংগ্রহের। এছাড়াও রয়েছে গিয়েথুর্ন এর অতীত ইতিহাস সমৃদ্ধ het olde maat uus মিউজিয়ামটি। শত বছর পূর্বে কেমন ছিলো আজকের গিয়েথুর্ন তা এক ফলকে দেখে ফেলতে পারবেন এখানে। এসবের পাশাপাশি গাড়ি, মোটরগাড়ি ও রেলগাড়ির কামড়ার একটি বড় সংগ্রহ শালাও রয়েছে এখানে। এই সংগ্রহশালাটির নাম The Histomobile। আমস্টারডাম থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরত্বে হওয়ায় ডে ট্যুরেও এই অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামটি ঘুরে আসতে পারবেন যে কেউ। দেড় দু ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিয়ে কে না চাইবে নান্দনিক এবং জাদুকরী এই গ্রামে ভ্রমণ না করতে!  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম