ফ্লাওয়ার টানেল : বিশ্বের চোখজুড়ানো সব সুড়ঙ্গ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ফ্লাওয়ার টানেল
ট্রাভেল বাংলা ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। তাইতো বিশেষ দিনগুলোতে আমরা ফুল দিয়েই একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাই। ফুলের বিশুদ্ধতায় নিজেদের পবিত্র করে নেই। ভাবুনতো রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন আর রাস্তার দুপাশে সারি সারি ফুলের গাছ । চোখজুড়ানো এই ফুলগুলো যেন আপনাকে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। কল্পনা নয়, বাস্তবেই এরকম কিছু টানেল রয়েছে যেখানে ফুলের সৌন্দর্যে স্বর্গ যেন পৃথিবীতেই ধরা দিয়েছে। ফুলের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা তেমন কিছু টানেলের গল্প বলা হবে আজ। যেখানে শুষ্ক, জরাজীর্ণ টানেল হয়ে উঠেছে ভালোবাসার প্রতীক, নির্মলতার প্রতীক।

উইস্টেরিয়া টানেল, জাপান :
এই ফুলের রঙ ও সৌরভে ভরপুর উইস্টেরিয়া টানেলটি জাপানের কাওয়াজি ফুজি গার্ডেনে অবস্থিত। টোকিও থেকে ৬ ঘন্টার দূরত্বের কিতাকিয়াসু অঞ্চলে অবস্থিত এই বাগানটি। ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত বাগানটির সৌন্দর্যে আরেকটি বিশেষত্ব যোগ করেছে উইস্টেরিয়া টানেলটি। টানেলটিতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির উইস্টেরিয়া গাছ রয়েছে। ২০ টিরও বেশি রঙের ভিন্নতায় টানেলটি হয়ে উঠেছে ছবির ক্যানভাস। রঙের প্রাচুর্যতায় টানেলটির নিচে হেটেঁ যাবার সময় যে কারোরই নিজেকে ফুলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া রাজকন্যা মনে হতে পারে। উইস্টেরিয়া ফুলগুলো ফোটে মূলত এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে। তাই উইস্টেরিয়া টানেলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে।
টানেল অফ লাভ, ইউক্রেন :
নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে টানেলটির সৌন্দর্যে এটি ভালোবাসার সুড়ঙ্গে পরিণত হয়েছে। সুড়ঙ্গটির দুইপাশের গাছের সৌন্দর্য দেখতে এখানে বিভিন্ন দেশথেকে পর্যটকদের সমাগম ঘটে। সুড়ঙ্গটিকে কেন্দ্র করে কিছু জনশ্রুতিও প্রচলিত রয়েছে। ধারণা করা হয়, ভালোবাসার মানুষের সাথে এখানে এসে কিছু চাওয়া হলে সেই আশা পূরণ হয়ে থাকে। ইউক্রেনের ক্লেভেন ও ওর্জিভ গ্রামের মাঝে অবস্থিত একটি রেললাইনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই সুড়ঙ্গটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে রেলপথে মিলিটারি অস্ত্রশস্ত্র নেয়ার সুবিধার কাজের জন্য রেলপথের দুইপাশে লাগানো হয়েছিল সারি সারি গাছ। পরবর্তীতে দুইপাশের গাছগুলো মিলে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি করে।
জাকারান্ডাস ওয়াক, দক্ষিণ আফ্রিকা :
প্রায় ১০ মিলিয়নেরও বেশি জাকারান্ডাস গাছের আচলে যেন ঢাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরটি। মনে করা হয় মনুষ্যসৃষ্ট এটিই সবচেয়ে বড় বনভূমি। প্রায় ৫০ রকম প্রজাতির জাকারান্ডাস গাছগুলো প্রায় ১ শতাব্দী আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় লাগানো হয়। অক্টোবর মাসে জাকারান্ডাস গাছগুলো ফুলে ছেয়ে যায়। জাকারান্ডাস গাছের ফুলগুলোর বেগুনি রঙে পুরো শহরটি যেন সেসময় রঙের শহরে পরিণত হয়। শহরটিতে মাইলের পর মাইল জুড়ে জাকারান্ডাস গাছের সারি। তাই অক্টোবর মাসে যখন জাকারান্ডাস গাছে ফুল ফুটে তখন যেন শহরটি হয়ে দাড়ায় বেগুনীর সাম্রাজ্যে। তবে বেগুনীর রঙে সবচেয়ে সুন্দর দেখায় ওল্ড চার্চ স্ট্রিট।ইউ টানেল, যুক্তরাজ্য :
আঠারো শতাব্দীর দিকে এই গাছগুলো লাগানো হয় বলে ধারণা করা হয়। টানেল তৈরির উদ্দেশ্যেই যে এই গাছগুলো লাগানো হয়েছিলো তা নয়। প্রাকৃতিকভাবেই আড়াইশো' বছর ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলো নিজেরাই ইউ আকৃতির টানেলে রূপ নিয়েছে। আর তাই এই টানেলটিকে ইউ টানেল বলা হয়ে থাকে। ঐতিহ্য আর সৌন্দর্যে টানেলটি এখনো স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
দ্যা ডার্ক হেজেস, উত্তর আয়ারল্যান্ড :
জানা যায় অষ্টাদশ শতাব্দীতে স্টুয়ার্ট পরিবার এখানে গাছগুলো লাগায়। স্টুয়ার্ট পরিবার চেয়েছিল তাদের বাংলো ( ম্যানশন)-তে প্রবেশের সময় অতিথিরা গাছের ছায়াতলে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। দুই শতাব্দী পরে গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবে একটি মোহনীয় পরিবেশের জন্ম দেয় যা বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীদের একটি প্রিয় জায়গা। ছায়ায় ঘেরা এই রহস্যময় টানেলটি বিভিন্নসময় শ্যুটিংএর কাজেও ব্যবহৃত হয়। সবার পছন্দের গেইম অফ থ্রোনস এর কিংস রোড খ্যাত জায়গাটি বাস্তবের ডার্ক হেজেস টানেল। এর দৃষ্টিনন্দিত সৌন্দর্যের জন্য অনেকেই এখানে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করতে আসেন।আরো পড়ুন ঃ চেরি উৎসবের জন্য জাপানের সেরা পাঁচটি জায়গা
ইন্দিরা বিশ্বাস এস এম