জার্মানির সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত নিওসচোয়ানস্টেইন ক্যাসেল । ছবি : এয়ারপানো ডট কম
কল্প-কাহিনী কিংবা বিভিন্ন সিনেমাতে অতীব সুন্দর রাজপ্রাসাদ দেখে আমরা কম-বেশি অভিভূত হই। ছোট বাচ্চাদের কল্পনার ও এক অন্যতম বড় অংশজুড়ে থাকে এই রাজপ্রাসাদগুলো। ছোট-বড় সবারই যেন মনে হয় একবার হলেও এই প্রাসাদগুলো যদি বাস্তবে ঘুরে দেখা যেত! মজার ব্যাপার এই যে, আমরা অনেকেই হয়তো জানি না এই প্রাসাদগুলো থেকে চাইলেই ঘুরে আসা সম্ভব।
বাস্তবের বেশ কিছু প্রাসাদ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে লেখক কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাদের কল্পনা মেলে প্রাসাদগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। দূর্গের দেশ জার্মানিকেই বলা হয়ে থাকে বড় বড় এরকম রাজপ্রাসাদের জন্মভূমি। চলুন জেনে আসা যাক জার্মানির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দূর্গ সম্পর্কে।
প্যারিসে অবস্থিত ডিজনির স্লিপিং বিউটি ক্যাসেল জার্মানির নিওসচোয়ানস্টেইন ক্যাসেল থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো হয়েছিলো। ছবি : উইকিপিডিয়া
আইকনিক এই প্রাসাদটি জার্মানির অন্য সব প্রাসাদ থেকে বড় এবং সবচেয়ে বিখ্যাত। সম্রাট লুডউইক (২)-এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন ১৮৬৯ সালে। তিনি এই প্রাসাদটি তার কল্পনার রাজ্যের মত করে বানাতে চেয়েছিলেন।
এই প্রাসাদটি নির্মাণে তিনি জনসাধারণের ফান্ড ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত ফান্ড এবং লোন ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
প্রতি বছর ৬২ লাখ ভ্রমণপিপাসু সুন্দর এই প্রাসাদটি দেখতে ভিড় জমান। বলা হয়ে থাকে, প্যারিসে অবস্থিত ডিজনির স্লিপিং বিউটি ক্যাসেল এই দুর্গটির ডিজাইন থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো হয়েছিলো।
হোহেনসচোয়াঙ্গো ক্যাসেল :
সম্রাট লুডউইক তাঁর ছোটবেলা কাটিয়েছিলেন এই প্রাসাদে। ছবি : ওয়ালপেপার মাগ ডট কম
এই প্রাসাদটির সাথেও সম্রাট লুডউইক-এর নাম জড়িত। এই প্রাসাদেই তিনি তার ছোটবেলা কাটিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে, নিওসচোয়ানস্টেইন প্রাসাদ নির্মাণের স্বপ্ন তিনি এই সুন্দর প্রাসাদটি দেখেই পেয়েছিলেন।
লুডউইকের পিতা ম্যাক্সিলিন(২) জায়গাটির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কারণে এখানে এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। ১৮৩৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৮৫৫ সালে সমাপ্ত হয়। এর অন্দরমহল মধ্যযুগীয় এবং যথাযথ শৈল্পিক মাধুর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দূর্গটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে পরবর্তিতে এটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়। ছবি : উইকিপিডিয়া
১৮৪০-১৮৪২ সালে এটি নির্মিত হয়। মূলত ১২ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাসাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর ১৯ শতকে একে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রাসাদটিকেই যেন রুপকথার গল্পে রাজকুমারী এবং যোদ্ধাদের বাসস্থান বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-সম্ভার এই দুর্গের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
ওয়ার্টবার্গ ক্যাসেল :
মার্টিন লুথার ১৫ শতকে এই প্রাসাদেই তার শেষ ইচ্ছাপত্র পাঠ করেন। ছবি : উইকিপিডিয়া
মধ্যযুগে নির্মিত এই প্রাসাদটি জার্মানির দ্বিতীয় জনপ্রিয় বিখ্যাত প্রাসাদ। ১১ শতাব্দীতে নির্মিত এই প্রাসাদে বসবাস করেছেন হাঙ্গেরির রাজকুমারী এলিজাবেথ। মার্টিন লুথার ১৫ শতকে এই প্রাসাদেই তার শেষ ইচ্ছাপত্র পাঠ করেন। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং শিশুরা গাধার পিঠে চড়ে পাহাড়ের শীর্ষে আরোহণ করতে পারে।
সম্রাট ফ্রেড্রিকের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ হিসেবে ব্যবহৃত হত সানসৌচি। ছবি : উইকিপিডিয়া
বার্লিনের কাছে পোস্টডামে অবস্থিত এই প্রাসাদকে ফ্রান্সের ভার্সেটাইলের সাথে তুলনা করা হয়। এটি সম্রাট ফ্রেড্রিকের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে সম্রাটের বিখ্যাত লাইব্রেরি, বাগান এবং সুন্দর কিছু ধর্মীয় স্থাপনার জন্য এটি জনপ্রিয় এক ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশন।
রেইচসবার্গ কোকেম ক্যাসেল :
ফ্রান্সের সাথে দীর্ঘ ৯ বছরের যুদ্ধে দূর্গটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছবি : উইকিপিডিয়া
সম্রাট কনড়াড(৩) ১২ শতাব্দীতে একে রাজকীয় প্রাসাদের মর্যাদা দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের সাথে দীর্ঘ ৯ বছরের যুদ্ধে এটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯ শতকে এক ব্যবসায়ী এটিকে কিনে সংস্কার করেন। বর্তমানে এটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশনের একটি।
কল্পনার সাথে বাস্তবতার সংস্পর্শের জন্য হলেও এই ক্যাসেল ভ্রমণ আপনার জীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি মনের আশা পূরণের এক অতুলনীয় মাধ্যম হতে পারে এই ক্যাসেলগুলো ভ্রমণ।