ট্রেনের যাত্রীদের জন্য জীবন্ত আর্ট

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: রেললাইনের সেই একই দৃশ্য থেকে পরিত্রাণে অভিনব এক কৌশল




ছবি: সংগৃহীত


আপনি ট্রেনে চড়ে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, কিন্তু ট্রেনে উঠেই জানালাটা বন্ধ করে হয় বই পড়েন নয়তো বা মোবাইল চালান। বাইরের দৃশ্য দেখতে তেমন একটা উৎসাহ কখনোই কাজ করে না আপনার মধ্যে। ভাবেন, সেই তো একই দৃশ্য, গাছপালা, দূরের মানুষ। চিরচেনা সব। ট্রেনে উঠে দূরের পথ পাড়ি দিতেও আপনি ডুবে থাকেন নিজের মধ্যে। এই চিরচেনা ভাবনাতে অল্প সময়ের জন্য কিছুটা আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করেছেন জন হিন্টজার ও জ্যাকব হাফনার নামে দুইজন মানুষ। তারা দুজনেই মিডিয়া আর্টিস্ট এবং জার্মানির বহাস ইউনিভার্সিটি ওয়েইমারের প্রফেসর।

আর্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা বুঝেছিলেন মানুষ এগুলো দেখতে বেশ মজা পায়। তবে সেটা সাময়িক। দূরে কোথাও যেতে হলে আর্টের আনন্দ তো দূরে থাক, অনলাইন থেকে নজরই সরানো যায় না। যাত্রাপথেও মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি ধরে রাখতে এই দুই আর্টিস্ট বের করলেন দারুণ এক আইডিয়া। ট্রেনে চড়ে যে যাত্রীরা যাবে তাদের জন্য বেওয়েগটেজ ল্যান্ড নামে বিশাল এক মাঠজুড়ে বানালেন জীবন্ত আর্ট প্রজেক্ট।



ছবি: ডয়েচেভেলে


কেমন দৃশ্য থাকে জীবন্ত মাঠজুড়ে?

যে মাঠকে পারফর্মাররা মিলে  জীবন্ত আর্ট দিয়ে অভিনব করে তুলেছে সেই মাঠ জুড়ে রয়েছে কেবল শুকনো ঘাস, পাশেই রয়েছে লেক আর ধানক্ষেত। এই ক্যানভাসেই সাজানো হয় সব দৃশ্য। আমরা যেটিকে ব্যাকড্রপ বলি অর্থাৎ কোনো দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য পেছনের যে সুন্দর জিনিস, সেই ব্যাকড্রপ হিসেবে এই জীবন্ত আর্টের বেলায় রয়েছে একদম গ্রাম্য দৃশ্য। পুরো সবুজে ঘেরা চারপাশ। নানা ধরনের দৃশ্য দেখা যায় এই মাঠে।

যেমন : একজন কৃষক মাটি খুঁড়ছেন, হুট করে সেই মাটি ফুঁড়ে পানির ফোয়ারা বেরিয়ে এলো, সাদা একটি বাড়ি মুহূর্তেই নীল রঙ হয়ে গেলো, গাছের ঝোপগুলো ট্রেনের সাথে দৌড়চ্ছে (প্রতিটি ঝোপ একেকজন মাথায় নিয়ে ট্রেনের সাথে সাথে দৌড়ান), মাঠের মাঝখানেই হয়ত দেখা যাবে ট্রাফিক লাইট, দেখা যাবে একজন বাতাসে সাইকেল চালাচ্ছেন (দড়ির উপর সাইকেল চালান তিনি), লেকে রয়েছে বিশাল এক তিমি মাছ, পানিতে পড়লেই তার পেটে আপনি চালান (ভয় নেই, এগুলো একদম সত্যি তিমি নয়!), ট্রেনের সাথে সাথে কেউ কেউ দৌড়ে চলেছেন- এমন বেশ কয়েকটি মজার দৃশ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এই মুভিং আর্ট প্রজেক্ট।



ছবি: সংগৃহীত


২০১৭ সালে তারা এটি তৈরি করেন। ৫০০ মানুষ বাস করা জার্মানির স্যালে ভ্যালের মাঝ দিয়ে ৩০ কিলোমিটার জিনা-নমবার্গ রেললাইন দিয়ে ট্রেন যাওয়া-আসা করে। যতক্ষণ ভ্যালের মাঝ দিয়ে ট্রেন যায় ততক্ষণ জীবন্ত আর্টগুলো তাদের নির্ধারিত কাজ করে যায়। দর্শকরাও হাতের মোবাইল বা বই রেখে জানালায় উৎসুক হয়ে ভিড় করে। কোনো টিভি বা স্ক্রিনের পর্দায় নয়, সরাসরি এমন দৃশ্য দেখা যে কারও জন্যই বেশ আনন্দের। এই প্রজেক্টের নাম ‘মুভিং ল্যান্ড আর্ট প্রজেক্ট’। জীবন্ত আর্ট গুলো যে মানুষগুলো নির্মাণ করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪০০ জন ভলান্টিয়ার। এরা সবাই এই ভ্যালেরই বাসিন্দা, আবার কেউ কাজ করেন রেল লাইনেই। সকলে মিলে যাত্রীদের জন্য প্রায় ৫০ ধরনের দৃশ্য প্রদর্শন করেন।


ছবি: সংগৃহীত


স্থানীয় এই পারফর্মাররা প্রতিটি শো তৈরির জন্য ঘন্টাখানেক সময় পান কারণ কিছু সময় পরপরই ট্রেন আসা যাওয়া করে। দৃশ্যগুলো স্বল্প সময়ের হলেও সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। তাদের এই পরিশ্রম বৃথাও যায় না। যাদেরকে আনন্দ দেয়ার এত চেষ্টা তারা বেশ পুলকিতই হয় এসব দেখতে পেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ভ্রমণটাও মনে রাখার মত হয়। এই এলাকাটি সেভাবে টুরিস্ট এলাকা নয়। তবে গ্রাম্য হলেও জায়গাটি বেশ সুন্দর। তাই স্থানীয়রা চান অন্তত ট্রেনের যাত্রীরা যেন তাদের মনে রাখেন, এরপর তাদের দেখার জন্য হলেও আবার আসেন।  

নাবিলা বুশরা  এস এম

তথ্যসূত্র: https://www.germanpulse.com/2017/09/28/germany-entertaining-train-ride/ https:/awol.junkee.com/bewegtes-land-train-performance-art/51457 https:/insh.world/culture/germanys-performance-art-train/ ছবিসূত্র: mymodernmet.com https:/insh.world/culture/germanys-performance-art-train awol.junkee.com


Click Here To See More