পুরান ঢাকায় নিরামিষ খাবারের রেস্তোরাঁ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভোজন রসিকদের পুরান ঢাকা ও বিখ্যাত নিরামিষ হোটেল



নিরামিষ খাবারের রেস্তোরাঁ jogonnath

পুরান ঢাকায় যেমন মশলাদার খাবারের বিশাল বহর রয়েছে তেমনি রয়েছে নিরামিষ খাবারেরও জনপ্রিয়তা; ছবি : ক্যানভাস ম্যাগাজিন ডট কম


মাছে-ভাতে মিলেই বাঙালি। মাছ ছাড়া যেমন বাঙালির চলে না, তেমনই শাক-সবজির পদ ছাড়াও খাবার পরিপূর্ণতা পায় না। রুচিতে ভিন্নতা আনতে একদিন খেয়ে দেখতেই পারেন শাকসবজির নিরামিষ, তার ওপর পুষ্টিগুণ তো আছেই। খাওয়া-দাওয়া যদি শিল্প হিসেবে ধরা হয়, তবে পুরান ঢাকা সেই শিল্পের এক অন্যতম চালিকা শক্তি। পুরান ঢাকা মানেই আমাদের কাছে বিরানি, কাচ্চি, মশলাদার খাবার ইত্যাদি। তবে পুরান ঢাকাতে এসবের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন নিরামিষ খাবারের দোকান, যেখান থেকে কম দামে পেটপুরে তৃপ্তির সাথে খাওয়া যাবে। ঢাকার মধ্যেই কম দামে উচ্চ মানের এসব নিরামিষ রেস্তোরাঁর গল্প আজ জানানো হবে।

আরও পড়ুন : পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলো

বিষ্ণুপ্রিয়া হোটেল, তাঁতিবাজার
তাঁতিবাজারে সবচেয়ে পুরনো নিরামিষ হোটেল এটি। প্রথমেই ট্রে-তে করে আপনার সামনে হাজির হবে ভাপ ওঠা গরম ভাত। এরপর আরেকটি ট্রেতে করে আপনার সামনে আসবে ১০-১২ রকমের নিরামিষ পদ। এতে থাকবে ডাল, ভর্তা, লাউশাক, বাঁধাকপির তরকারি, পনিরের ডালনা, ছানার ধোকা, পটল-সরিষার তরকারি, কাঁঠালের সবজি সহ নানান খাবার। ঋতু অনুযায়ী খাবারে সবজির ভিন্নতা ও সে অনুযায়ী সবজি রান্না করা হয়। ১০০ টাকার মধ্যে পেটপুরে খাওয়া যাবে সুস্বাদু এসব খাবার। সকাল ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এখানে খাবার পাওয়া যায়। সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি রেস্তোরাটি বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও।

জগন্নাথ ভোজনালয়


নিরামিষ খাবারের রেস্তোরাঁ জগন্নাথ-ভোজনালয়-এর-নিরামিষ-ভোজ-–-

হরেক রকমের এমন খাবার পরিবেশন করা হয় হোটেলগুলোতে; ছবি : ভুরিভোজ ডট কম


 নিরামিষ প্রিয়দের কাছে জগন্নাথ ভোজনালয় হতে পারে আদর্শ রেস্তোরাঁ। তাতি বাজার শিবমন্দিরের পাশেই অবস্থান জগন্নাথ ভোজনালয়ের। হাত ধোয়ার সাথে সাথেই আপনার টেবিলে চলে আসবে ভাতের প্লেট। তারপর ছোট ছোট বাটিতে করে হরেকরকম সবজি চলে আসবে আপনার টেবিলে। আপনি আপনার পছন্দমতো সবজির তরকারি তুলে নিতে পারবেন। জগন্নাথ ভোজনালয়ের মেন্যুতে রয়েছে করলা ভর্তা, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, পনিরের তরকারি, ছানার তরকারি, মুগ ডাল, খেসারি ডাল, কাচা কলার তরকারি, আমড়ার চাটনি, বেগুনী, পাকোড়া আর শেষপাতে পায়েসসহ আরও অনেক কিছু। হোটেলটিতে নিরামিষ পাঁপড়, সয়াবিন বড়ি, আলুর চিপস ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। খুবই স্বল্পমূল্যে এখানে খাবার বিক্রি করা হয়। এছাড়া হোটেলের পরিবেশও বেশ উন্নত।

আরও পড়ুন : পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং : সুমন্ত গুপ্তের ভ্রমণ গল্প

আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টে, তাঁতিবাজার

তাঁতিবাজার শিবমন্দিরের কাছেই পাবেন আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টের মজাদার খাবার। এখানে শুধু ভাত আর ডাল পাবেন মাত্র ২৫ টাকায়; এছাড়া অন্যান্য সবজি প্রতি প্লেট মাত্র ৫০ টাকা। টাকার পরিমাণ যেমন কম, খাবারের মান ও স্বাদ তেমনই ভালো। বাসায় নিয়ে গিয়ে খাবার জন্যে রয়েছে পার্সেল সুবিধা। আদি গোবন্দ রেস্টুরেন্টে প্রায় ৮-১০টি নিরামিষ খাবারের পদ তৈরি করা হয়। ফ্রিজের ব্যবস্থা নেই বলে প্রতিদিন নতুন নতুন সবজি কিনে নিত্য নতুন খাবার রান্না করা হয়। তাঁতিবাজারের শুধু এই তিনটি রেস্টুরেন্টই নয়, তাঁতিবাজার থেকে শাঁখারিবাজারের প্রায় প্রতিটি মোড়েই রয়েছে নিরামিষ খাবারের হোটেল, সন্ধ্যায় নাস্তার খাবার, মিষ্টি ইত্যাদির আয়োজন । এছাড়া কিছুক্ষণ পরপরেই আশেপাশের মন্দিরগুলো থেকে আরতির শব্দ ভেসে আসে। সবমিলিয়ে রাতের পুরান ঢাকা হয়ে ওঠে জমজমাট। এছাড়া স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরেরও নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়।  

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম 


তথ্যসূত্র: https://m-bdnews24-com.cdn.ampproject.org/v/s/m.bdnews24.com/amp/bn/detail/lifestyle/695565?amp_js_v=a3&_gsa=1&usqp=mq331AQFKAGwASA%3D#aoh=15956054213410&referrer=https%3A%2F%2Fwww.google.com&_tf=From%20%251%24s