জেনে নিন প্যারিসের সুবিশাল নানান দুর্গ সম্পর্কে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্যারিসের দুর্গ

ভালোবাসার শহর প্যারিস ও এর প্রাচীন কালের দুর্গসমূহ


প্যারিসের দুর্গ ফন্টাইনেব্লু রাজপ্রাসাদ

ফন্টাইনেব্লু রাজপ্রাসাদ, দীর্ঘ ৮০০ বছর যাবত এর নির্মাণ কাজ অব্যাহত ছিলো। ছবি : সংগৃহীত


সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণ এক নগরী প্যারিস। রোমান্টিক শহর হিসেবেও এর জনপ্রিয়তা আকাশস্পর্শী। আইফেল টাওয়ার, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং জাদুঘরের এই শহরটি বেশ কিছু কারণে ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক জায়গা। ফ্রান্সের রাজধানী এই প্যারিসে প্রতি বছর প্রায় ১৪ কোটি মানুষ ভ্রমণ করে থাকেন। মূলত এই শহরের আশেপাশে বেশ কিছু দুর্গ কিংবা রাজপ্রাসাদ স্থাপনা রয়েছে। একজন ভ্রমণপিয়াসু হিসেবে সেই দুর্গ এবং স্থাপনা গুলি না দেখলে প্যারিস ভ্রমণ অনেকটাই অপূর্ণ রয়ে যাবে।


প্যারিসের দুর্গ -ফন্টাইনেব্লু রাজপ্রাসাদ :

ইতিহাসের সাথে ১২ শতাব্দীতে ফিরে গেলে দেখা যায়, এটিই যেন তৎকালীন সবচেয়ে বড় এবং সুন্দর প্রাসাদের তকমা পেত। সু-দীর্ঘ ৮০০ বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ অব্যাহত ছিল। এটি একই সাথে মধ্যযুগ, রেনেসাঁ যুগের সংমিশ্রণের এক অপূর্ব স্থাপত্যকর্ম। পর্যটকদের নিকট দুর্গটি শৈল্পিক কাজের এক অন্যতম নিদর্শন। প্রাসাদটিতে চ্যাপেলের পাশাপাশি সু-বিন্যস্ত বাগান, একটি জাদুঘর এবং একটি ছবি প্রদর্শনের জন্য হলরুম ও রয়েছে। মজার ব্যাপার এই যে, প্রাসাদটির অভ্যন্তরে একটি থিয়েটার ও অবস্থিত!

প্যারিসের দুর্গ ছ্যাটাও দ্য শান্তিলি :


প্যারিসের দুর্গ - ছ্যাটাও দ্য শান্তিলি

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঘোড়াশাল অবস্থিত ছ্যাটাও দ্য শান্তিলি দূর্গে, প্যারিস। ছবি : কালচার ট্রিপ


রেনেসাঁ যুগের স্থাপত্যের নিদর্শন এই প্রাসাদটি । এই নির্মাণ কাজ ১৪ শতাব্দীতে শুরু হয়ে ১৮ শতকে শেষ হয়। প্রথম দর্শনেই এর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে হয়। প্রাসাদটির মূল ফটকে ভাস্কর্য আন্নে ডি মন্টমরেঞ্চি ঘোড়ায় বসে পর্যটকদের যেন রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায়। প্রাসাদটির আভিজাত্য প্রকাশ করে এর বাসিন্দারা এখান থেকেই শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। প্রাসাদটির সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গা হচ্ছে এই ঘোড়াশালটি। ২৮ মিটার উঁচু গম্বুজবিশিষ্ট এই স্থাপনাটিতে একত্রে ২৪০টি ঘোড়া রাখা যেত। এটি এখন পর্যন্ত ইউরোপের সবচেয়ে বড় আস্তাবলের একটি। পর্যটকেরা এই জায়গাটি ঘুরে দেখেন , ছবি তুলেন এবং ঘোর-সওয়ারদের জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।


ছ্যাটাও দ্য মন্তে ক্রিস্টো 

প্যারিসের দুর্গ ছ্যাটাও দ্য মন্তে ক্রিস্টো

অ্যালেক্সান্ডার ডুমাস কর্তৃক নির্মিত শৈল্পিক ছ্যাটাও দ্য মন্তে ক্রিস্টো দূর্গ, প্যারিস। ছবি : ট্রিপ এডভাইজর


 আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই এই প্রাসাদটিতে ভ্রমণ করবেন। অ্যালেক্সান্ডার ডুমাসের বিখ্যাত 'থ্রি মাস্কেটিয়ারস' বইটির ব্যাপক সাফল্যের পর তিনি এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। যদিও এটি অন্যান্য প্রাসাদ থেকে বেশ ছোট তবে এর নতুনত্বের কারণে এটি অনেক জনপ্রিয়। অ্যালেক্সান্ডার ডুমাস তার শৈল্পিক মনের অনন্য এক নিদর্শন হিসেবে প্রাসাদটি সাজিয়েছিলেন।

ছ্যাটাও দ্য ভিন্সেনেস 

 ছ্যাটাও দ্য ভিন্সেনেস

ছ্যাটাও দ্য ভিন্সেনেস, উচ্চতায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রাসাদ। ছবি : ট্রিপ এডভাইজর


উচ্চতায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই প্রাসাদটি প্যারিস শহরের একদম প্রবেশপথেই দাঁড়িয়ে। ৭ মিটার গভীর পরিখা দ্বারা এটি বেষ্টিত। এই প্রাসাদটির মাঝে দিয়ে হাটার সময় অনেকেই যেন মধ্যযুগের সময়টাতে ফিরে যান। উঁচু এই প্রাসাদের এক উপরে ওঠার জন্য ২৫০টি ধাপ পাড়ি দিতে হয়!

ছ্যাটাও দ্য ব্রেটেউল 

ফ্রান্সের ন্যাশনাল পার্কের পাশে অবস্থিত ছ্যাটাও দ্য ব্রেটেউল

ফ্রান্সের ন্যাশনাল পার্কের পাশে অবস্থিত ছ্যাটাও দ্য ব্রেটেউল। ছবি : প্যারিস ইনফো


 ফ্রান্সের ন্যাশনাল পার্কের পাশে অবস্থিত এই প্রাসাদটি শিশু, যুবা কিংবা বৃদ্ধ সকলের কাছেই জনপ্রিয়। প্রাসাদ এবং পার্ক উভয়েই একে অপরের আকর্ষণ বাড়িয়েছে পর্যটকদের কাছে। প্রাসাদটি একিই সাথে ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রাসাদটির জাদুঘর কল্পনা এবং বাস্তবের অপূর্ব সংমিশ্রণ যা শিশুদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ছ্যাটাও দ্য পিয়েরেফোন্ডস 

প্যারিসের দুর্গ ছ্যাটাও দ্য পিয়েরেফোন্ডস

ছ্যাটাও দ্য পিয়েরেফোন্ডস কয়েক শতাব্দী ধরে নির্মিত হয়, ফ্রান্স। ছবি : উইকিপিডিয়া


 এই প্রাসাদটির যেন নিজস্ব আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। এই প্রাসাদটির নির্মাণকাল কয়েক শতাব্দী জুড়ে। সর্বপ্রথম এটি নির্মাণ করেন সম্রাট লুইস যা আরেক সম্রাট লুইস(৩) ধ্বংস করেন। পরবর্তীতে সম্রাট নেপলিওন(৩) এটি আবার নির্মাণ করেন। মধ্যযুগে নির্মিত এই দুর্গটি অত্যন্ত সুন্দর এবং রাজকীয় প্রাসাদের মর্যাদাপ্রাপ্ত। প্রাসাদের রুমগুলি অত্যন্ত সুরুচি সহকারে সাজানো হয়েছিলো এবং সব রুমেই মধ্যযুগীয় আবহ বিদ্যমান। ফ্রান্স তথা এই প্যারিস ভ্রমণে এই স্থাপনাগুলো যেকোনো ভ্রমণপিয়াসুর লিস্টে থাকার দাবিদার। প্রাসাদগুলো একই সাথে ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক। প্যারিস ভ্রমণে অবশ্যই এই প্রাসাদ গুলি দেখে আসার চেষ্টা করবেন।  

মোঃ খালিদ বিন জামান   এস এম