বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মাঝে উদাসী মন হারিয়ে যায় বারংবার
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রতিটি মুহূর্তে স্নেহ ও মায়ার জালে জড়িয়ে রাখে বাংলাদেশের রূপ রহস্য
ছবি : বাংলা ফিডস্
নিজের দেশকে ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। নিজ দেশের মাটিকে বলা হয় সোনার চেয়েও খাঁটি। দেশের অলো, বাতাস আর প্রকৃতির অকৃত্তিম ভালোবাসা যেন এক অন্যরকম আকর্ষন হিসেবে কাজ করে। কিন্ত মুক্ত প্রকৃতির স্বাদ পাওয়া যেন তেন বিষয় নয়। এর জন্য চাই সবুজের বিস্তীর্ন প্রান্তর, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর সমুদ্রের বিশালতায় ডুব দেয়া, সু-উচ্চ পাহাড়ের বুক বেয়ে ছুটে চলাসহ আরও কতো কি। এসব কিছুর স্বাদ পাওয়া যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। আজকের পর্বটি তেমনই মন মাতানো কিছু জায়গা নিয়ে। নিজেকে নতুনভাবে জানতে হলে এই জায়গাগুলো ভ্রমণ প্রত্যেকের জন্য বাঞ্চনীয়। চলুন জেনে আসি আজকের পর্বে কোন কোন স্থানগুলো আছে আপনদের জন্য :
চট্টগ্রামের পাহাড়ে ট্রেকিং :
ছবি : নিউজ অব বাংলা
পাহাড়ের বুকে চড়ে বেড়াতে কে না ভালোবাসে। চট্টগ্রাম একটি আদর্শ জায়গা এর সুউচ্চ পাহাড়ে ট্রেকিং এর জন্য। এখানে রয়েছে তাজিংডং, কেওক্রাডংসহ অসংখ্য পর্বত । তাজিংডং-এর অর্থ হলো বিজয়। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম পর্বত শৃঙ্গ বলা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে এটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সাকা হাফং নামক আরেকটি শৃঙ্গের মাপ থেকে জানা যায় তাজিংডং দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বত শৃঙ্গ। এটি বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত তাজিংডং। এর উচ্চতা ১২৮০ মিটার অর্থাৎ ৪১৯৮ দশমিক ৪ ফুট। সাকা হাফং বাংলাদেশের অন্যতম পর্বত শৃঙ্গ। বর্তমানে এটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম পর্বত শৃঙ্গ বলা হয়। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের একটি পর্বত সাকা হাফং জয় করেছে। সাকা হাফং প্রথম জয় করেন একজন ইংরেজ পর্বতারোহী জিং ফুলেন ২০০৫ সালে।
পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত কক্সবাজারে ভ্রমণ :
সমুদ্রের টানে কক্সবাজারে। ছবি : দ্যা ফাইনানসিয়াল একসপ্রেস
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সব শ্রেণীর মানুষের এক মিলনমেলা। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমন করতে আসেন। সমুদ্রের গর্জন, ঝাউ বন, দীর্ঘ সমুদ্রতট, মানুষের উচ্ছাস এক অভাবনীয় ভালোলাগা তৈরি করে।
এখানে চাইলেই সমুদ্রের পানিতে গোসল করা যায়। সমুদ্রের পানিতে গোসল করার জন্য আপনি টায়ার সাথে করে নিতে পারেন। এছাড়া রয়েছে স্পিডবোটে ভ্রমণের ব্যবস্থা। নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে সমুদ্রের রূপ দেখতে হলে আপনাকে আসতে হবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সামুদ্রিক মাছ থেকে শুরু করে সুস্বাদু হরেক রকমের খাবার খেতে পারবেন সমুদ্রের ধারে বসে।
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন :
দেশের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সেন্টমার্টিন দ্বীপ। ছবি : পিন্টারেস্ট
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রবাল দ্বীপ। বঙ্গোপসাগরে উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্টমার্টিনের অপর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিপূর্ণ সেন্টমার্টিন দ্বীপ। যারা কক্সবাজারে ভ্রমণ করতে আসেন তারা সহসা সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ মিস করে না। প্রবাল এই দ্বীপে রয়েছে শামুক-ঝিনুক, সামুদ্রিক মাছসহ নাম-না-জানা আরো কত কিছু। প্রতিদিন তিনটি লঞ্চ এখানে যাতায়াত করে। দ্বীপের পাশে হাটতেও অসাধারণ অনুভূতি তৈরি হয়।
নদীতে ঘেরা জেলা বরিশাল :
ছবি : উইকিপিডিয়া
বরিশাল এমন একটি জেলা যেখানে জীবনযাপন সম্পূর্ণ নদীর ওপর কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারা বাজার। নদীর বুকে এই ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ বরিশাল জেলা। এখানে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, বিবির পুকুর এবং লাখোটিয়া ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। জেলার যেদিকে তাকাবেন শুধু দেখবেন পানি আর পানি। আর পানির উপর ভিত্তি করেই ছুটে চলেছে মানুষের জীবন।
পর্যটকদের প্রিয় জায়গা রাঙ্গামাটি :
ছবি : জুম বাংলা ডট কম
রাঙ্গামাটি পর্যটকদের জন্য খুবই চমৎকার একটি স্থান। এখানে একই সাথে আপনি অনেকগুলো জায়গা দেখার সুযোগ পাবেন। এখানে রয়েছে কাপ্তাই হ্রদ, যেখানে রয়েছে স্বচ্ছ পানি। এই পানি হাতে ধরলে মনে হবে যেন ফিল্টার পানির থেকেও পরিষ্কার। এছাড়াও রয়েছে ঝুলন্ত সেতু। যাকে বাংলাদেশের সবথেকে বৃহত্তম ঝুলন্ত সেতু বলা হয়। তাছাড়া রয়েছে শুভলং ঝরনা,কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। রাঙামাটিতে বেশিরভাগই আদিবাসীরা বসবাস করে। আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জানতে হলে রাঙ্গামাটিতে যাওয়ার তুলনা নেই। আদিবাসীরা এখনও তাদের ঐতিহ্যকে এখনও ধরে রেখেছে।
পটুয়াখালীর আরেক সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা :
ছবি : উইকিপিডিয়া
কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি চমৎকার জায়গা। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। পটুয়াখালীতে অবস্থিত কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে একই সাথে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখতে পাওয়া যায়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অপর নাম সাগর কন্যা।
কক্সবাজার থেকে অনেকটাই কম কোলাহলময়। সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন এবং নিরিবিলি। যারা নিরিবিলি পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাদের অবশ্যই কুয়াকাটায় ভ্রমণ করতে পারেন। কুয়াকাটায় আপনি আরও ভ্রমণ করতে পারবেন গঙ্গামতির চর, জিরো পয়েন্ট এবং কুয়াকাটা ইকো পার্কে। ইকো পার্কে প্রায় ৪২ হাজার বৃক্ষ রয়েছে।