বাজেটের মধ্যে বালি ভ্রমণ : তথ্য বিস্তারিত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাংলাদেশিদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা রয়েছে

ubud উবুদ বালি উবুদ, মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের বালি; ছবি : কিমকিম

 ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশ ও দ্বীপ এলাকা হলো বালি। বালি এবং এর আশেপাশের ছোট ছোট দ্বীপমালা নুসা সেনিনগান, নুসা লেমবনগান ও নুসা পেনিদা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই প্রদেশটি। রাজধানী দেনপাসার দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে এর অবস্থান। বালিতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ইন্দোনেশিয়া অন এরাইভাল ভিসা। শুধু প্লেনের টিকেট নিয়েই চলে যাবেন সেখানে এরপর সেখানে গিয়ে ভিসা নিয়ে প্রবেশ করবেন। প্লেনের টিকিটের দাম শুরু হয় প্রায় ২২,০০০ টাকা থেকে। ইন্দোনেশিয়ার ইমিগ্রেশনে মূলত জানতে চাইবে যে আপনি কত দিনের জন্য সেখানে যাচ্ছেন, হোটেলে বুকিং কনফার্মেশন এর কাগজপত্র, পাসপোর্টে ডলার এন্ডর্স করা আছে কি না এসব। সব দেখে আপনার পাসপোর্টে এন্ট্রি ভিসা দিয়ে দিবে ৩০ দিনের জন্য।

বালিতে যাওয়ার উপযুক্ত সময় :

বালিতে বছরের যেকোনো সময় আপনি যেতে পারেন। মোট দুটি ঋতু আছে বালিতে। গ্রীষ্ম আর বর্ষা। এপ্রিল-অক্টোবর মাস পর্যন্ত গ্রীষ্ম বা শুষ্ক মৌসুম। আর নভেম্বর-মার্চ মাসে চলে বর্ষাকাল। তবে বালিতে ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসের মাঝখানে। আবার এপ্রিল-অক্টোবরের মাঝে টুরিস্টদের যাওয়ার জন্য বেস্ট সিজন হলো জুলাই-আগস্ট মাস।

তাই ভিড় এড়াতে চাইলে আর পিক সিজনে ঘুরতে চাইলে জুন বা সেপ্টেম্বর মাসে যাওয়া ভালো। এই দুই মাস ছাড়া অন্য সময় গেলে আপনি সবকিছুই একটু সাশ্রয়ী দামে পাবেন এবং ভালো মতন দামাদামি করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া হোটেল বুকিং নিয়েও তেমন ঝামেলায় পড়বেন না। তাছাড়া ডিসেম্বর মাসে বড় দিন এবং নিউ ইয়ারের জন্য বেশ ভিড় থাকে। তাই সেই সময় না যাওয়াই ভালো। জুন মাস হলো বালি ঘুরার সবচেয়ে ভালো সময়। ট্রিপ ছোট হলে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে যাওয়া ভালো।

mount-batur বালি মাউন্ট বাটু বালির মাউন্ট বাটু থেকে অপার্থিব সূর্যোদয় উপভোগ করুন; ছবি : সংগৃহীত

 কারেন্সি

ইন্দোনেশিয়ায় ১০০ ডলার ভাঙ্গালেই ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া আপনি পেয়ে যাবেন। ১ লক্ষ রুপিয়া বাংলাদেশি ৬১৫ টাকার সমতুল্য। টাকা ভাংতি করতে হলে অবশ্যই অথরাইজড মানি চেঞ্জার এ যাবেন। আর না হয় প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ট্যাক্সি ভাড়া দেয়ার জন্য এয়ারপোর্ট থেকে কিছু ডলার ভাঙিয়ে নিতে পারেন। মানি চেঞ্জ এয়ারপোর্টে একটু কম পাবেন।

ট্রান্সপোর্ট

এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পর এয়ারপোর্ট ট্যাক্সি সার্ভিস না নিয়ে বাইরে গিয়ে ব্লু বার্ড ট্যাক্সিতে মিটারে যাওয়ার চেষ্টা করবনে। মিটারে প্রায় ৪০ হাজার রুপিয়া যা বাংলাদেশি টাকায় যা ১৮০-২৫০ টাকা। এয়ারপোর্ট থেকে নিলে এই একই দূরত্বে ৭৫ হাজার থেকে প্রায় দেড় লক্ষ রুপিয়া ভাড়া দিয়ে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

তুলনামূলকভাবে বালির হোটেল ভাড়া অনেক কম। অনেক ভালো মানের হোটেল সকালের ব্রেকফাস্ট সহ বাংলাদেশি ১,৫০০-৪,০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন সহজেই। আগে থেকে বিভিন্ন সাইট থেকে হোটেল বুক করে যাওয়া ভালো। লেগিয়ান বিচ অথবা কুটা বিচ এর আশেপাশের এলাকায় হোটেল নিলে ভালো।বালি স্থানীয়, সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন সহজেই; ছবি : সংগৃহীত

বালিতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় খাবার নাসি আয়াম, নাসি গোরেন এবং মি আয়াম খেয়ে নিতে পারেন। এই খাবারগুলোতে ৩০-৬০ হাজার রুপিয়ার মতো খরচ হবে। এছাড়া কে এফসি, ম্যাকডোনালডস বা বার্গার কিং এ খেতে পারেন। এসব জায়গায় খেলে খাওয়ার খরচটা কম লাগবে। আর যদি আপনি সী ফুড পছন্দ করেন, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। বালিতে বেশ কম খরচে বিভিন্ন রকম সী ফুড খেতে পারবেন।

কোথায় ঘুরবেন

বালিতে পৌঁছে প্রথমেই কুটা বিচে বিকাল বেলার দিকে ঘুরে দেখতে পারেন। এই জায়গায় খাবারের দাম অন্যান্য জায়গার তুলনায় কিছুটা বেশি। রাতের বেলায় ডিসকভারি বা বিচওয়াক মার্কেট ঘুরতে পারেন। মাথায় রাখবেন যে, রাত ৮টার পর মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। বালিতে কিন্তামানি মাউন্ট বাটুর, উলুওয়াতু, নুসা দুয়া, পাদাম পাদাম বিচ, উবুদ, তানালক মন্দির এ যেতে পারেন। এই জায়গাগুলো অবশ্যই সারা দিনের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যেতে হবে। পথে দেখতে পাবেন জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। সেখানে জন প্রতি ১,৫০০ টাকায় দুপুরের লাঞ্চ করে নিতে পারবেন। ফিরে আসার পথে জলপ্রপাত, উবুদে রাইস ট্যারেস আর মানকি ফরেস্ট দেখতে পারেন। সকালে যেয়ে ফিরে আসতে পারবেন সন্ধ্যার মধ্যেই। ভাড়া বাংলাদেশি টাকায় ৩,৫০০ টাকার মতো পড়বে।

এসব জায়গায় আপনাকে টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। পাদাম পাদাম বিচ, উলুওয়াতু মন্দির গেলে অবশ্যই সানসেট দেখতে ভুলবেন না। সেখানে উপভোগ করতে পারবেন অপূর্ব দৃশ্য। তানালট কুটা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। এখানকার সমুদ্রের উপর মন্দির আর সানসেট বালির আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অবশ্যই ঘুরে আসবেন গিলি আইল্যান্ড। বালির সবচেয়ে সুন্দর জায়গা গিলি আইল্যান্ড। গিলিতে আছে ৩টা দ্বীপ-গিলি মেনো, গিলি এয়ার আর গিলি ত্রাওয়ানগান। গিলি ত্রাওয়ানগানে গিয়ে সুন্দর কোনো রিসোর্টে থাকতে পারেন এক রাত। বাংলাদেশি টাকায় ২,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে ভাড়া পড়বে। অনিন্দ্য সুন্দর গিলিতে কোনো যানবাহনের দেখা মিলবে না।

সাইকেল আর ঘোড়ার গাড়িতে করে যেতে হবে সব জায়গায়। সাইকেল ভাড়া করে ঘণ্টা হিসেবে ঘুরতে পারবেন এই দ্বীপে। বালি থেকে গিলিতে ফাস্ট বোট এর টিকেট কেটে যেতে হবে। রিটার্ন টিকিটসহ জন প্রতি বাংলাদেশি ৩,০০০ টাকা বা ৫ লক্ষ রুপিয়ার মতো খরচ হবে। ট্যুর গাইড বা অনলাইন থেকে টিকিট কিনে নিতে পারেন।

সেক্ষেত্রে কিছুটা দামাদামি করে কমাতে পারেন। হোটেল থেকে তারাই আপনাকে তাদের গাড়িতে করে পৌঁছে দিবে পাদাম হারবারে। গাড়িতে করে জেটিতে যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। সেখান থেকে বোটে করে গিলিতে পৌঁছাতে ২-২:৩০ ঘণ্টা লাগে।  


তথ্যসূত্র: ১। https://www.ithaka.travel/blog/bali-to-gili-islands/

২। https://www.bali.com/news_weather.html