ডেভিস ফলস : হিমালয়ের পাদদেশে অদ্ভুত সুন্দর ঝরনা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : এই ঝরনা আজও লালন করে রেখেছে অদ্ভুত রহস্যকে

উপত্যকা ভেদ করে প্রবাহিত ঝর্নাধারা, ডেভিস ফলস । উপত্যকা ভেদ করে প্রবাহিত ঝর্নাধারা, ডেভিস ফলস । ছবি : Holidify

প্রকৃতি যেন তার দু'হাত ভরে নেপালকে সাজিয়ে তুলেছে। হিমালয় পাদদেশের পর্যটন নির্ভর দেশটি  শহর পোখরা তার অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি এবং জলপ্রপাতের জন্য বিশ্বে ভ্রমণ আগ্রহের শীর্ষে বাস করে। এখানে বেশ কয়েকটি জলপ্রপাত রয়েছে। তার মধ্যে ডেভিস ফলস অন্যতম। এই অনিন্দ্যসুন্দর জলপ্রপাতের পানি ফেওয়া লেকে এসে মিশেছে। পোখারা বিমানবন্দর থেকে মাত্র ২কিলোমিটার দূরে এই অদ্ভুত সুন্দর ঝরনা। মূলত ফেওয়া লেকের পানি এই ঝরনার মূল উৎস। পর্যটকরা এক রহস্যের সন্ধানে  এখানে আসতে পছন্দ করে। তবে বর্ষাকালে এই ঝরনা বেশি সুন্দর লাগে । জলপ্রপাতের কাছে যেতেই আবার দেখা মিলবে দুরন্ত শ্বেতি নদীর। পান্না সবুজ পানি যেন স্বস্তি দেয় চোখকে, শান্ত করে জুড়িয়ে আনে মন-প্রাণ। স্থানীয়দের কাছে ডেভিস ফলস পাতালদাঙ্গে নামেই বেশি পরিচিত। চারধারে রেলিং দিয়ে ঘেরা ডেভিস ফলস দেখে চলে আসা যায় প্রায় ৫০০ বছরের এক পুরনো গুপ্তেশ্বর মহদেব গুহায়। প্যাঁচানো সিঁড়ি নেমে গেছে প্রায় ১০০ মিটার গভীরে। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকের জন্য অমোঘ আকর্ষন এই গুহা এবং এই জলপ্রপাত।

ছবি : সংগৃহীত

ডেভিস ফলস পোখরার অন্যতম আকর্ষণ। এর নামকরন নিয়েও আছে একটি ইতিহাস, আছে রহস্য। ডেভিস ফলস-এর একপাশে রয়েছে একটি বাঁধ। কোনো একসময় যখন বাঁধে পানি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকাকালীন ঝরনায় পানির স্রোত তেমন ছিল না। এক দম্পতি ঝরনায় নেমে গোসল করছিল। কিন্তু ওই সময়ে বাঁধের পানি কিছুটা ছেড়ে দেয়া হলে ঝরনায় পানির ঢল নামে, বেড়ে যায় স্রোত আর চোখের পলকেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় মহিলাটিকে। মুহুর্তেই মহিলাটি হারিয়ে যান স্রোতের সাথে। ৩ দিন অনেক খোঁজাখুজির পরে তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। ডাভি  নামের ওই মহিলার পানিতে ডুবে মৃত্যুর কারনে তার নামানুসারেই এই ঝরনার নামকরন করা হয়।

দুুধের মতো সাদা পানি, ডেভিস ফলস। ছবি : ট্রিপএডভাইজর

 পরবর্তীতে নেপাল সরকার কর্তৃক স্থানটি রেলিং দিয়ে ঘিরে দেয়। খুব বেশি বড় ঝরনা না হলেও সুখ্যাতি রয়েছে এর। এখানে প্রবেশ মুল্য ৩০ রুপি যার পুরো অর্থ একটি স্কুলের তহবিলে চলে যায়। গেটের বাইরে রয়েছে বেশ কিছু দোকানপাট, চাইলে সংগ্রহ করা যায় সুভ্যেনির অথবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তবে মজার ব্যাপার এখানের দামাদামি, যা দাম চাইবে তার ৪০ পারসেন্ট থেকে দামাদামি শুরু করে ক্রেতারা। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। মাঝে মাঝে  মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়। পাহাড়ি উপত্যকা ঘিরে থাকা লেক। নামজাদা বরফমোড়া শৃঙ্গের হাতছানি। সারা পৃথিবীর দশটা শৃঙ্গের মধ্যে আটটা শৃঙ্গই নেপালে। সেই কারণে সারা বছর পর্যটকরা বারে বারে ছুটে আসেন নেপালে। এখান থেকেই হিমালয় চূড়ার দেখা মিলে। অপরূপ সুন্দর পোখরা ভ্যালির চিত্রপটে আঁকা ছবি ডেভিস ফলস আর ফেওয়া লেক সৌন্দর্য বাড়িয়েছে শতগুণ। জ্যোৎস্নায় গোটা উপত্যকা এক অপার্থিব রূপ ধারণ করে। সমস্ত নীরবতাকে ছিন্নভিন্ন করে পুরো উপত্যকা যেন এক মায়াবি আলোর খেলায় মেতে ওঠে।

পর্যটকদের আনাগোনায় পূর্ণ থাকে, ডেভিস ফলস। ছবি : সংগৃহীত

 মায়াবী হিম রাজ্যে সব পর্যটকের সুন্দর সময় কাটুক। আর পর্যটকেরাও প্রকৃতি রক্ষায় সোচ্চার হোক। সবুজ সুন্দর হোক আমাদের পৃথিবী।



তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, ভিডিও ব্লগ