তামাবিল : মেঘালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এক স্থানের নাম তামাবিল
ছবি : অফরোড বাংলাদেশ
সিলেট বিভাগের জৈন্তাপুর জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন পাহাড়ি এক এলাকা তামাবিল। সিলেট থেকে এই জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই জায়গাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় তামাবিল থেকেই শেষের কবিতার সেই শিলং পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সিলেট থেকে সরাসরি কিংবা জাফলং হয়েও তামাবিল যাওয়া যায় রাস্তার দুপাশের বিশাল সব পাহাড় দেখতে দেখতে। তামাবিল থেকে সরাসরি ভারতের অনেকগুলো পাহাড়, ঝরনা, জলপ্রপাত দেখা যায়। সীমান্তের ওপারে কিছু জলপ্রপাত রয়েছে যেগুলো গোধূলির সময় দেখতে অপার্থিব সুন্দর লাগে। অপূর্ব এসব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী চলে আসে তামাবিল সীমান্তে। এই এলাকা দিয়েই চলে গেছে সিলেট-শিলং সড়ক। তামাবিলের অপর প্রান্তেই রয়েছে ভারতের ডাউকি বাজার। শিলং পাহাড়ের পাদদেশে থাকায় শীতকালে সিলেটের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা পড়ে তামাবিলে।
তামাবিল জিরো পয়েন্ট। ছবি : দেস্টি ম্যাপ
খুব জনপ্রিয় একটি জায়গা। চারপাশ ঘিরে থাকা সবুজ পাহাড়ের মাঝে স্বচ্ছ জলের পাথুরে লেকের সামিনে দাঁড়িয়ে মন হারিয়ে যাবে এক নিমেষেই। এখানকার অপূর্ব প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি জিরো পয়েন্টের মাইলফলকের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে কিন্তু দারুণ লাগে। শীতকালে এখানে পানি বেশ শুকিয়ে যায়। তাই বর্ষাকালই এই স্থানে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় বলা যায়। বৃষ্টির পানিতে তামাবিলের জিরো পয়েন্ট পানিতে ভরে এক জলকন্যার রূপ নেয়। সেই সু-শীতল পানিতে চাইলেই গাঁ ভাসিয়ে দেয়া যায় কিছুক্ষণের জন্য। তামাবিলে রয়েছে স্থল শুল্ক বন্দর যেখান থেকে ভারতের সাথে পাথর ও কয়লা আমদানি-রপ্তানি করা হয়। সিলেটের অন্যান্য এলাকার মত এখানেও বেশ কিছু চা বাগানও রয়েছে। এছাড়া তামাবিলে রয়েছে জৈন্তা হিল রিসোর্ট যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের শেষ বাড়ি!
বাংলাদেশের শেষ ঘর, তামাবিল, সিলেট। ছবি : উইকিওয়ান্ড
তামাবিল যেতে হলে প্রথমে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে সিএনজি, অটো রিক্সা, বাস কিংবা হিউম্যান হলারে চড়ে তামাবিল আসতে হয়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেটের দূরত্ব ২৪১ কিলোমিটার। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি সিলেট যাওয়ার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। এই বাসগুলোতে করে ঢাকা থেকে সিলেটে যাতায়াত করতে সাড়ে চার থেকে ছয় ঘন্টার মত সময় লাগে। ঢাকা থেকে সিলেট গামী নন-এসি বাসের মধ্যে ইউনিক সার্ভিস, শ্যামলী পরিবহন, এনা, আল-মোবারাকা, মামুন এন্টারপ্রাইজ, আরপি এলিগ্যান্স, হানিফ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম। ভাড়া ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা। আর এসি বাসগুলো হলো গ্রিন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া, এস আলম পরিবহন, শ্যামলি পরিবহন, লন্ডন এক্সপ্রেস পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন পরিবহন। ভাড়া ৯৫০ থেকে ১,২০০ টাকা। ঢাকা থেকে সিলেট রেল স্টেশনের দূরত্ব ৩১৯ কিলোমিটার।
ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সিলেটগামী ট্রেনে সরাসরি সিলেট আসা যায় সাত থেকে আট ঘন্টার মধ্য। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন অনেকগুলো ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হল পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও কালনি এক্সপ্রেস। এসব ট্রেনের ভাড়া সর্বনিম্ন ২৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ১,০৯৯ টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে দ্রুত সিলেটে পৌছানোর জন্য সরাসরি বিমানে আসা যায়। ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিমানগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দিয়ে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। বিমান বাংলাদেশ, নভো এয়ার, ইউ এস বাংলা এয়ারলাইনস-প্রভৃতি বিমান ঢাকা থেকে সিলেটে রুটে নিয়মিত চলাচল করে। বিমান ভাড়া সর্বনিম্ন ২,৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত।
তথ্যসূত্র : https://bn.m.wikivoyage.org/wiki/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2 http://www.gowainghat.sylhet.gov.bd/site/top_banner/3574eee4-0758-11e7-a6c5-286ed488c766/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9Fhttp://www.sylhetdiv.gov.bd/site/view/tourist_spot https://www.flightexpert.com/blog/dhaka-sylhet-airtickets http://www.railway.gov.bd/site/page/293eb35f-8b6a-4036-898c-fd94437670b4/%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F--%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%9A%E0%A6%BF