ভুটানের ধর্মীয় কর্তৃত্বপূর্ণ ভাবধারায় নির্মিত বুদ্ধ ডোরডেনমা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মানবসৃষ্ট রুপ-সৌন্দর্যের বিস্ময়কর নিদর্শন
মানুষ অনেকটা পিঁপড়ার সমতুল্য এই জায়গাটিতে, বুদ্ধ ডোরডেনমা। ছবি : উইকিপিডিয়া
একটি বৃহৎ আকৃতির সোনালী রংয়ের বুদ্ধের মূর্তি বসে আছে থিম্পুর একটি পাহাড়ের ওপর, যার নাম বুদ্ধ ডোরডেনমা। বৃহৎ বুদ্ধ মূর্তিটির উপস্থিতি প্রতিফলিত করে ভুটানের ধর্মীয় কর্তৃত্বপূর্ণ ভাবধারাকে। ভুটানের মানুষের প্রতিদিনের জীবনাচারনে বৌদ্ধ ধর্ম খুবই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আছে। আজকে আমরা ভুটানের একটি বিশেষ জায়গা নিয়ে কথা বলব যার নাম বুদ্ধ ডোরডেনমা।
ডোরডেনমা যেতে যেতে দেখতে পাবেন ধর্মীয় দড়ি রাস্তার পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে। আপনার চোখে পরবে ধর্মীয় কিছু কাজ যেমন : ধর্মীয় চক্কর যা ঘড়ি টাওয়ার ঘিড়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেয়ালের ওপর বিভিন্ন চিত্রকর্ম যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের রূপ ফুটিয়ে তোলে। বিভিন্ন পাথর ও সিমেন্টের ওপর কারুকাজ ভূটানের ঐতিহাসিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। বুদ্ধ ডোরডেনমা ভুটানের সবথেকে বড় মূর্তি যেটি ৫১ দশমিক ৫ মিটার উঁচু এবং খাঁটি স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ দিয়ে নির্মিত।
বুদ্ধ ডোরডেনমার ভেতরে ১২৫ হাজার ছোট বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। সেখানে ১২ ইঞ্চির সমান ২৫ হাজার বুদ্ধ মূর্তি এবং ৮ ইঞ্চির সমান ১০ হাজার বুদ্ধ মূর্তি।
২০০৪ সালে চীনের এরিকসন কর্পোরেশনের মাধ্যমে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এটি শেষ হয় ২০১৫ সালে। দিনের বেলা সূর্যের আলো যখন মূর্তিগুলোর ওপর পরে তখন যেন সোনালী আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র দিনেই নয় রাতের বেলায় এখানকার রুপ আরও অনেক গুণ বেড়ে যায়। চাকচিক্যময় হয়ে ওঠে পুরো অঞ্চল।
বৃহদায়তনের সোনালী রংয়ের বুদ্ধের মূর্তি। ছবি : হলিডিফাই
বুদ্ধ ডোরডেনমায় আগত পর্যটকরা অনেকটাই অভিভূত হয়ে যায় এরকম মূর্তির প্রতিকৃতি দেখে। এ খানে বৃহদায়তনের মূর্তিটি তৈরি হয়েছিল ভুটানের চতুর্থ রাজা এর ষাটতম জয়ন্তী উৎসব পালনের সময়। এটি মূলত নির্মিত হয়েছিল দৈববাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে যা অন্তর্ভুক্ত করে শান্তি এবং সুখ।
এটি সরাসরি ভুটানের সুখকর উন্নতিকে প্রকাশ করে, যেটি আশীর্বাদে পরিতুষ্ট হয় শান্তি ও ভালোবাসায়।
থিম্পুর এই জায়গাটিতে অবস্থিত অনেক বছরের পুরনো ধ্বংসাবশেষ প্রাসাদ কুয়েনসেন ফোড্রাঙ্গত্র। এই প্রাসাদটি ছিল সেরাব ওয়াংচুচুক এর।
ছবি : সংগৃহীত
এখানে বেশিরভাগ পর্যটকেরা শুধুমাত্র বৃহৎ আকৃতির বুদ্ধমূর্তি ও ডরেনডামার অন্যান্য বুদ্ধ মূর্তি দেখতে আসেন। আপনি চাইলে স্থানীয় এলাকাগুলো এবং মনোরম পরিবেশে থিম্পু উপত্যকার সৌন্দর্য্য দেখতে পারেন। স্থানীয় মানুষদের জীবনাচরণ দেখার এবং তাদের সাথে মেশার সুযোগ রয়েছে এখানে।
গাড়ি পার্ক করে স্থানীয় খাবার খেতে পারেন এবং পানীয় পান করতে পারেন। থিম্পুর দু-ধরনের দৃশ্যপট এক অপরূপ ঐকতানের সৃষ্টি করে। একদিকে মানবসৃষ্ট উদ্ভাবনী এবং অন্যদিকে প্রাকৃতিক অপরুপ যেন মিলেমিশে রুপ রহস্য তৈরি করে।
বুদ্ধ ডোরডেনমায় অরেকটি অপরুপ মূর্তি। ছবি : শীভা টেলস্
এখানে মূর্তিগুলো নির্মাণে খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। মূর্তির বিভিন্ন অংশবিশেষ কিছু অর্থ বহন করে। হাতের দ্বারা নির্দেশিত হয় আশীর্বাদে পরিপূর্ণ আচ্ছাদন। এটি আরও অর্থ বহন করে ভয় দূরীভূত করার। এছাড়াও প্রকাশ করে 'বুদ্ধর প্রতিরক্ষা'। অর্থাৎ বুদ্ধ প্রতিরক্ষা বলতে প্রতিকৃতির বিশেষ ভঙ্গিতে বসে থাকাকে বা দাঁড়িয়ে থাকা কে যেখানে তাঁর বাম হাত প্রসারিত হয় আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে থাকে।
বুদ্ধ প্রতিরক্ষা বলতে বোঝানো হয় বিশ্বাস স্থাপন, প্রতারণা দূরীকরণ এবং রাগ দমন। এছাড়াও বুদ্ধ ডোরডেনমার নিকটে আরো কিছু ভ্রমণের জায়গা রয়েছে। যেমন : ভুটান টাওয়ার, ভুটান ড্রাক ভ্রমণের জায়গা।
কীভাবে যাবেন :
বুদ্ধ ডোরডেনমায় যেতে হলে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে বিমানে করে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে যেতে হবে। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং খরচ পরবে প্রায় ২০ হাজার টাকা। পারো বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর একটি ট্যাক্সিতে করে ৪৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে থিম্পুতে যেতে পারবেন এক্ষেত্রে সময় লাগবে ৪৫ মিনিট। সেখানেই দেখা মিলবে চমৎকার বুদ্ধ ডোরডেনমার।
কোথায় থাকবেন :
এখানে অসংখ্য হোটেল রয়েছে পর্যটকদের থাকার জন্য। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় হোটেলের নাম হলো : সম্ভব সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, যেখানে প্রতি রাতের জন্য খরচ পরবে প্রায় ৪,২০০ টাকা। লা মেরিডিয়ান থিম্পু, যেখানে প্রতি রাতের জন্য খরচ পরবে প্রায় ৯,৮০০ টাকা। এছাড়া আছে সিটি হোটেল থিম্পু, যেখানে প্রতি রাতের জন্য খরচ পরবে ৩,৪০০ টাকা।
কোথায় খাবেন : এখানে আশপাশে অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে সু-স্বাদু ও মজাদার খাবার যেখানে আয়েশ করে খেতে পারা যায়। কয়েকটি রেস্টুরেন্টের নাম হল : অ্যাম্বিয়ান্ট ক্যাফে, দ্যা জোন, জুমবালা রেস্টুরেন্ট।
জান্নাতুল ফেরদৌস
এস এম