নিরিবিলি পিকনিক স্পট : প্রাকৃতিক ও আধুনিকতার মিশেলে গড়া বিনোদন কেন্দ্র
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নড়াইলের অবস্থিত পার্কটি ১৪ একর জায়গা নিয়ে নির্মিত

অসংখ্য পাখির কলকাকলি, ফুলের শোভা আর গাছপালার ছায়ায় এখানে আগত পর্যটকরা খুঁজে পান প্রশান্তির বাতাবরণ। খুলনা লক্ষীপাশা রুটের সাথেই রাস্তার উত্তর দিকে চোখে পড়বে সুবিশাল গেট। এই গেট দিয়ে সুপ্রশস্থ রাস্তা ধরে কয়েকশ গজ ভেতরে এলেই পেয়ে যাবেন প্রথম প্রবেশদ্বার। এই প্রবেশ পথের পাশে পজু শাহের মাজার অবস্থিত। এই প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে সোজা এলেই পেয়ে যাবেন এই পিকনিক স্পটের প্রশাসনিক ভবন। এই ভবনের দোতলায় রয়েছে রেষ্ট হাউজ ও এস.এম সুলতান আর্ট গ্যালারী। এস.এম সুলতানের আঁকা অনেকগুলো পেশীবহুল ছবি রয়েছে এখানে।
এই ভবনের সামনেই আছে চমৎকার একটি হংস ফোয়ারা। দুটি রাজহংস পানিতে পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখানে। এই ফোয়ারার ডানপাশে একটি পুকুর রয়েছে। এই পুকুরে আছে শাঁনবাধা ঘাট ও চমৎকার একটি ঝুলন্ত ব্রিজ। এই ঘাটটিতে রয়েছে বসার জন্য দুটি বড় ঠেস বেঞ্চি আর উপরে ছাউনি। এই বেঞ্চিতে বসে পুকুরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। পুকুরটির চার কোনায় রয়েছে চারটি ডলফিন ফোয়ারা। ঝুলন্ত ব্রিজের মাঝে রয়েছে একটা বিশেষ ধরণের ছাউনি। খড়ের তৈরি এ ছাউনির নিচে ব্রিজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বেশ ভালো লাগবে। এই পুকুরটিতে নৌকায় চড়ার ব্যবস্থা আছে। নামমাত্র ভাড়ায় কিছুক্ষণের জন্য এ নৌকায় চড়তে পারবেন। নৌকা নিজ হাতে চালাবার জন্য ব্যবস্থা আছে এখানে। এই পুকুরের উত্তর পাশটায় দেখতে পাবেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও চিত্র শিল্পী এস. এম. সুলতানের প্রতিমূর্তি।
এখান থেকে একটু বামে গেলেই চোখে পড়বে শিশুদের জন্য তৈরি চরকা। আরও আছে দোলনা ও টার্নিং কার। সুন্দর গোলাকার রাস্তায় ব্যটারী চালিত গাড়িতে চড়ে বাচ্চাদের মন আনন্দে ভরে উঠে। একদম নামমাত্র ভাড়ায় এই গাড়িটি শিশুরা ড্রাইভ করতে পারে।
আরও পড়ুন : চিত্রা নদীর তীরে অবস্থিত চিত্রা রিসোর্ট : নড়াইল

আরও পড়ুন : প্রায় ২০০ বছর পূর্বে তৈরি নড়াইলের বাধাঘাট
বাগানের পেছনে এসে পুকুরের ঝুলন্ত ব্রিজ পার হয়ে পুকুরের পূর্ব পাড়ে আছে মিনি মিউজিয়াম। এই মিউজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ তিমি মাছের কঙ্কাল। ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটিকে সংগ্রহ করা হয় বাগেরহাটের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে। জাতীয় যাদুঘর ছাড়া তিমির এতবড় কঙ্কাল বাংলাদেশের আর কোথাও নেই।
পিকনিক আয়োজনের সকল ব্যবস্থা রয়েছে এই স্পটটিতে। একসঙ্গে অনেকগুলো পিকনিকের আয়োজন করার জন্য এখানে বিভিন্ন স্থানে পঞ্চাশটির অধিক রেডিমেড চুলা রয়েছে। ঝামেলাহীনভাবে পিকনিক আয়োজনের জন্য তাই এই জায়গাটির তুলনা নেই।
রাতে থাকার জন্য নিরিবিলি পিকনিক স্পটে উন্নত মানের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। খুব অল্প ভাড়ায় এখানে যে কেউ রাত্রিযাপন করতে পারেন অনায়াসে। এই আবাসিক রুমগুলোতে প্রশস্থ বেলকুনি, খোলামেলা জানালা, এটাস্ট বাথ, পরিচ্ছন্ন বেড, ও বয় সার্ভিস রয়েছে। এছাড়াও আছে ভিআইপি রুম। একা কিংবা পরিবার নিয়ে থাকার জন্য দারুণ এক ব্যবস্থা এই আবাসিক।
যেভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সড়কপথে বাসে করে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগে নড়াইল পৌঁছতে। নড়াইল পৌঁছে রিকশা অথবা ভ্যানে করে খুব সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন নিরিবিলি পিকনিক স্পটে।
রুবাইদা আক্তার এস এম