গ্রিক মিথোলজির প্রধান দেবতা জিউসের মূর্তি : অলিম্পিয়া
[caption id="attachment_15883" align="aligncenter" width="831"]
জিউস-এর মূর্তি
জিউস বিখ্যাত হারকিউলিসের পিতা। তাই গ্রিকরা তাকে সন্তুষ্ট এবং সম্মান জানানোর জন্য এই মূর্তিটি নির্মাণ করেন। প্রতি চার বছর পর পর অলিম্পিয়া নগরীতেই জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম প্রাচীন অলিম্পিক গেমস ৭৭৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্বের বৃহত্তম এ খেলার আসরটিতে দেবতা জিউসের আশীর্বাদ পেতেই এ বিশাল মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। মূর্তিটি উচ্চতায় ছিল প্রায় ৪০ ফুট। এর ব্যাসার্ধ ছিল প্রায় ৬ ফুট। এই মূর্তি সম্পূর্ণ করতে মোট ১২ বছর সময় লেগেছিলো।

আছে আরো ভাস্কর্য
মন্দিরটির প্রবেশপথের পূর্বদিকে পলপস ও ওয়ানোমাসের গল্প থেকে রথের দৃশ্যকে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। পশ্চিমা প্যাডিজ ল্যাপিথস এবং সেন্টোরাসের মধ্যে একটি যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ভাস্কর্যটিতে দেখা যেত দেবতা জিউস একটি কাঠের ওপর উপবিষ্ট হয়ে আছেন যেখানে তার ডান হাতে ছিল একটি ছোট মূর্তি যা নির্দেশ করে জিউসের জয় এবং জৌলুস। অপরদিকে তার সিংহাসনের বাম দিকে ছিল একটি ঈগল যা নির্দেশ করে জিউসের শক্তি ও তার প্রতি আনুগত্য। পুরো বেষ্টিত মূর্তিটি তিন ফুট উচ্চতর স্তম্ভের উপর অবস্থিত ছিল। এই মূর্তিটি কিছু বিরল উপকরণ থেকে তৈরি করা হয়েছিল। কাঠ দ্বারা মূর্তিটির ফ্রেম তৈরি করা হয়েছিলো। জিউসের চামড়াটি হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং তার পোশাকটি স্বর্ণের প্লেটগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছিল যা প্রাণী ও ফুলের সাথে জটিল ভাবে সজ্জিত ছিল। সিংহাসনটি হাতির দাঁত, মূল্যবান পাথর ও আবলুস থেকে তৈরি করা হয়েছিল। মূর্তিটির যাতে কোনও ক্ষতি না হয় এই জন্য এটি খুব স্যাঁতসেঁতে এবং আর্দ্র জায়গায় বিশেষ যত্নে তৈরি করা হয়েছিল। এর দীর্ঘস্থায়ীত্বের জন্য নিয়মিত এর কাঠে জলপাই তেল প্রয়োগ করা হতো। এই মূর্তিটি ১৭০ খৃষ্টাব্দে ভূমিকম্প দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু এটি মেরামত করা হয়। এরপর এটি ধ্বংস করে ফেলা হয়। তবে, এটি ঠিক কীভাবে ধ্বংস হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। ধারণা করা হয়, চতুর্থ শতকে সম্রাট কনস্টান্টটাইন খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত হওয়ার পর তিনি অলিম্পিয়ার সব স্বর্ণ ও জিউসের মূর্তি সহ সবকিছু পৌত্তলিক মন্দির থেকে ছিনতাই করার আদেশ দেন। খ্রিস্ট ধর্মের প্রসারের সময় খ্রিষ্টীয় ৫ম শতাব্দীতে অগ্নি সংযোগে এটি ধ্বংস করে ফেলা হয়।রুবাইদা আক্তার এস এম