আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে তিনটি বৃহৎ শহর অবস্থিত। শহরত্রয়ীর একটি হচ্ছে লন্ডন। এই শহরটির ঠিক মাঝ বরারবর টেমস নদী। আর এই নদীর দু-পার ঘিরে নির্মিত হয়েছে শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী এই লন্ডন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অন্যতম অংশ বিগ বেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ শব্দ করা ঘড়ির একটি। লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার এলাকায় এলিজাবেথ টাওয়ারে অবস্থিত বিগ বেন। পুর্বে টাওয়ারটি ক্লক টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল। কিন্ত পরবর্তীতে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে এই নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় এলিজাবেথ টাওয়ার।
লন্ডনের আইকনিক বিগ বেন। ছবি : সংগৃহীত
লন্ডনের ল্যান্ডমার্ক হচ্ছে বিগ বেন। পৃথিবীর জনপ্রিয় পাঁচটি সেলফি স্পটের একটি হচ্ছে এই টাওয়ার। যখন সংবাদ মাধ্যম, চলচ্চিত্র কিংবা ভিডিও নির্মাতা ব্রিটেনের কোন স্থান নির্ধারণ করেন তখন বিগ বেন সর্বপ্রথম প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময়েই ঘড়ির আওয়াজ ভিডিওর পাশাপাশি তুলে ধরা হয়। লন্ডন ঘুরতে যেয়ে বিগ বেন না দেখা পর্যটক খুব কমই।
১৮৫৯ সালে এই টাওয়ারটি স্থাপন করা হয়। এর নকশাকারক অগাস্টাস পুগিন। এই টাওয়ারটির উচ্চতা ৩১৫ ফুট। যা প্রায় ১৬ তলা উচু কোন দালানের সমান! মোট ১৩ বছর সময় লেগেছিল এর নির্মান কাজ শেষ হতে। বিগ বেন ছাড়াও আরো চারটি ঘন্টা আছে এই টাওয়ারে। এগুলো ১৫ মিনিট পর পর টুং টাং আওয়াজ করে।
টেমস নদীর তীরে বিগ বেন। ছবি : সংগৃহীত
বিগ বেন ঘড়িটির ওজন ৫ দশমিক ০৮ টন। ঘড়িটির সামনের সংখ্যা গুলি ২ ফুট এবং মিনিটের কাটাটি ১ ফুট লম্বা। যে হাতুড়ি দিয়ে বিগ বেনে আঘাত করা হয় সেটি ২০০ কেজি ওজনের! ঘন্টাটির বিশালত্বের জন্যই একে ট্রেনে করে না এনে টেমস নদী দিয়ে বজরায় করে আনা হয়েছিল। এরপর ১৬টি ঘোড়ায় টানা গাড়িতে করে ওয়েস্টমিনিস্টার সেতু পাড়ি দেওয়ানো হয়েছিল। ঘড়িটির নকশাকার ছিলেন পেশায় উকিল! এডমন্ড বেকেট ডেনিসন! তার শখ ছিল ঘড়ি তৈরি করা। ঘড়িটি খুব সুনিপুনভাবে যথাযথ সময় দিয়ে চলছে প্রতিনিয়ত।
ইতিহাস ও কিছু মজার মজার তথ্য
বিগ বেনের নামকরন নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। তবে অনেকের মতে, স্যার বেঞ্জামিন হলের নাম থেকেই এসেছে বিগ বেন। এছাড়াও লন্ডনের অধিবাসীরা এর বিশালত্বের জন্য একে বিগ বেন নামেই ডেকে থাকে।
সংস্কার চলছে। ছবি : সংগৃহীত
মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিগ বেন নামক ঘড়িটি একটি টুইটার অ্যাকাউন্টের মালিক। আর এর ফলোয়ার সংখ্যাও কম নয়। প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ অ্যাকাউন্টটি ফলো করে থাকেন।
বিগ বেন লন্ডনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এক অনুষঙ্গ। নববর্ষ উদযাপনে সকলের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকে এই টাওয়ার। বিগ বেনের ঘন্টার আওয়াজেই ব্রিটেন তার নতুন বছরকে বরণ করে নিয়ে থাকে।
এই নামি ঘড়িটি ১৬০ বছর অসংখ্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে ঘড়িটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। কখনও রক্ষনাবেক্ষন আবার কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্যেও এটি বন্ধ হয়েছিল।
সংস্কার করা হচ্ছে পুরো টাওয়ার। ছবি : বিবিসি
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এটিকে দু-বছর বাজানো হয়নি। কিন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একে বাজানো হলেও বোমার আঘাত থেকে বাচতে কোনপ্রকার বাতি জ্বালানো হয়নি। বর্তমানে পুরো টাওয়ার সংস্কারের জন্য এটি বন্ধ রয়েছে। ২০২১ সালে এটি পুনরায় চালু করার প্রস্তাব রয়েছে।
স-গৌরব, স্ব-মহিমায় দাড়িয়ে থাকা এই বিগ বেন লন্ডনের ঐতিহ্যের প্রতীক। ভ্রমনপিপাসু হিসেবে একে দেখতে যাওয়ার জন্য হলেও লন্ডন ভ্রমন আপনার লিস্টে রাখতেই পারেন।