নায়াগ্রা জলপ্রপাতের নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থানগুলো

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নায়াগ্রার কাছেই আছে চোখধাধানো এসব দর্শনীয় স্থান

বিশ্ববাসীর আগ্রহের শীর্ষে থাকা নায়াগ্রা জলপ্রপাত। বিশ্ববাসীর আগ্রহের শীর্ষে থাকা নায়াগ্রা জলপ্রপাত। ছবি : নায়াগ্রা ফলস ইউএস

জলপ্রপাতের কথা বলতে গেলে নায়াগ্রার মত কিছুই নেই। কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা হিসেবে কাজ করা এই নায়াগ্রা, প্রকৃতির এক অপরূপ বিষ্ময়। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য অবলোকন করতে প্রতি বছর ব্যাপক মানুষের ঢল নামে এর দুই পাড়েই। তবে নায়াগ্রার আসল সৌন্দর্য দেখায় মূলত কানাডা থেকে।

এক ঢিলে যদি দুই পাখি মারতেই চান তবে নায়গ্রা জলপ্রপাতে দেখতে হাতে কিছুদিন সময় নিয়ে যান। যাতে নায়গ্রার কাছাকাছি অদেখা এমন কিছু স্থান দর্শন করতে পারেন যা আপনার পিলে চমকে দিবে বারবার। ছবি : ব্রিটানিকা 

নায়াগ্রার আরও কাছে :

কোনো রোমাঞ্চকর ভ্রমণকে সার্থক করার জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু অদ্ভুত এবং মজাদার পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আর তা যদি হয় ভয়ঙ্কর কোনো জলপ্রপাত দর্শন, তাহলে সেই সাথে সতর্ক থাকাটাও জরুরী। বাতাসের প্রবাহ আপনাকে ব্রাইডাল ভ্যালি জলপ্রপাতের দিকে আকর্ষিত করবে। ব্রাইডাল ভ্যালি হলো নায়াগ্রা জলপ্রপাতের মধ্যে ছোট জলপ্রপাত। এবং এর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশে।

আপনাকে একটা কাঠের পাটাতনের উপর দাঁড়াতে হবে যা নেমে আসা পানি থেকে ৬ মিটার উঁচু। আর তারপরেই একটি অসাধারণ দৃশ্য আপনার মনেকে ছুঁয়ে যাবে। প্রকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্য আপনার সকল অবসাদ নিমেষেই দূর করে দিবে। তবে সেক্ষেত্রে জলপ্রপাতের পানি আপনাকে ভিজিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হলো এই যে আপনকে একটি পঞ্চ এবং একজোড়া স্যান্ডেল দেয়া হবে যেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থাও আপনার পোশাককে সুরক্ষিত রাখে হুইলপুল অ্যারোচেয়ার। ছবি : নায়াগ্রা ফলস 

হুইলপুল অ্যারোচেয়ার : যদি আরো কাছ থেকে নায়গ্রা দর্শন করতে চান তাহলে আপনাকে উঁচু জায়গা থেকে দেখতে হবে। যার জন্য অভিনব এক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯১৬ সালে। দড়ির ওপর ঝুলে নায়গ্রা দর্শন করে থাকেন অনেকেই৷ ছয়টি মোটা দড়ির সাহায্যে এই অভিনব পদ্ধতিকে বলা হয় 'হুইলপুল অ্যারোচেয়ার'।

কিন্তু আপনি যদি দুর্বলচিত্তের হন তাহলে এই পদ্ধতিকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। নয়তো হৃদ জটিলতায় ভুগে পুরো ভ্রমণটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনোরকম যান্ত্রিক ত্রুটি জনিত দূর্ঘটনা জিপ লাইনে ঘটেনি। কিন্তু নায়াগ্রার সৌন্দর্য সবচে ভালভাবে বুঝতে হলে এই হুইলপুল অ্যারোচেয়ারের জুড়ি নেই।

ক্লিফটন হিল থিম পার্ক : থিম পার্কের নাম শুনলেই আমাদের মাথায় যা আসে তার ধারেকাছে নেই এই ক্লিফটন হিল থিম পার্ক। এটা নিয়ন আলো, অসাধারণ সাইডশো আর প্রথাগত কিছু রাইডের সমন্বয়ে একটা পার্ক। আপনার উপভোগ করার জন্য বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক সংগ্রহশালাও রয়েছে। এখানে থাকা ‘রিপলি'স বিলিভ ইট অর নট’ জাদুঘরটি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। মিনি গল্ফও বেশ ভাল। অনেকে বলে ক্লিফটন হিল কিছুটা বিপদ্দজনক, কিন্তু সাবধান থাকলে সেটা রোমাঞ্চকরও বটে।



ছবি : সংগৃহীত
নাইটমেয়ার ফেয়ার ফ্যাক্টরী : উদ্দিপনা সৃষ্টিকারী আরেকটি পার্ক হলো নাইটমেয়ার ফেয়ার ফ্যাক্টরী। এর ভূতুড়ে পরিবেশ ভ্রমণের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দিবে কয়েকগুণ। দর্শনার্থীরা যখন ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করেন, তাদের মনে হয় যেন কোনো ভূতুড়ে বাড়ির ভেতটে ঢুকছেন। তাই ধারণা করে নেওয়াই যায়, এই ফ্যাক্টরী দর্শন না করলে অনেককিছুই অভিজ্ঞতার বাইরে থাকবে আপনার।


ফ্লাইং সসার রেস্তোরাঁ। ছবি : সংগৃহীত
ফ্লাইং সসার রেস্তোরাঁ : আপনি যদি ভোজনপ্রেমী হন এবং খাওয়ার জন্য কোনো ঘরোয়া পরিবেশ খুঁজছেন তবে আপনার ভ্রমণতালিকায় ঝুলন্ত সসার রেস্তোরাঁর নাম থাকা চাই ই চাই। আপনি একবার যদি এর ভেতরে প্রবেশ করেন তবে মনমতো পরিবেশে নিশ্চিন্তে রাতের পেটপূজো সেরে নিতে পারবেন। সুলভ মূল্যে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে সুস্বাদু খাবার পরিবেশনে এদের বেশ সুনাম রয়েছে।

আপসাইড ডাউন টাউন হাউজ : কল্পনা করুন একটি বাড়ি যেটা উল্টোভাবে তৈরি। বাড়ির ছাদ মাটির সাথে লাগানো-এমন বাড়ি যদি শুধু কল্পনাতেই সম্ভব তা কিন্তু নয়। আপনি চাইলেই সরাসরি দেখতে পারেন। আর দেখতে হলে যেতে হবে আপসাইড ডাউন টাউন হাউজে। আপনার মধ্যাকর্ষণ শক্তি একই থাকবে শুধু ঘরের থাকা জিনিষগুলোকে উল্টো দেখতে পাবেন। এটি খুব অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা যা আপনি মনে রাখবেন সারাজীবন।



উল্টোভাবে তৈরি বাড়ি। ছবি : পিন্টারেস্ট
নায়গ্রার আশেপাশে মূলত এই কয়েকটি এলাকা আপনার ভ্রমণ পিপাসাকে পরিতৃপ্ত করতে সক্ষম হবে। নায়গ্রা জলপ্রপাত নিঃসন্দেহে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর জায়গা একথা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। কিন্তু সেইসাথেই ভ্রমণের আনন্দ যদি আরেকটু বাড়িয়ে চান তাহলে এই স্থানগুলো ঘুরে আসতে ক্ষতি কি।