সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান কুড়িগ্রামের টুপামারী পুকুর
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দূর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জেলার একমাত্র পিকনিক স্পট
সবুজ গাছের মেলায় ঘেরা টুপামারী পুকুর। ছবি : দা ডেইলি স্টার
কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম একটি উপজেলা উলিপুর। উলিপুরের উত্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে চোখে পড়ে 'টুপামারী বহুমুখী কৃষি কমপ্লেক্স'। টুপামারী বহুমুখী কৃষি কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে বিশাল এক পুকুর। পুকুরের নাম 'টুপামারী পুকুর'। অনেকের কাছে এটি 'টুপামারী বিল' ও 'টুপামারী দিঘি' নামেও পরিচিত। তবে স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি 'জিয়া পুকুর' নামে সুপরিচিত। পুরো পুকুরটি প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পুকুরের চারদিকে রয়েছে নানা রকম সবুজ গাছের মেলা। ১৯৭২ সালে উলিপুর উপজেলা সমবায় অফিস কর্তৃক কেনা এই জমিতে পুকুর কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় মূলত একটি উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে। ১৯৮০-৮১ সালের দিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় এই পুকুর কাটা হয়। টুপামারী পুকুরের নামের পেছনে রয়েছে আরেক গল্প! বর্তমানে যেখানে এই দৃষ্টিনন্দন পুকুর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে একসময় ছিলো ছোট ডোবার মত জলাশয়। এই ছোট ডোবায় না করা যেত মাছ চাষ আর না করা যেত ফসলের আবাদ। তবে কিছু কিছু দেশি কই মাছ চাষ করা হত।
ছবি : ভ্রমণ গাইড
কই মাছের পোনা এলাকার লোকজনের কাছে ‘কৈটিপি’, ‘কৈটোপা’ নামে বেশি পরিচিত ছিলো। এই কৈটোপা নাম থেকেই পুকুরের নাম হয় টুপামারী পুকুর। পুকুর কাটার প্রায় ৫-৬ বছর পর পুকুরের চারদিকে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা লাগানো শুরু করা হয়। বছরে দুবার এই পুকুরে নানা জাতের মাছ চাষ করা হয়। মাছের পাশাপাশি এখানে চাষ হয় কচ্ছপও। শুধু স্থানীয় মানুষজন নয়, দেশের নানা প্রান্তের মানুষ এই পুকুর দেখতে ছুটে আসেন কুড়িগ্রামে। বিশেষ করে বছরের শুরুর দিকে মানুষের আনাগোনা থাকে বেশি। মানুষের আগ্রহ থাকায় এখানে গড়ে উঠেছে পিকনিক স্পট। পিকনিক স্পটকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। একদিন সময় করে ঘুরে আসতে পারেন কুড়িগ্রামের এই টুপামারী পুকুর থেকে। আপনার মূল্যবান সময় ও শ্রম মোটেও বৃথা যাবে না।
কীভাবে যাবেন : উলিপুরের টুপামারী পুকুর দেখতে চাইলে কুড়িগ্রামে আসতে হবে। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসার জন্য বাসে আসা সবচেয়ে ভালো। বাসে আসতে চাইলে হক চেয়ার কোচ, জবা চেয়ার কোচ, এসবি চেয়ার কোচ, মোল্লা চেয়ার কোচ, হানিফ চেয়ার কোচ ও নাবিন চেয়ারে সরাসরি ঢাকা-কুড়িগ্রামে আসতে পারবেন। এসব বাসে সময় লাগবে সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে আট ঘণ্টা। ট্রেনে আসতে চাইলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে করে সরাসরি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসতে পারবেন। কুড়িগ্রামে নামার পর অটো, ইজিবাইক কিংবা রিকশায় করে টুপামারী পুকুর দেখতে যাওয়া যায়।
যেখানে থাকবেন : উলিপুরে থাকার জন্য বেশি হোটেল নেই। উলিপুরে থাকার হোটেলের মধ্যে রয়েছে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো। এটি উলিপুর বাজারের পূর্বদিকে রেল গেটের কাছাকাছি অবস্থিত। বেসরকারি হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল অলি। উলিপুরের হোটেলে থাকতে না চাইলে কুড়িগ্রাম মূল শহরের বিভিন্ন হোটেলে থাকতে পারেন। কুড়িগ্রামের হোটেলগুলোর মধ্যে মেসার্স হোটেল স্মৃতি, মেসার্স হোটেল মেহেদী, মেসার্স হোটেল আরজি, মেসার্স হোটেল অর্ণব প্যালেস, মেসার্স হোটেল নিবেদিকা উল্লেখযোগ্য।
খাবার : উলিপুরে বেশ কিছু স্থানীয় খাবারের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে জলি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, মৌসুমী হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, তসলিম হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, ওকে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট অন্যতম। উলিপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার- ক্ষীরমোহন মিষ্টি। উলিপুরের পাবনা ভাগ্যলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে পেয়ে যাবেন এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি।
তথ্যসূত্র : https://thekurigramtimes.blogspot.com/2018/09/ulipurs-zia-pukur-taken-turn-to.html http://www.bahumatrik.com/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%A8-%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0/49679 https://thekurigramtimes.blogspot.com/2018/09/ulipurs-zia-pukur-taken-turn-to.html http://www.durgapurup.kurigram.gov.bd/site/tourist_spot/1fac77ad-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0