পামির মালভূমি : পৃথিবীর ছাদ হিসেবে পরিচিত সর্বোচ্চ ভূমি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পামির মালভূমি : সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ফুট উচ্চতার মালভূমি

টেবিলল্যান্ড
মূলত এক বা একাধিক পাহাড়ের চূড়া একত্র হয়ে এসব সমতল স্থান গঠিত হয়েছে। অনেকের মতে, মালভূমি দেখতে অনেকটা টেবিলের মতো, কারণ চারদিকে খাড়া ঢালের উপর সমতল ভূমির অবস্থান। তাই মালভূমি টেবিলল্যান্ড নামেও পরিচিত।
পামির
মালভূমিটাকে পামির (Pamir) বলা হলেও শব্দটি মূলত পমির। যার অর্থ সূর্যের পা। মিডলটন এবং থমাসের মতে, ‘পামির’ একটি ভূতাত্ত্বিক শব্দ। একটি পামির পর্বত দ্বারা বেষ্টিত, একটি সমতল প্লেট বা U আকৃতির উপত্যকা, একটি হিমবাহ বা বরফের ক্ষেত্র, একটি পাথুরে সমতল। পামির মালভূমি বহু উঁচু পর্বতমালার মধ্যবর্তী সমতলস্থল। পৃথিবীর সর্বোচ্চ কয়েকটি পর্বতের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে এই মালভূমির সৃষ্টি। তাই একে পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি বলা হয়। মালভূমিটি শুধু সর্বোচ্চই নয়, এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় মালভূমি অঞ্চল। তাই একে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর ছাদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পামির মালভূমির উচ্চতা প্রায় ১৬ হাজার ফুট। মালভূমিটির প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। চারপাশে অনেক উঁচু-নিচু পর্বতসারি ছড়িয়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি পর্বতমালার মিলনস্থল এটি। পামিরের বিস্তার আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং চীন প্রভৃতি দেশের অংশ নিয়ে। তিব্বতেও পড়েছে এর কিছু অংশ।
শীতের সময় এখানে প্রচুর তুষারপাত হয়। এসময় গড়ে প্রায় ৫ ইঞ্চির মতো তুষারপাত হয়। গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব থাকে খুব অল্প সময়ের জন্যে। এই সময় এইসকল অঞ্চলে প্রচুর ঘাস জন্মে। এই ঘাসের ওপর এখানকার গবাদি পশু চাষ অনেকাংশে নির্ভর করে। পামির মালভূমির পশ্চিমপ্রান্তে কয়লাখনির আবিষ্কার এই অঞ্চলের জন্যে ছিল এক বিরাট বিস্ময়। ১৯৮০ সালের দিকে তাজাকিস্তানের কাছে এই মালভূমিতে ক্লাইনোহিউমাইট নামে এক ধরনের দুর্লভ রত্ন পাথরের সন্ধান পাওয়া যায়।
পৃথিবীর সবচাইতে উঁচু সড়ক
তাজাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ ঘেঁষে রয়েছে 'চায়না কারাকোরাম হাইওয়ে' যা 'ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩৫' বা 'চায়না-পাকিস্তান মিত্র সড়ক' নামেও পরিচিত। এটিকে পৃথিবীর সবচাইতে উঁচু সড়ক বলা হয়ে থাকে। এই সড়কের মাধ্যমে চায়না ও পাকিস্তানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। ১৫ হাজার ৪৬৬ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই রাস্তাটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রও বটে। এছাড়াও পৃথবীর দ্বিতীয় উচ্চতম মহাসড়ক 'এম-৪১' বা 'পামির মহাসড়ক' যার উচ্চতা প্রায় ১৫ হাজার ২৭০ ফুট এই অঞ্চলেই অবস্থিত। আফগানিস্তানের মাজারি শরীফ, উজবেগিস্তানের তারবিজ এবং তাজকিস্তানের দুসানবে এবং খরগকে সড়কটির সূচনা ধরা হয়। তবে সবকটি রাস্তা একত্র হয়ে শেষ হয়েছে কিরগিজিস্তানের ওশ শহরে।
নাবিলা বুশরা এস এম
