পুতুল দ্বীপ : মেক্সিকোর রহস্যময় ভূতুড়ে দ্বীপ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : আইল্যান্ড অব দ্যা ডলস : ম্যাক্সিকোর ভূতুড়ে পুতুল দ্বীপ

অবস্থান
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকো জেলায় এই দ্বীপটি অবস্থিত। এই ভয়ঙ্কর দ্বীপের নাম 'পুতুল দ্বীপ'। মেক্সিকান ভাষায় এই দ্বীপের নাম “ইস্লা দ্যা লাস মিউনিকাস” বা “আইল্যান্ড অব দ্যা ডলস”। অদ্ভুত এই দ্বীপে আসলে দেখবেন গাছের ডালে ঝুলছে পুতুল, ছোট পরিত্যক্ত ঘরের দেয়ালে ঝুলছে পুতুল।
দ্বীপজুড়ে শুধুই পুতুল আর পুতুল
এই পুতুলগুলো দেখতে মোটেই মনোরম নয়। ভীষণ পুরনো আর কাঁটা-ছেঁড়া ধরণের এই পুতুলগুলো দেখতে বেশ ভয়ানক। গা ছমছম করা পরিবেশ আর বীভৎস সব পুতুলের বাস এই দ্বীপে। মাথা ছাড়া, অর্ধেক শরীর অথবা পুরো পুতুল ঝুলে রয়েছে দ্বীপের এখানে সেখানে। যেদিকেই তাকাবেন সেদিকে শুধু বিদঘুটে পুতুল আর পুতুল চোখে পড়ে। মনে হবে যেন আপনি কোনও হরর মুভির শ্যুটিং সেটে চলে এসেছেন। নির্জন এই দ্বীপে শুধু পুতুলেরই বাস। এখানে নেই কোনও জনবসতি।রহস্যময় ইতিহাস
এই দ্বীপে এতো পুতুল কীভাবে এলো তা নিয়ে রয়েছে নানা রহস্যময় গল্প। প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ বছরের আগের কথা।আরও পড়ুন : জোন অব সাইলেন্স : ম্যাক্সিকোর অদ্ভুতুড়ে এক মরুভূমি

আরও পড়ুন : দ্বীপ সোনাদিয়া : অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হাতছানি

সম্প্রতি আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে
২০০১ সালের দিকে এখানে আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। একদিন ডন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেটিকে নিয়ে সেই খালে মাছ ধরছিলেন যেখানে শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। মাছ ধরতে ধরতে একটা সময় জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেকে বলেন পানির নিচ থেকে কেউ যেনও তাকে ডাকছে। এই ঘটনার কিছুদিন পরই জুলিয়ানের মৃতদেহ সেই খালে পাওয়া যায়। অপরূপ নীল জলরাশি ও সবুজের মায়ায় গড়া এই দ্বীপে খুব একটা পর্যটকদের আনাগোনা নেই। কারণ এই বিদঘুটে পুতুলগুলোকে দেখে রাতে পর্যটকরা দুঃস্বপ্ন দেখেন। এই দ্বীপ সম্পর্কে মানুষের এই ভীতি দূর করতে মেক্সিকান সরকার ১৯৯০ সালে এটিকে 'ন্যাশনাল হেরিটেজ' ঘোষণা করে। এই দ্বীপটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। পুরো বছরজুড়ে মোটে ২০-৩০ জনের বেশি পর্যটক এই দ্বীপমুখী হন না। পর্যটকদের মধ্যে যারা বেশ সাহসী ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় শুধু তারাই এখানে আসেন।রুবাইদা আক্তার এস এম