টাওয়ার অফ লন্ডন : টেমস নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন এক দূর্গ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : টাওয়ার অফ লন্ডন : টেমস নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন এক দূর্গ

ইতিহাস
অত্যাচারের প্রতীক এই দুর্গের ইতিহাস এতই নিষ্ঠুর যে একে এক ইতিহাসের বই বলা যায়। টেমস নদীর উত্তর তীরে হাজার বছরের পুরনো এই 'টাওয়ার অফ লন্ডন' অবস্থিত। 'টাওয়ার অফ লন্ডন' মূলত ২১টি টাওয়ারের সমন্বয়ে গড়া প্রাচীন এক দুর্গ। এই টাওয়ার গুলি বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট কারণে নির্মিত। ১৯৮৮ সালে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট'-এর আখ্যা পাওয়া এই দুর্গ দেখতে প্রতি বছর প্রায় দু লাখ মানুষ ভীর জমান। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এই দুর্গেই প্রথম এলিজাবেথ কে গোপনে নদী পথ দিয়ে নিয়ে এসে বন্দী করে রাখা হয়। মৃত্যুদণ্ডের শঙ্কায় দিন কাটানো এলিজাবেথ রাজসিংহাসনে বসার খবর এই দুর্গটিতেই বসে পান, মহারাণী মেরীর মৃত্যুর পর।সম্রাট উইলিয়াম ১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেন সুরক্ষার প্রথম ও প্রধান ক্ষেত্র এবং ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে। তবে, তিনি কখনোই হয়তো ভাবেননি হাজার বছর পরেও এটি মানুষের আকর্ষণ হিসেবে থাকবে। সময়ের পরিক্রমায় সেই নর্মান রাজত্ব থেকে বর্তমান দ্বিতীয় এলিজাবেথের সময় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি রাজা বা রাণীর আদেশে এই দুর্গে কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়েছে। 'টাওয়ার অফ লন্ডন' একাধারে যেমন ব্যবহৃত ছিল বাসস্থান এবং বহিঃশত্রুর থেকে সুরক্ষার কেন্দ্র হিসেবে তেমনি টিউডর রাজত্বে এটি ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাচার, শাস্তি এবং শিরোচ্ছেদের স্থান হিসেবে। বর্তমানে এখানে রাণীর রত্নসম্ভার সযত্নে সংরক্ষিত। রানির রত্নসম্ভারের মাঝে সেরা হলো- ‘কোহিনুর’, ‘স্টেট ইম্পেরিয়াল ক্রাউন’, ‘ব্ল্যাক প্রিন্সেস রুবি’, ‘কালিনান হীরে’ সহ বেশ কিছু রাজমুকুট। ‘স্টেট ইম্পেরিয়াল ক্রাউন’ নামে মুকুটটি রানি প্রতি বছর পার্লামেন্ট অধিবেশনের প্রথম দিন পরিধান করেন।
দ্যা ক্রাউন জুয়েল
টাওয়ার অফ লন্ডনের মাঝখানে অবস্থিত ‘দ্যা ক্রাউন জুয়েল’। এখানে রাজপরিবারের মূল্যবান রত্নভাণ্ডার সংরক্ষিত। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য মূল্যবান তরবারি, রাজ্যাভিষেকের সরঞ্জাম, সোনা রুপোর বিশাল আকৃতির প্লেট,গ্লাস,চামচ,সোনার সুরাপাত্র ইত্যাদি। বিশাল নিরাপত্তার আবরণে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে শত শত বছরের পুরনো রত্নভাণ্ডার এবং আসবাবপত্র সমূহ। টুরিস্ট দের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই অংশটিই। দুর্গটির আরও একটি আকর্ষণ হচ্ছে পপি ফুলের গাছ। এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ভাবে তৈরি। ৮ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৬ টি সিরামিকের তৈরি এই পপি গাছের লাল ফুল । দূরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন রক্তের স্রোতধারা। 'টাওয়ার অফ লন্ডন' নিয়ে বেশ কিছু মজার ব্যাপার আছে।প্রায় ৬০০ বছর ধরে পশু সংরক্ষণ করেছে এই দুর্গ। সারা পৃথিবী থেকে উপহার পাওয়া বেশ কিছু পশুর মডেল করে রাখা আছে এখানে। এছাড়াও এই দুর্গে এখন ৭ টি 'রাভেন'-এর বসবাস। দেখতে এরা কাকের মত কিন্তু আকারে বিশাল। বলা হয়ে থাকে , যেদিন রাভেনরা টাওয়ার অফ লন্ডন ছেড়ে যাবে সেদিন ইংল্যান্ডের রাজত্ব ধ্বংস হবে! এ জন্য এই ৭ রাভেনের যত্ন আত্তির কোন অভাব নেই এই দুর্গে! হাজার বছরের পুরনো এই দুর্গ শত শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্ব-মহিমায় ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে এই ’টাওয়ার অফ লন্ডন’ ভ্রমণ আপনার জীবনের বিচিত্র এক অভিজ্ঞতার ঝুলি হয়ে থাকবে বলাই যায়।
মোঃ খালিদ বিন জামান এস এম
