দেশে দেশে ভালোবাসা দিবসের রকমফের

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল একেক দেশে ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে আছে অদ্ভুত সব রীতি

 

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে তাজা ফুলের চাহিদাও বেড়ে যায়

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে দেশে দেশে তাজা ফুলের চাহিদাও বেড়ে যায়। ছবি : দা স্কটসম্যান

গোটা বিশ্বজুড়ে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে স্বীকৃত হলেও পূর্ব দেশীয় এবং পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি অনুযায়ী এর উদযাপনে ভিন্নতা দেখা যায়। বেশিরভাগ দেশেই ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হলেও কিছু দেশের নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অন্য তারিখেও ভালোবাসা দিবস পালনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। দেশভেদে ভালোবাসা দিবসের রয়েছে নানা ধরনের আয়োজন। এরই প্রেক্ষিতে ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন দেশের কিছু প্রচলিত আয়োজন তুলে ধরা হচ্ছে।



নিউ ইয়র্ক। ছবি : সংগৃহীত

 যুক্তরাষ্ট্র : উনিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রে ভালোবাসা দিবস উদযাপনের প্রচলন শুরু হয়। প্রথমদিকে ভালোবাসা দিবসে চকলেট এবং রকমারি শুভেচ্ছা-কার্ডের আদানপ্রদান হত প্রেমিক যুগলের মধ্যে। পরে ১৯৮০ সালের দিকে জুয়েলারি কোম্পানি ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে ডায়মন্ডের প্রচলন শুরু করে। এছাড়া ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে হার্ট শেইপড চকলেট, ব্রাউনি, কুকিজ এবং কেকের চাহিদাও তখন বেশ তুঙ্গে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে শুভেচ্ছা কার্ড এসোসিয়েশনের পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, দেশটিতে এদিন প্রতিবছর ১৯ কোটি প্রেমিক-প্রেমিকা ভালোবাসার শুভেচ্ছাকার্ড পান যা পৃথিবীর যে কোন দেশের তুলনায় বেশি।



ভালোবাসার আইকন আইফেল টাওয়ার। ছবি : সংগৃহীত


ফ্রান্স : রাজধানী শহর প্যারিসের খ্যাতি ভালোবাসার শহর হিসেবে। স্বভাবতই ভালোবাসা দিবসের আয়োজনেরও কমতি থাকে না এখানে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্যারিসের ‘লাভ লক’ ব্রিজে তালা আটকে চাবি ছুড়ে দিতেন শিন নদীতে। পরবর্তীতে এখানে তালা লক করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে প্রেমপিয়াসী জনতারা শহরের অন্য একটি ব্রিজ বেছে নেন। রাজধানী শহরের বাইরে ভিলেজ অব সেন্ট ভ্যালেন্টিনকে প্রতিবছর ভালোবাসা দিবস হিসেবে সাজানো হয় মনোরমভাবে। এছাড়া ভালোবাসা দিবসে কার্ড আদানপ্রদানের রীতির জন্মদাতাও ফ্রান্স।



দক্ষিণ কোরিয়ার ভালোবাসা দিবস উদযাপনে চকলেটের দোকানে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে। ছবি : সিএনএন


দক্ষিণ কোরিয়া : গড়পড়তা অন্য দেশের থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ভালোবাসা দিবস উদযাপনের রীতিটা একটু আলাদাই বলা যায়। এদিন নারীরা তাদের পুরুষ সঙ্গীদের বিভিন্নরকম চকলেট উপহার দিয়ে থাকে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এর এক মাস পরে হোয়াইট ডে তে পুরুষেরা রিটার্ন চকলেট প্রদান করে থাকে। এছাড়া এখানে ১৪ই এপ্রিল সিঙ্গেল ডে তে সিঙ্গেলরা ব্ল্যাক নুডলস খেতে একত্রিত হয়।



ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন যেখান থেকে শুরু হয়েছে, ইতালি। ছবি : সংগৃহীত

ইতালি বেশিরভাগ দেশে ভালোবাসা দিবসে বন্ধু, পরিবার সকলের মধ্যে গিফট এবং চকলেট আদানপ্রদানের রীতি থাকলেও ইতালিতে এই দিনটি কেবল প্রেমিক যুগলের জন্যই বরাদ্দ। রোমান্টিক ম্যাসেজ সম্পৃক্ত বাচি পেরুজিনা চকলেট ইতালিয় কাপলদের কাছে বেশ সমাদৃত। প্রচলিত ধারা অনুযায়ী এক বাক্স বাচি পেরুজিনা হ্যাজেলনাট চকলেট বিনিময়ের মানে হচ্ছে চুম্বন বিনিময় করা।

কানাডা :  কানাডার অধিবাসীদের মধ্যে ভালোবাসা দিবসের রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। প্রায় সমগ্র দেশেই জায়গাভেদে বল ড্যান্স এবং পার্টির আয়োজন করা হয় বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে। এছাড়া গোলাপ, কার্ড এবং চকলেটের জনপ্রিয়তা তো রয়েছেই।



ম্যানিলায় ভ্যালেন্টাইন ডে। ছবি : এএফপি

পেরু ও ফিলিপাইন :  বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে ভালোবাসা দিবস পালন করা হলেও পেরু এবং ফিলিপাইনে উৎসবের রীতিটা একটু আলাদা। হাজার হাজার কাপল তাদের সম্পাদিত করার জন্য এই দিনকে বেছে নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভালোবাসা দিবসে গণবিয়ের আয়োজনও বেশ কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া পেরুতে ভালোবাসা দিবসের ফুল হিসেবে অর্কিডকে প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে।



ছবি : সংগৃহীত

ঘানা : প্রচুর চকলেট উৎপাদিত হয় বলে এখানকার অধিবাসীদের নিকট ভালোবাসা দিবস বেশ গুরুত্ববহ। নিজেদের মধ্যে চকলেট আদানপ্রদানের রেওয়াজও বহুল প্রচলিত। ২০০৭ সাল থেকে ঘানায় ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় চকলেট দিবস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



জাপানের ভালোবাসা দিবস। ছবি : সংগৃহীত

জাপান : ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে জাপানে দুই ধরনের চকলেট বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্য 'গিরি-চকো' কেনা হয় বন্ধু, বস, কলিগ এবং ঘনিষ্ঠ ছেলেবন্ধুর জন্য আর 'হন মেই' চকলেট কেনা হয় শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা বা বিশেষ কারো জন্য। দক্ষিণ কোরিয়ার মত এখানেও ১৪ই ফেব্রুয়ারি মেয়েরাই চকলেট প্রদান করে থাকে এবং এক মাস পরে ১৪ই মার্চ হোয়াইট ডে তে ছেলেরা এর রিটার্ন চকলেট উপহার দিয়ে থাকে।



চীন। ছবি : সংগৃহীত

চীন : প্রচলিত ভালোবাসা দিবস নয় বরঞ্চ চীনা রীতি অনুযায়ী সপ্তম চান্দ্র মাসের সপ্তম দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে উদযাপন করে চাইনিজরা। 'কী জি' অথবা 'দা নাইট অব সেভেনস' নামে পরিচিত বিশেষ এই দিনে তারাও ফুল কিংবা চকলেটের আদান প্রদানে সামিল হয়ে থাকে।



চেক প্রজাতন্ত্র। ছবি : সংগৃহীত

চেক প্রজাতন্ত্র : চীনের মত চেক প্রজাতন্ত্রেরও রয়েছে আলাদা ভালবাসা দিবস। পয়লা মে আয়োজিত হওয়া এই দিবসে তারা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে খ্যাত চেরি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে একে অপরের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এবং প্রচলিত ধারা অনুযায়ী ভালোবাসা দিবস পালন করে।



সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক হারে জনপ্রিয় হয়েছে ভালোবাসা দিবস উদযাপন। ছবি : দা ডেইলি স্টার

বাংলাদেশ : ১৯৯৩ সালে সাংবাদিক শফিক রেহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। মতবিরোধ থাকলেও বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই দিনটি। অন্যান্য দেশের মত এখানেও এই দিন উপলক্ষে কার্ড, চকলেট এবং ফুলের আদানপ্রদানও বেশ বেড়ে যায়।   


জোহরা মহসীন   এস এম 


তথ্যসূত্র :  https://www.risingbd.com/lifestyle/news/255765 https://www.jagonews24.com/international/news/213004 https://www.prothomalo.com/photo/international http://www.famousnews24.com/feature/articles