ঘাগড়া বা কলাবাগান ঝরনা : রাঙামাটি
পর্বতপ্রেমী হউন বা ঝর্ণাপ্রেমী-পাহাড়ি কন্যা ঘাগড়া বা কলাবাগান ঝরনা

রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে আট-দশটি ঝর্ণা
পুরো বর্ষাকালজুড়েই প্রবাহিত হয় এই ঝর্ণাগুলো। পাহাড়ি ছড়ার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংসখ্য নুড়ি পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবার সময় চারপাশের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে। এই সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন মূল ঝর্ণার দিকে। এখানকার চলার পথে অসংখ্য ছোট ছোট ঝর্ণা আপনার নজর কাড়তে শুরু করবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা শেষ হলেই অপরূপ প্রথম বড় ঝরনাটি স্বাগত জানাবে আপনাকে। এরপর হালকা পিচ্ছিল কিন্তু মসৃণ পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠতে হয়।এর অবিরাম স্রোতধারায় মন চাইবে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে। শৈশবের চঞ্চলতাকে যেন আবার ফিরে পাওয়া। প্রথম ঝর্ণা থেকে কিছুটা উঁচুতে উঠলে আরেকটি ঝর্ণা পেয়ে যাবেন। এটি আপনার ক্লান্তি দূর করে নিমিষেই করে তুলবে বিমোহিত। আরেকটু সামনে গেলে আরও উঁচুতে অপর ঝর্ণাটি আপনাকে বিমোহিত করবে। এখানকার কঠিন পাথরের দেয়ালগুলো যেন একেকটা শৈল্পিক স্থাপত্য। একেকটা ঝর্ণাধারা পেরিয়ে যত উঁচুতে উঠতে থাকবেন ততই মুগ্ধ হতে থাকবেন। মূল ঝর্ণায় যাওয়ার পথটি দারুণ সুন্দর। পথের ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নুড়ি পাথর ও সবুজে ঢাকা অরণ্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। নিসর্গের অন্য এক রাজ্যে চলে যাবেন নিমিষেই।
সবচেয়ে বড় ঝর্ণা
এই পথের একদম শেষ প্রান্তে দেখা পাবেন সবচেয়ে বড় ঝর্ণাটির। এই ঝর্ণাটি এতটাই উঁচু যে অনেক সময় ভয় করে কাছে যেতে। তবে এটি যত বড় এর সৌন্দর্যও তেমন অতুলনীয়। এর সৌন্দর্যের সুধা থেকে কিছুতেই বঞ্চিত হওয়া যাবে না। এখানকার ঝর্ণাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমতল থেকে স্তরে স্তরে অন্তত দেড় থেকে দু'শ ফুট উঁচু থেকে জল নিচে গড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ঝর্ণারই রয়েছে আলাদা কিছু সৌন্দর্য। এর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিজ চোখে না দেখলে বুঝতে পারবেন না। পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়ে এই সুরূল জলধারা। ঝর্ণা-পাহাড়ের সখ্যতায় হৃদয় নিংড়ানো সৌন্দর্য আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য ভুবনে। এ ঝর্ণার কলকল নিক্কন ধ্বনির সুর ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। যেন সবুজ অরণ্যের মাঝে প্রাণের পরশ এঁকেছে প্রকৃতির শিল্পী।এই ঝর্ণাধারার পানি এত বেশি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ যে মনের আনন্দে এখানে লাফালাফি করতে পারবেন। ঝর্ণার ওপর থেকে ইচ্ছেমত হাত-পা ছেড়ে দিয়ে ৫০-৬০ ফুট নিচে খুব সহজেই নেমে যাওয়া যায়। পা পিছলে পড়ে যাওয়ার তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। তবুও কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করবেন। এখানকার স্বচ্ছ পানি অবলীলায় পান করা যায়। শীতল দুগ্ধরূপী এই জল আপনার মন-প্রাণের তৃষ্ণা মেটাবে। পথের ক্লান্তি নিমিষেই উধাও হয়ে যাবে। শেষ বিকেলের সোনালি আলো যখন ঝর্ণাধারায় ঠিকরে পড়ে তখন চারপাশের সৌন্দর্য আরও বেশি মোহনীয় হয়ে উঠে। এখানে দেশি-বিদেশেী পর্যটকসহ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ আশপাশের জেলার স্থানীয়দের ব্যাপক উপস্থিতি থাকে। এটি যেন এক আনন্দের ফোয়ারা। প্রায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আগমনে মুখরিত হয়ে থাকে এই ঝর্ণা স্পট।
যেভাবে যাবেন :
রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে যেতে পারবেন এই ঝর্ণায়। ভাড়া পড়বে ২০০-২৫০ টাকা।রুবাইদা আক্তার এস এম