পাঁচ নদী দিয়ে বেষ্টিত পাঞ্জাব প্রাকৃতিকভাবে যেমন সুন্দর তেমনই সমৃদ্ধ এর ইতিহাস। কাশ্মীর, হারিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং রাজস্থান দিয়ে ঘেরা এই পাঞ্জাব প্রদেশটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্যের বিচিত্র উপাদানে সমৃদ্ধ। ঋগবেদে এই জায়গাটিকেই সপ্তসিন্ধু বলে অভিহিত করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন পুরাণ কাহিনীতে এই জায়গাটি বেশ গুরুত্ব বহন করে। বলিউডের ছবির বিভিন্ন রোমান্টিক দৃশ্যধারন প্রায়ই পাঞ্জাবের সুবিশাল সর্ষে জমিতেই নেয়া হয়। একজন ভ্রমণপিয়াসুকে মুগ্ধ করার অসংখ্য উপাদানে সমৃদ্ধ এই পাঞ্জাব প্রদেশটি। চলুন পাঞ্জাবের বিখ্যাত জায়গা নিয়ে জেনে নেয়া যাক।
অমৃতস্বর :
অমৃতস্বরের বিখ্যাত স্বর্ণ মন্দির; ছবি : ব্রিটানিকা
শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার পরিচয় বহন করে। স্বর্ণের গম্বুজবিশিষ্ট এই স্বর্ণ মন্দিরটি পৃথিবীজুড়েই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এছাড়াও জালিয়ানওয়ালা বাগ, ওয়াগাহ বর্ডার ইত্যাদিও পর্যটকদের নিকট সমান জনপ্রিয়।
পাঞ্জাবের রাজধানী চান্দিগারহ ভারতের মেট্রো সিটির মাঝে একটি। পাঞ্জাব ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই শহরটি প্রাচীন এবং আধুনিকতার এক সংমিশ্রণ। পুরো ভারতের পরিচ্ছন্ন শহর গুলির মাঝেও এটি অন্যতম।
এখানে অবস্থিত রক গার্ডেন, সুখানা লেক, জাকির হোসেন রোজ গার্ডেন, ডল মিউজিয়াম এবং পিঞ্জর গার্ডেন ভ্রমণপিয়াসুদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয়।
লুধিয়ানা :
মহারাজা সঞ্জিত সিং যুদ্ধ জাদুঘর, লুধিয়ানা; ছবি : ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া
লুধিয়ানা, আপনার পাঞ্জাব ভ্রমণ তালিকার অন্যতম সুন্দর এক গন্তব্য হতে পারে। এখানে অবস্থিত মিউজিয়াম স্থানীয় জীবনযাত্রার সুন্দর প্রদর্শনীর এক প্রতিচ্ছবিই যেন। এছাড়াও ওয়াইল্ড লাইফ চিড়িয়াখানা, এমিউজমেন্ট পার্ক বাচ্চাদের সুন্দর সময় কাটানোর জন্য সুন্দর এক জায়গা।
এখানের খাবারও মুখরোচক যা পর্যটকেরা বেশ উপভোগ করেন। এখানে অবস্থিত 'মহারাজা সঞ্জিত সিং যুদ্ধ জাদুঘর', 'রুরাল লাইফ মিউজিয়াম' এবং 'ফিলাউর দুর্গ' বেশ জনপ্রিয় পর্যটকদের মাঝে।
পাঞ্জাবের উল্লেখযোগ্য জায়গার তালিকা করা হলে এটিই প্রথমদিকেই থাকবে। প্রাচীন এই শহরটি শিখসহ হিন্দুদের নিকটেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শান্ত-স্নিগ্ধ শহরটি বেশ পর্যটন সমৃদ্ধ। এখানের শপিং মলও বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও এখানে অবস্থিত ওয়ান্ডারল্যান্ড, দেবী তালেব মন্দির, সায়েন্স সিটি এবং নিকু পার্কে বহু পর্যটকের সমাগম হয়ে থাকে।
ভাটিন্ডা :
কালী মুবারাক, ভাটিন্ডা; ছবি : উইকিমিডিয়া
পাঞ্জাব ভ্রমণে ভাটিন্ডায় ভ্রমণ একদমই মিস করা উচিত নয়। ইতিহাসে বিখ্যাত মাহমুদ গাজনী, মুহাম্মাদ ঘরী, পৃথ্বীরাজ চৌহান এখানেই যুদ্ধ করেছেন এবং রাজত্ব শাসন করেছেন। বেশ কিছু ল্যান্ডমার্ক স্থাপনার কারণে শহরটির বেশ দ্রুত উন্নয়ন ঘটেছে।
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে শহরটি প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানের বিখ্যাত জায়গাগুলি হচ্ছে কিলা মুবারক, রোস গার্ডেন এবং জগার’স পার্ক।
পাঞ্জাব প্রদেশের চতুর্থ বৃহত্তম শহর এই পাটিয়ালা। সংবাদপত্রের তীর্থভূমি এই শহরটিতে রয়েছে মুঘল এবং রাজপুত শাসনামলের বেশ কিছু নিদর্শন। আপনি ইতিহাসপ্রেমী হয়ে থাকলে এই শহর আপনাকে একদমই হতাশ করবে না।
এখান থেকেই আপনি অথেনটিক পাঞ্জাবি, ঝুটিস, পারান্দাস সহ ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই পাবেন। এখানের বিখ্যাত জায়গার মাঝে মতিবাগ প্রাসাদ, কালি মাতা মন্দির, বাহাদুরগরহ দুর্গ এবং শীষ মহল অন্যতম।
কাপুরথালা :
কাপুরথালা সৈনিক স্কুল; ছবি : উইকিপিডিয়া
পাঞ্জাবের প্যারিস নামে পরিচিত কাপুরথালা খুব একটি জনপ্রিয় নয়। এখানে অবস্থিত নিদর্শনসমুহ ফ্রেঞ্চ এবং ইন্দো-সারাচেন ধাঁচের। এছাড়াও শহরটি ভ্রমণে বেশ কিছু মজার ইতিহাস এবং ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে পারা যায়। জগতজিত প্রাসাদ, মুরিস মসজিদ, শালিমার ঘাট, কাঞ্জি ওয়েটল্যন্ড এখানের বিখ্যাত কিছু স্থাপনা।
মুখরোচক খাবার এবং ভ্রমণ সহায়ক পরিবেশ হিসেবে পাঞ্জাব ভ্রমণের জন্য বেশ সুন্দর এক গন্তব্য হতে পারে। পাঞ্জাবের এক এক শহর আপনার ভ্রমণের ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা দিবে। পাঞ্জাব ভ্রমণে উল্লেখিত স্থান বেশ আপনার ভ্রমণের এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে যেন বলাই যায়।