পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই ছোট শহরটি নরওয়ের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। মাত্র ২,২০,০০০ অধিবাসীর এই শহরটি বেশ ছোট হলেও এখানে দেখার মত বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। এই শহরে আপনি পাহাড় হাইক, ক্রুজ ভ্রমণ, সি ফুডের সাথে এর ইতিহাসও ভ্রমণের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন। নরওয়ের বিখ্যাত টুরিস্ট ডেসটিনেশন এই বার্জেন শহরটি। চলুন এর বিখ্যাত কিছু জায়গা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
বার্জেন ফিশ মার্কেট
১৩ শতকে নির্মিত বার্জেন শহরের সী ফুড মার্কেট; ছবি : ভিজিট বার্জেন ডট কম
এই ফিশ মার্কেটের জন্মকাল ১৩ শতকে। পুরনো এই ফিশ মার্কেট মূলত সি ফুড কেনা-বেচার জন্য প্রায় সময়েই সরগরম। পর্যটকদের জন্য এখানে বেশ কিছু সী ফুড রেস্তরা রয়েছে। নিজের পছন্দমত ফ্রেশ সি ফুড এসব রেস্তোরাঁ থেকে আপনি খেতে পারবেন।
৮ম শতকের কাভালসান্ড বোট; ছবি : ভিজিট বার্জেন ডট কম
বার্জেন শহরটি প্রায় ১১ শতক থেকেই মেরিটাইম বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। তাই এই শহরটির সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধই। বার্জেন ভ্রমণের বিকেল বেলা আপনি এখানে কাটাতে পারেন। বিভিন্ন সময়ের জাহাজ, পেইন্টিংস, প্রাচীন আসল ম্যাপ এবং ১৮ শতকের ক্যানন এখানে প্রদর্শন করে রাখা হয়েছে।
এখানের বিখ্যাত আকর্ষন 'কাভালসান্ড বোট'। পুরাতন এই ভাইকিং নৌকাটি ৮ম শতকের। এছাড়াও অরিজিনাল হালসনোয় নৌকাও এখানে প্রদর্শিত রয়েছে। মনে করা হয় এটি ৩৯০ থেকে ৫৩৫ খ্রিস্টাব্দের।
ব্রাইজ্ঞেন
ইউরোপের প্রাচীন অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র ব্রাইজ্ঞেন; ছবি : থিংকিং নোম্যাডস
ব্রাইজ্ঞেন বেশ পুরনো এবং ৬০টি রঙ্গিন কাঠের বোট হাউসের ছোট এক এলাকা। ১৪শ থেকে ১৬শ শতক পর্যন্ত এটি ইউরোপের ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান এক কেন্দ্র ছিল। মজার ব্যাপার এই যে, এখানে কাঠের বোট হাউসগুলো সব নতুন করে বানানো শুধু অফিস হাউজটি বাদে।
পুরনো সে অফিস হাউজ এখনও টিকে আছে। বর্তমানে কাঠের এই বোট হাউসগুলি রেস্তরা, হোটেল, অফিস ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এখানে ব্রাইজ্ঞেন মিউজিয়াম এবং হানসেয়াটিক মিউজিয়ামেও পর্যটকেরা ভ্রমণ করে থাকেন।
প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক গাছের দেখা মিলবে এই বোতানিক্যাল গার্ডেনে; ছবি : ফ্লিকার
১৭ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত বার্জেনের বোটানিক্যাল গার্ডেন। নির্মল বাতাসের সাথে অনেক পর্যটকই এখানে বই পড়তে ভালোবাসেন। প্রায় ৫,০০০ হাজারের অধিক গাছের দেখা মেলে এখানে। নরওয়ের সবচেয়ে বেশি গোলাপ এখানেই উৎপন্ন হয়। এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেশ কিছু ভাগ রয়েছে। সানি মিডোওতে গ্রীষ্মের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের দেখা মেলে। এছাড়াও ট্র্যাডিশনাল জাপানি বাগান, আল্পাইন বাগান ও রয়েছে এখানে।
মাউন্ট উল্রিকেন
কেবল কারে চরে উঠতে পারবেন মাউন্ট উল্রিকেনের চূড়ায়; ছবি : ভিজিট বার্জেন ডট কম
শহর থেকে অল্প কিছু দূরে অবস্থিত সাত পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টি হচ্ছে মাউন্ট উল্রিকেন। এটি প্রায় ২১০০ ফুট উঁচু। এখানে ক্যাবল কারের সাহায্যে মাত্র ৮ মিনিটে এর চূড়ায় আপনি পৌছতে পারবেন। চূড়া থেকে আপনি বার্জেন এবং সাগরের অসাধারণ দৃশ্যের দেখা পাবেন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিঞ্জারব্রেড উৎসব অনুষ্ঠিত এখানে; ছবি : ভিজিট নরওয়ে
এটি মূলত জিঞ্জারব্রেড শহর। নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জিঞ্জারব্রেড উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে নিয়মিত এটি হয়ে আসছে। বর্তমানে ২০০০ হাজার ভলান্টিয়ার, ব্রেড প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী এখানে অংশ নিয়ে থাকেন। এখানে ১০০ টিরও অধিক জিঞ্জারব্রেড হাউস রয়েছে। বার্জেন ভ্রমণে এটি মিস করা একদমই উচিত নয়।
বার্জেন তুলনামূলক খরুচে শহর হলেও এটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশনের মাঝে অন্যতম। বিখ্যাত এই শহরটি আপনার নরওয়ে ভ্রমণের বেশ সুন্দর এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।