ঘুরে আসুন শাপলার রাজ্য সুনামগঞ্জের বিকিবিল থেকে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ২০১৯ সালে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয় বিকিবিল হাওড়


বকিবিল হাওড় satla-water-lily-bikibil -

বিলজুড়ে লাল শাপলা এবং প্রকৃতির ভিন্ন এক রূপের মূর্ছনা ছেয়ে পড়ে এখানে; ছবি : বাংলাভিশন


সুনামগঞ্জের বিকিবিল হাওড়ে ফুটে থাকা হাজার হাজার লাল শাপলার কাছে যেন সকালের রক্তিম সূর্যের আভাও কিছুটা ফিকে হয়ে পড়ে। দূরের মেঘালয়ের পাহাড়কে যেন আরও ছন্দময় করে তুলেছে বিকিবিলের লাল শাপলার রাজ্য। শাপলার লাল গালিচায় করে আপনিও হারিয়ে যেতে পারেন কল্পনার রাজ্যে। হাওড়ে হাজার হাজার লাল শাপলা আর সাথে হরেক রকম পাখির কিচিরমিচির; প্রকৃতিকে উপভোগের জন্য প্রকৃতিই যেন সৌন্দর্যের সাথে সুরের মূর্ছনার ব্যবস্থা করে রেখেছে আপনার জন্য। ২০১৯-এর অক্টোবরে বিকিবিল হাওড়কে প্রথম পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের গ্রামেই রয়েছে লাল শাপলার রাজ্য বিকিবিল। কাশতাল, বরোখাড়া ও আমবাড়ি গ্রাম তিনটি তিনদিক থেকে ঘিরে রেখেছে বিকিবিল হাওড়কে। বিকিবিল হাওড়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে শাপলার রাজ্য।

আরও পড়ুন : সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান: ফাগুনে সৌন্দর্যের আগুন লাগে যেখানে

প্রাকৃতিকভাবেই হাওড়ে ফোটে লাল শাপলা। শুধুমাত্র বিকিবিল নয়, পুরো গ্রামটিই শাপলার রাজ্য। সূর্যোদয় থেকে বেলা দশটা পর্যন্ত লাল শাপলার রঙিন রক্তিম আভা ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রৌদ্রের প্রখরতাপে কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে বিকিবিল। তবে বেলা পড়তেই আবার নতুন চেহারায় হাজির হয় বিকিবিল। বিকেলে হাওড়ে শাপলার মাঝে ভেসে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ১০-১২ বছর আগে বিলটিতে অল্প পরিমাণে শাপলা ফুটলেও বর্তমানে পুরো হাওড় শাপলার আচ্ছাদনে ঢাকা থাকে। হাওড়ে পানি থাকে ৬ মাস। বাকিটা সময় এখানে বোরো ধানের চাষ করা হয়।


বকিবিল হাওড় bikibil -

সম্মুখে শাপলার রাজ্য আর মেঘালয়ের বিশাল পাহাড়ের দেখা মেলে বিকিবিল হাওড়ে; ছবি : কালেরকণ্ঠ


বোরো ধান তুলে ফেলার পর বর্ষা মৌসুমে হাওড়ে পানি জমতে শুরু করে। বর্ষার শুরুতে শাপলা ফুটতে শুরু হয়ে প্রায় ছয়মাস পর্যন্ত প্রাকৃতিক ভাবেই হাওড়ে ফুটতে থাকে। ছয়মাস ফুল থাকলেও অক্টোবর- নভেম্বর মাসে ফুলের বিস্তৃতি বেড়ে যায়। তাই শাপলার রাজ্যে হারাতে হলে আপনাকেও এসময়ের মধ্যেই যেতে হবে বিকিবিলে। বর্ষায় যেমন থইথই পানিতে শাপলার রূপ একরকম, তেমনি হেমন্তে আবার শিশির ভেজা কুয়াশা-রোদমাখা সকালে হাওড়ের রূপ অন্যরকম। যেই ঋতুই হোক না কেন মোহনীয়রূপেই হাজির হয় বিকিবিল। সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি শাপলা ফোটে এ হাওড়েই। লাল শাপলার পাশাপাশি হাওড়ে সাদা ও বেগুনি রঙের শাপলা ফুল ফুটতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রচ্ছদে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর

সুনামগঞ্জ যেন একটি প্যাকেজ। একের ভেতরে অনেকের মতো সুনামগঞ্জে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হাওড়, হিজল গাছ, শিমুল বাগান, সবুজ ধানক্ষেত, শহীদ সিরাজ লেক, টাঙ্গুয়ার হাওড়, পাহাড় সবই রয়েছে সুনামগঞ্জে। বিকিবিলের শাপলা শুধুমাত্র ভ্রমণপিপাসুদের তেষ্টা মেটায় তাই নয়, স্থানীয়রা বাজারে শাপলা বিক্রি করে অর্থোপার্জনও করে থাকে। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়াতে এলাকার গরীবদের খাদ্যের অভাবও পূরণ হয় বিকিবিলের মাধ্যমে। স্থানীয়রাই নিজ উদ্যোগে হাওড়ের শাপলার পরিচর্যা করে থাকে।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সায়েদাবাদ বা মহাখালী থেকে বাসে করে সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। বাস ভাড়া ৫৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ শহর থেকে মোটরসাইকেল করে সরাসরি বিকিবিল হাওড়ে যাওয়া যায়, এতে খরচ পড়বে ১২০ টাকা। বিল ঘুরে দেখার জন্য নৌকা ভাড়া করার ব্যবস্থা রয়েছে, এতে ঘণ্টা প্রতি খরচ পড়বে ১০০-২০০ টাকার মতো।  

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম