তুইনুম ঝরনা : আলিকদম, বান্দরবান

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: আলিকদমের তুইনুম ঝিরিতে অবস্থিত তুইনুম ঝরনা


তুইনুম ঝর্না

ছবি: স্থানীয়ভাবে লম্বা গড়ি কিংবা তুইনুম অ বলেই বেশি পরিচিত এই ঝরনা; ছবি : সংগৃহীত


ট্র্যাকিং স্বর্গ খ্যাত বান্দরবানের গহীন অরণ্যে রয়েছে বেশ কিছু নয়নাভিরাম ঝরনা। পাহাড়ি নদী, সু-উচ্চ সবুজ পাহাড় আর এর কোল ঘেঁষে সৃষ্ট এসব ঝরনা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে সুদীর্ঘ কাল ধরে। আলিকদম উপজেলায় ম্রো সম্প্রদায় অধ্যুষিত ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের তুইনুম ঝিরিতে অবস্থিত এই তুইনুম ঝরনা। আলিকদমের বেশ কিছু জায়গা বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হলেও এখনও যা অবশিষ্ট রয়েছে তা প্রকৃতি প্রেমীদের একেবারে নিরাশ করবে না।

স্থানীয়ভাবে এই এলাকায় ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বহু আগে থেকেই। ম্রো ভাষা অনুযায়ী তারা একে ডাকে তুইনুম অ। ম্রো ভাষারীতিতে তুই অর্থ পানি আর নুম অর্থ কালো এবং অ মানে ঝিরি। ম্রো ভাষায় তুইনুম অ মানে কালো পানির ঝিরি।এছাড়া এই ঝরনার ওপরের এক পাশ থেকে বাঁশ কেটে পানি গড়িয়ে নিচে ফেলা হয় বলে এই ঝরনা লম্বা গড়ি নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন : বান্দরবানের আলীর সুড়ঙ্গ, আলীকদম

কীভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা থেকে আলিকদম যাবার জন্য সরাসরি বাস পাওয়া যায়। এছাড়াও ঢাকা থেকে কক্সবাজার-গামী বাসে করে চকরিয়া নেমেও যাওয়া যায়। চকরিয়া থেকে বাস বা জিপে করে আলিকদম যেতে সময় লাগে ১ঘন্টা ২০ থেকে ৩০মিনিট। জনপ্রতি ভাড়া পড়ে সাধারণত ৬০টাকা। আলিকদম বাসস্ট্যান্ড থেকে আবার অটো নিয়ে যেতে হবে মাতামুহুরী নদীর ট্রলার ঘাটে। এখান থেকে লোকাল ট্রলার ভাড়া করে পেয়ারামুহুরী বাজার অবধি যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। যাওয়া আসায় ট্রলার ভাড়া পড়ে ৬০০-৭০০টাকা।

পেয়ারামুহুরীতে বাজার বসে সাধারণত রবিবারে। মাতামুহুরী ঘাট থেকে সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার পেয়ারামুহুরীর উদ্দেশ্যে ট্রলার ছেড়ে যায়। আর শুক্রবারে পেয়ারামুহুরী থেকে মাতামুহুরী ফিরে আসে এসব ট্রলার। দলে পর্যটক সংখ্যা বেশি হলে অন্যান্য দিনেও ট্রলার পাওয়া যাবে, তবে রিজার্ভ করতে চাইলে গুনতে হবে ৫,০০০-৬,০০০টাকা। লোকাল ট্রলার সাধারণত পেয়ারামুহুরী বাজার পর্যন্ত যায় কিন্তু তুইনুম যেতে হলে নদী ধরে আরও সামনে এগোতে হবে। পোয়ামুহুরী বাজার থেকে মাতামুহুরি ধরে আরও একটু উপরে গেলে হাতের বামে তুইনুম ঝিরি পড়বে। ঝিরি ধরে ১৫/২০ মিনিট হাটলেই অনিন্দ্য সুন্দর এই ঝরনাটির দেখা পাবেন।

আরও পড়ুন : রূপমুহুরী ঝর্ণা, বান্দরবান

যা মনে রাখা উচিত

তুইনুম যাবার জন্য আলিকদমের ক্যান্টনমেন্ট থেকে অনুমতি নিতে হয় এবং অনুমতি দেয়া হয় সাধারণত এক দিনের। তাই রিজার্ভ ট্রলার নিয়ে খুব সকালে গেলে সন্ধ্যার মাঝেই ফিরে আসা যায়। এছাড়া পথে আরও দুইটি ক্যাম্প পড়ে। এরমধ্যে প্রথমটিতে ট্রলার এন্ট্রি করানো হয় এবং পেয়ারামুহুরী বাজারের ওপরে আরেকটি ক্যাম্পেও নিবন্ধন করতে হয়। এখানে পেয়ারামুহুরী বাজারের আগে দেখতে পাবেন আরও দুইটি ঝরনা এবং পেয়ারামুহুরী ক্যাম্পের নিচেও একটি ঝরনা রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকায় ট্র্যাকিং এর সময়ে উপযুক্ত জুতা এবং সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী শুকনো খাবার এবং পানীয় রাখা উচিত।

বি: দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।  

জোহরা মহসীন   এস এম

তথ্যসূত্র: ১। www.voicebd24.com ২। adarbepari.com ৩। www.lrbtravelteam.com


Click Here To See More