আগ্নেয়গিরি দ্বারা বেষ্টিত ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্ক

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে ইন্দোনেশিয়ার অবিশ্বাস্য সুন্দর এই পার্ক

মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াতে পারবেন ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কে। ছবি : পিক্টোরেম ডট কম

ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার রাজধানী সুরাবায়ার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র অঞ্চল যেখানে দেখা মেলে বালির সমুদ্র। ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমনে যাওয়া পর্যটকেরা ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কটিও ভ্রমণ তালিকায় রেখে থাকেন। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থানটিতে প্রতি বছর ঘুরতে আসে হাজার হাজার পর্যটক। ন্যাশনাল পার্কটি পর্যটকদের জন্য সুন্দর এবং আকর্ষণীয় জায়গা এবং প্রাকৃতিক কবজ হিসেবে পরিচিত। এক অনন্য পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে অনেকেই আসেন এই জায়গাটিতে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে অসাধারণ কিছু মুহুর্ত ধরে রাখতে ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কটির জুড়ি মেলা ভার। পার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৪ই অক্টোবর, ১৯৮২ সালে। এর আয়তন প্রায় ৫০২ দশমিক ৭৬ বর্গ কিলোমিটার। পার্কটির মাঝে চারটি হ্রদ এবং ৫০টির মতো নদী রয়েছে। ট্যাঙ্গার কিংডমের নামে নামকরণ করা হয়েছে ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কের। অঞ্চলটি আগ্নেয়গিরি দ্বারা বেষ্টিত।

এখানে ৫টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে : মাউন্ট ব্রোমো, মাউন্ট বটোক, মাউন্ট কুরসি, মাউন্ট ওয়াটাঙ্গান এবং মাউন্ট উইদোদারেন। এই অঞ্চলে বেড়ে ওঠা গাছপালার মধ্যে ঝাউ, বাবলা, কিছু প্রজাতির কাঠ উল্লেখযোগ্য। প্রানীদের মধ্যে চোখে পরবে কিছু বিরল প্রজাতির প্রানী। আবার কিছু বিলুপ্তপ্রায় প্রানীও নিজেদের জীবন সংগ্রাম টিকিয়ে রেখেছে এই পার্কটিতে। এখানে প্রায় ১৩৭ প্রজাতির পাখি, ২২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ৪ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। মাঝে মাঝেই চোখে পরে বাজপাখি, বিভিন্ন বন্য প্রানী, বিড়াল, হরিণসহ আরো অনেক প্রানী। পার্কের আশেপাশে স্থানীয় লোকেরা বাস করে। সেখানে বেশির ভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। পার্কের আশেপাশে প্রায় ত্রিশটি গ্রামে তাদের বসবাস। নির্জন সৌন্দর্যে ঘেরা এই জায়গা কখনও রাগান্বিত হয়ে অনুর্বর আগ্নেয়গিরির ভয় দেখায় আবার কখনও বা নুড়িভূমি এবং বালির সমুদ্রের মহিমা প্রদর্শন করে। পুরো বিষ্ময়েঘেরা এই পার্কটির দেখার মতো কিছু স্থান তুলে ধরা হলো :

মাউন্ট ব্রোমো : 

হাইকিং-এর জন্য বিখ্যাত ব্রোমো পর্বত। ছবি : গ্লোবাল ক্যাস্টাওয়ে

প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই পর্বতটি খুব সুন্দর এবং মনোরম প্রকৃতির। ব্রোমো পর্বতের পাদদেশে লুহুর পোটেন মন্দির নামে একটি মন্দির রয়েছে। আর এই পাহাড়টি থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার জন্য সেরা জায়গা। মাউন্ট ব্রোমো ক্র্যাটার : মাউন্ট ব্রোমো ক্র্যাটার ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কটির একটি আকর্ষনীয় পর্যটনকেন্দ্র। এর শীর্ষ থেকে আগ্নেয়গিরির পাহাড়টি প্রত্যক্ষ করা যায়।

পেনানজাকান পাহাড় :

ছবি : ট্রিপ এডভাইজর

 পেনানজাকান পাহাড় ব্রোমো মাউন্টের উত্তর দিকে অবস্থিত। পেনানজাকান মাউন্ট সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য একটি সেরা স্থান। পেনানজাকান যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য কারণ সাধারনত ভোরবেলা খাড়া রাস্তা দিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয় এবং বালির সমুদ্রের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ব্রোমো সমুদ্র সৈকত :

বালুর সমুদ্র সৈকত, ব্রোমো সমুদ্র সৈকত। ছবি : কুক দ্যা বিনস্

সমুদ্র উপভোগের জন্য এখানে পর্যটকেরা ভিড় করে থাকে।

লুমাজং : সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় দেখার জন্য স্থানটি জনপ্রিয়।

মাউন্ট সেমেরো :

ছবি : সংগৃহীত[/caption] সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার উঁচু এই সেমেরো মাউন্টটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেঞ্জার সেমেরো ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত জাভা দ্বীপের সর্বোচ্চ পর্বত। এই পর্বতটি সেমেরো অ্যাডভেঞ্চার ট্র্যাকিং-এর জন্য পর্যটকদের আগ্রহের জায়গা। সেমেরো মাউন্টে দেখা মেলে বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগতের।

রানু হ্রদ : যে পর্বতারোহীরা সেমেরোর শিখরে আরোহণ করতে চান তাদের বিশ্রামের অঞ্চল হল এই হ্রদের তীর। রানু গ্রাম সেমেরোর শিখরে পৌঁছানোর আগে শেষ গ্রাম। গ্রামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

মাদাকারীপুরার জলপ্রপাত :

ছবি : পিন্টারেস্ট

২০০ মিটার উঁচু এই জলপ্রপাতটি সবুজ পাহাড়ের চারপাশে ঘিরে রয়েছে যা বৃষ্টির মতো ঝিরির সমস্ত অঞ্চলে জল সরবরাহ করে থাকে।

ভ্রমনের সেরা সময় : সাধারণ সেপ্টেম্বর থেকে জুন মাসে ভ্রমণের জন্য জায়গাটি বেছে নেয় পর্যটকেরা। ডিসেম্বর এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তখন খুব বেশি পর্যটকের ভিড় হয় না। আর মাঝারি মৌসুমে (অক্টোবর-নভেম্বর, মার্চ-মে) সেখানকার স্থানীয়রা  সাপ্তাহিক ছুটি এবং ইন্দোনেশীয় পাবলিক ছুটির দিনগুলো কাটাতে যায় এই পার্কটিতে। কিন্তু আগ্নেয়গিরির জন্য পার্ক মাঝে মাঝে বন্ধ ও থাকে। তাই যাবার সময় অবশ্যই খোঁজ নিয়ে যাওয়া উচিত।

থাকা এবং খাওয়া: পার্কের চারপাশে প্রচুর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-ইয়োসচি, হোমস্টে আনা, গ্র্যান্ড ব্রোমো হোটেল, ব্রোমো সূর্য ইন্দাহ হোমস্টে। প্রতিটি লজ এবং হোটেলের একটি সংযুক্ত রেস্তোঁরা রয়েছে এবং আলাদা খাবার দোকানও রয়েছে। সেখানে  খুব সহজেই ইন্দোনেশীয়ান খাবার এবং কফি পাওয়া যায়।

যেভাবে যাবেন: বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া যাবার পর বিমানের মাধ্যমে যেতে পারেন পার্কটির উদ্দেশ্যে। এছাড়া ট্রেনে বা গাড়িতেও যাওয়া সম্ভব।

 ভ্রমণ তথ্য:

  • ভ্রমণের পূর্বে জায়গা সম্পর্কে জেনে নিন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাথে নিন।
  • পরিবেশ দূষণ থেকে বিরত থাকুন।
  • ভিন্ন দেশে নিজের ভদ্রতা বজায় রাখুন।


তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, অথেন্টিক  ইন্দোনেশিয়া