হরিপুর রাজবাড়ি : ঠাকুরগাঁও জেলার প্রাচীন স্থাপনা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : হরিপুর রাজবাড়ি

দেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হরিপুর রাজবাড়িটি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই প্রাসাদোপম অট্টালিকাটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জানা যায়, মুসলিম শাসনামলে, আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুণ্ডু নামক একজন ব্যবসায়ী এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে হরিপুরে আসেন। তখন, মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম নারী এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। তার বাড়ি মেদিনীসাগর গ্রামে। জমিদারির খাজনা দিতে হতো তাজপুর পরগনার ফৌজদারের কাছে। খাজনা অনাদায়ের কারণে মেহেরুন্নেসার জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুণ্ডু তা কিনে নেন।
ইতিহাস
ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ঘনশ্যামের বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায় ব্রিটিশ শাসনামলে হরিপুর রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন। তবে, ওই সময় কাজটি শেষ হয়নি। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে এসে রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির রয়েছে। জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সমাপ্তকৃত রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার বিভিন্ন নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের উপরে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি আছে। কালের গর্ভে রাজবাড়িতে থাকা একটি বিশাল পাঠাগার হারিয়ে গেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার এই ধারায় আলোকিত জীবনের যে আকাঙ্ক্ষা সেদিন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল তা আজও অনেকটাই বহমান রয়েছে এই হরিপুরে।রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল তাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। ১৯০০ সালের দিকে ঘনশ্যামের বংশধররা বিভক্ত হলে হরিপুর রাজবাড়িও দুটি আলাদা অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। রাঘবেন্দ্র-জগেন্দ্র নারায়ণ রায় যে বাড়িটি তৈরি করেন তা বড় তরফের রাজবাড়ি নামে পরিচিত। এই রাজবাড়ির পশ্চিমদিকে নগেন্দ্র বিহারী রায় চৌধুরী ও গিরিজা বল্লভ রায় চৌধুরী ১৯০৩ সালে আরেকটি রাজবাড়ি নির্মাণ করেন যার নাম ছোট তরফের রাজবাড়ি। ঐতিহাসিক এই রাজবাড়িটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিপুর উপজেলায় অবস্থিত। হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রাজবাড়িটি ধীরে ধীরে লোকচক্ষুর অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত যত্ন ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে আমাদের দেশের এই ঐতিহ্য আজ হারানোর পথে। যদিও সরকারিভাবে সংস্কার করা হলে রাজবাড়িটি টিকে যেতে পারে এবং একে ঘিরে গড়ে তোলা যেতে পারে পর্যটন কেন্দ্র।
যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে বাস এবং রেলযোগে ঠাকুরগাঁও যাওয়া যায়। রাজধানী ঢাকার শ্যামলী ,কল্যাণপুর ও গাবতলি থেকে প্রতিদিন ঠাকুরগাঁও গামী বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায়। ঠাকুরগাঁও পৌঁছে বাস বা অটোরিকশা যোগে যেতে পারবেন হরিপুর উপজেলার জেলার হরিপুর রাজবাড়িতে।এস এম
আরো পড়ুন ঃ চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘুরে এসে জানাচ্ছেন সুমন্ত গুপ্ত
ফেসবুক পেইজঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ