জাবিতে নানা পদের ভর্তার সমাহার

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: প্রকৃতির স্নেহছায়ায় লালিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বটতলা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; ছবি : সংগৃহীত


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পড়াশোনা, স্থাপত্য, মোহনীয় পরিবেশ এসব তো আপনাকে মুগ্ধ করবেই, তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝোলায় আপনাকে মুগ্ধ করার জন্যে রয়েছে আরও অনেক কিছু, এই যেমন ভর্তার কথাই ধরুন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলাতে পাওয়া যায় প্রায় ২৫-৩০ রকমের ভর্তা। এছাড়া বিশেষ কোন উৎসব-পার্বণে এখানে ১০০ রকমের ভর্তাও পাওয়া যায়। ভর্তার স্বাদ পেতে এখানে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে।

আরও পড়ুন : শীতে অতিথি পাখির রাজ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

কয়েক রকমের মাছ ভর্তা, বিভিন্ন রকমের শুটকি ভর্তা, ডিম ভর্তা, চিকেন ভর্তা, কালিজিরার ভর্তা, আলু ভর্তা, পেঁপে ভর্তা, শুকনো ডাল ভর্তা, সরিষা ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা- কত রকমের ভর্তা যে আছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়! বেলা বাড়তেই দোকানে ভিড় বাড়তে থাকে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীসহ বাইরের অতিথিদের। শুধু ভর্তায় কি আর পেট ভরে! ভর্তার পাশাপাশি আছে বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ডিম তরকারি, মুরগীর মাংস, খাসির মাংস, ইলিশ মাছ, চাপিলা মাছ, রুই মাছসহ আরও কত কি!
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বটতলা

বটতলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ; ছবি : সংগৃহীত


বটতলায় খাবারের দোকান আছে প্রায় ২৫-৩০টির মতো। সবকটিতেই স্পেশাল আর সুস্বাদু খাবারের স্বাদ। সাধারণত ৩০-৩৫টি খাবারের আইটেম প্রতিদিনই থাকে, তবে ছুটির দিনগুলোতে প্রায় এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ছুটির দিনে জাহাঙ্গীরনগরে পাবেন ৪০-৪৫ রকমের পদ। দুপুরের খাবারের আইটেম ছাড়াও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বটতলায় পাওয়া যায় পেঁয়াজু, সিঙ্গারা, জিলাপি, বেগুনি ইত্যাদি সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। খাবারের দামও তুলনামূলক কম। ভর্তা প্রতি দাম মাত্র ৫ টাকা।

আরও পড়ুন : ষাইট্টা বটগাছ এর দুয়ারে একদিন, সাভার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র বলা চলে এই বটতলাকে। খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা সবমিলিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণয় মুখরিত থাকে জাবি ক্যাম্পাসের বটতলা। শুধু শিক্ষার্থীদের কাছেই নয়, বাইরে থেকে ঘুরতে আসা অতিথিদের কাছেও জাবির বটতলা এক প্রিয় জায়গা। জাবিতে এসে বটতলার ভর্তা না খেলে ভ্রমণটা যেন পূর্ণতা পায় না। জাবিতে এসে বটতলায় খায়নি, এমন লোক বোধহয় পাওয়া যাবে না; এমনই তাৎপর্য জাবির বটতলার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বটতলা

এমন বেশ কয়েকপদের ভর্তা সাজানো থাকে বটতলার দোকানগুলোতে; ছবি : সংগৃহীত

 নিয়মমাফিক জীবনে একঘেয়েমি আসলে আমরা যেমন ঘোরাঘুরি করি জীবনকে আবার চাঙ্গা করতে, তেমনই প্রতিদিনের খাবারে অরুচি আসলে কোথাও ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে যাই আমরা। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুটিই পাওয়া যায়। একদিকে নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ, অন্যদিকে সুস্বাদু নানাপদের মুখরোচক খাবার পাওয়া যায় এখানে। ছুটির দিনগুলোতে তাই স্মৃতি হাতড়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা ভিড় করে ক্যাম্পাসে আর আড্ডা জমায় বটতলায়।

নানারকম ভর্তা ও খাবারের স্বাদে বা চায়ের কাপে পুরনো স্মৃতি আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে বটতলায়। জাহাঙ্গীরনগরে বটতলার নামকরণ কীভাবে হয়েছিল তা সম্পর্কে সঠিকভাবে আর জানা যায় না। তবে বলা হয়ে থাকে, পূর্বে এখানে এক বড় বটগাছ ছিল আর সেই থেকেই এখানের নামকরণ করা হয়েছে বটতলা হিসেবে। ছুটির দিনে বা অবসর সময়ে আপনিও পরখ করে নিতে পারেন বটতলার ভর্তার রাজ্যের মুখরোচক ও সুস্বাদু ভর্তা। প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মল সৌন্দর্যের সাথে মজাদার খাবার এই সবকিছু মিলিয়ে ভালো একটি সময় কাটবে প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে, জাবি ক্যাম্পাসে। 

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম

তথ্যসূত্র: https://www.dhakatoday.com/tag/%E0%A7%A7%E0%A7%A8%E0%A7%A6-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE/
Click Here To See More