চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে যা না জানলেই নয়

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান এবং কিছু প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি



প্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান। ছবি : ভিজিট হিমালয়া ট্রেকস
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান। ৯৩২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন রকমের উদ্ভিদ এবং প্রাণী সমৃদ্ধ এই উদ্যানটি যেন জগতের আলাদারূপ ধারণ করে রয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নেপালের প্রথম জাতীয় উদ্যানের নাম ছিল 'রাজকীয় চিতওয়ান রাষ্ট্রীয় নিকুঞ্জ'। পরবর্তীতে নাম পাল্টে রাখা হয় চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান। প্রায় ৭০০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও গাছপালার নিরাপদ নিকুঞ্জ এই উদ্যানকে ১৯৮৪ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

চিতওয়ান পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল এবং আকর্ষণীয় প্রাণীদের মিলনমেলা। হাতি, চিতা, কুমির, ভাল্লুক, বানরসহ রয়েছে বিদেশী পাখিও। এক শিংওয়ালা এশিয়াটিক গণ্ডার নামে পৃথিবীর বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটির সর্বশেষ আবাসস্থল এই উদ্যানে। তাছাড়া বাংলার গর্ব,বেঙ্গল টাইগারের সর্বশেষ কিছু প্রজাতির অন্যতম সর্বশেষ আবাসস্থলও এটি। যেকোনো জাতীয় উদ্যানের মতো এখানেও পর্যটকদের জন্য বন্যপ্রাণী দর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এখানকার প্রাণীরা কোলাহল পছন্দ করেনা।

তাই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেই ভালোবাসে। কিন্তু যদি আপনার ভাগ্যভালো থাকে তবে দেখা মিলে যেতে পারে বেঙ্গল টাইগারেরও। তবে, সেক্ষেত্রে সারাদিন জিপ সাফারিতে ঘুরতে হবে চারপাশটায়। বিশেষ করে চিতওয়ানের ভেতরের একটা অংশ-বার্ডিয়া জাতীয় উদ্যানে, যেখানে বাঘের চলাচল বেশি।



এক শিং ওয়ালা এশিয়টিক গন্ডার, চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান। ছবি : নেপাল ট্রেকস্
এতে বাঘের দেখা যে মিলবেই তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও এটাই একমাত্র পথ। তবে বাংলা গর্বকে দেখতে না পেলেও মন খারাপের কিছু নেই। উদ্যানের ভিতরে আরও অনেক প্রাণী আছে যাদের নামই হয়তো আপনি কখনও শুনেননি। নেপাল ভ্রমণে যদি চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানে যেতে চান তবে কিছু পরামর্শ আপনার দরকার পরবে।

কী কী প্যাক করবেন : জায়গাটি  আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে। দিনের বেলায় তপামাত্রা থাকে খানিকটা বেশি। রোদের মধ্যে সারদিন ঘুরাঘুরির জন্য হালকা রংয়ের বায়ু পরিবাহী কাপড় সাথে নিতে হবে। যাতে গরম না লাগে।  রাতে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই রাতের জন্য সারাশরীর ঢেকে রাখবে এমন কাপড় নেয়াই ভালো। ভালো মানের সানস্ক্রিন সাথে নিন। হ্যাট, সানগ্লাস নিতেও ভুলবেননা কিন্তু। প্রাথমিক চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জাম নিতে হবে।  যেহেতু বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়াবেন তাই পাওয়ারব্যাংকটা সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।

ভ্রমণ বীমা :

যেহেতু এটি বনাঞ্চল এবং বহু পশুপাখি ও প্রাণীর বাস, অঘটন ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যদি আপনি অসুস্থ হয়ে পরেন তখন কী করবেন? চিতওয়ান নেপালের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। আপনি চাইলেই উন্নত কোনও চিকিৎসা সুবিধা এখানে পাবেন না। কিন্তু আপনার ভ্রমণ বীমা করে থাকলে প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান থেকে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ।



ছবি : সংগৃহীত
যেখানে থাকবেন : এখানে ইডেন জঙ্গল রিসোর্ট এবং লজ জনপ্রিয় বেশী। সস্তায় বেশ ভালো পরিবেশ পাবেন এটিতে। যদি বিলাসবহুল পরিবেশে থাকতে চান তবে ল্যান্ডমার্ক ফরেস্ট পার্ক হোটেল আপনার পছন্দসই হবে।

কীভাবে যাবেন : সৌরহ চিতওয়ান শহর থেকে একটু দূরে অবস্থিত এবং এখান থেকেই উদ্যানের উদ্দেশ্যে আপনার মূল ভ্রমণ শুরু হবে। থাকার জায়গাগুলোও সৌরহতেই পাবেন। ভাল রিসোর্টগুলো সৌরাহার উপকণ্ঠে রয়েছে। সৌরহ যাওয়ার জন্য কাঠমান্ডু এবং পোখারা থেকে সরাসরি বাস রয়েছে। বাসগুলো খুব ভোরে উদ্যানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ৪-৫ ঘন্টা লাগবে পৌঁছতে। সৌরহের বাইরে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ভরতপুরে একটি বিমানবন্দর রয়েছে। ভরতপুর থেকে কাঠমান্ডু এবং পোখারা উভয় দিকেই প্রতিদিন ফ্লাইট আসে। আপনি চাইলে বিমানেও আসতে পারবেন।

দরকার ভ্রমণ প্রশিক্ষক : নেপালে ব্যাকপ্যাকিং করতে গিয়ে নানারকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যা সম্পর্কে কোনও ধারণাই হয়তো আপনার ছিল না। সেজন্য দরকার পরবে একজন প্রশিক্ষক। যিনি আপনাকে কোথায় যেতে হবে, কখন কি করতে হবে-সবকিছু নিয়ে ধারণা দিবেন।