বাগেরহাট জাদুঘর : ইউনেস্কো ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাগেরহাটের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য নির্মিত জাদুঘর

আসুন তাহলে জেনে আসা যাক বাগেরহাট জাদুঘর সম্পর্কে। বাগেরহাট শহরের সুন্দরঘোনায় ষাট গম্বুজ মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পুরাতন রূপসা রোডে এই জাদুঘরটি অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাটের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য এই জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। ইউনেস্কো ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে সংরক্ষণ এবং সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৪ সালে এটি নির্মাণ করা হয় এবং ২০০১ সালে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
বাগেরহাট জাদুঘর
প্রায় ৫২০ বর্গমিটার এলাকা নিয়ে বিস্তৃত এই জাদুঘরটি বাগেরহাটের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এই জাদুঘরটি মুসলিম সংস্কৃতি ও খানজাহান আলীর স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে আসছে। একতলা ভবনের তিনটি গ্যালারির এই জাদুঘরটির নির্মাণশৈলীতে ইসলামী স্থাপত্যকলাকে অনুসরণ করা হয়েছে। বাগেরহাট অঞ্চল থেকে সংগৃহীত প্রত্ন-নিদর্শন এখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই জেলা সম্পর্কিত অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক দেখতে পাবেন এখানে। আরও রয়েছে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া স্মৃতিচিহ্ন, মুদ্রা, বাসন, তৈজসপত্র, মানচিত্র, আরও আছে লিপিবদ্ধ ইতিহাস। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার পাশাপাশি এখানে বাগেরহাটের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। এখানে আরেকটি আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সারাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মসজিদ ও পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনার সুন্দর সুন্দর সব ছবি। এই ছবিগুলো দেখলে মনে হবে, এক ঝলকে মিনি বাংলাদেশ। জাদুঘরটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় নিদর্শন হচ্ছে খানজাহান আলীর ঐতিহাসিক কুমিরের মমি।
মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ-ঘন্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২টা থেকে জাদুঘর খোলা থাকে।
প্রবেশমূল্য :
এখানে জনপ্রতি টিকেট এর দাম ১৫ টাকা। তবে পাঁচ বছরের কম কোন বাচ্চার জন্যে টিকেট এর দরকার পড়েনা। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫ টাকা। সার্কভুক্ত বিদেশি দর্শনার্থীর জন্যে টিকেট মূল্য ৫০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশী দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ১০০ টাকা।যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে সড়কপথে বাগেরহাট যেতে পারেন। ঢাকার গাবতলি, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ থেকে বাগেরহাট যাওয়ার বাস পেয়ে যাবেন। গুলিস্তান থেকে ছাড়ে দোলা পরিবহন। ভাড়া পড়বে ৩৭০ টাকা। সায়দাবাদ থেকে হানিফ, ঈগল, হামিম, দোলা, সুন্দরবন সহ আরও অনেক পরিবহনের বাস বাগেরহাট যায়। গাবতলি থেকে ছাড়ে সাকুরা ও দিগন্ত পরিবহন। ভাড়া পড়বে ৫০০-৫৫০ টাকা। এরপর বাস স্ট্যান্ড থেকে অটোরিক্সা বা লোকাল বাসে করে বাগেরহাট জাদুঘরে যাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে ঢাকা থেকে বাগেরহাট যাওয়ার পথে বাগেরহাট জাদুঘরের সামনেও নেমে যেতে পারেন।যেখানে থাকবেন :
বাগেরহাট শহরে থাকার জন্য খুব বেশি হোটেল নেই। তবে, এখানে রেল রোডে অবস্থিত মমতাজ হোটেলে থাকতে পারেন। এই হোটেলটিতে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান মোটামোটি ভাল। এছাড়া এই হোটেলের আশেপাশে থাকার জন্য আরও কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে।রুবাইদা আক্তার এস এম