ইংল্যান্ডের সাসেক্সে অবস্থিত বোরলে রেকটরি। ছবি : ডেইলি টেলিগ্রাফ
ভূতে বিশ্বাস করেন? অনেকেই হয়তো বলবে ভূত বলে কিছু নেই। পৃথিবীজুড়ে কিন্তু এমন অনেক ভৌতিক জায়গা রয়েছে যার সমাধান আজও হয়নি।
এডভেঞ্চার হিসেবে ভূতের সাথে সাক্ষাৎ কিন্তু মন্দ নয়। ভ্রমণ প্রিয়রা তাই ভূতের তোয়াক্কা না করেই বেরিয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। এডভেঞ্চারের জন্য তাই আজ আপনাদের ভূতের বাড়িগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।
বোরলে রেকটরি
পৃথিবীর সবচেয়ে ভৌতিক জায়গা হিসেবে এর কুখ্যাতি রয়েছে। ১৮৬৩ সালে যুক্তরাজ্যের বোরলে গ্রামে এর নির্মাণ করা হয়। রেভারেন্ড হেনরি নামক ব্যক্তি এই ভবন নির্মাণ করেন। রেভারেন্ড তার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই ঘর করছিল, এই সুখের সংসার ভেঙে পরে ১৯৩৯ সালে। আগুনে তাদের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারপর থেকেই ভবনটিতে ভৌতিক সব কার্যকলাপ দেখা যায়।
ইংল্যান্ডে অবস্থিত ভৌতিক বাড়ি বোরলে রেকটরি। ছবি : স্পেকট্রাম প্যারানরমাল
তবে, ভবনটি নিয়ে আরেকটি গল্পও প্রচলিত আছে। বলা হয়, নুন নামের একজন বোরলে সম্প্রদায়ের এক সন্ন্যাসিনীর প্রেমে পড়েন। সন্ন্যাসিনীর সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের লোকজনের হাতে ধরা পড়েন তারা। গ্রামবাসী সন্ন্যাসিনীকে হত্যা করে আর নুনকে রেকটরি ভবনে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। আর তারপর থেকেই শুরু হয় ভৌতিক তাণ্ডব। ১৯৪৪ সালে 'লাইফ ম্যাগাজিন' এ বিষয়ে ফিচার করতে গিয়ে বেশ ভৌতিক অবস্থার সম্মুখীন হন যার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। ঘটনাটি সারাবিশ্বে বেশ আলোড়নের যোগান দিয়েছিল।
স্ট্যানলি হোটেল
দ্য স্ট্যানলি হোটেল, ইংল্যান্ড। ছবি : দ্য স্ট্যানলি হোটেল
কলোরাডোর এস্টেস পার্কে অবস্থিত স্ট্যানলি হোটেলকে কেন্দ্র করেই জনপ্রিয় লেখক স্টিফেন কিং রচনা করেন 'The Shining' উপন্যাসটি, যেটি থেকে পরবর্তীতে মুভিও তৈরি করা হয়েছে। মুভির নির্মাতা নিজেও এই হোটেলের ভৌতিক কার্যাবলীর সাক্ষী। লেখক যখন হোটেলের ২১৭ নং রুমে ছিলেন তখন তিনি দেখতে পেতেন পাশের রুমে বাচ্চাদের খেলার আওয়াজ, কিন্তু যখন তিনি হোটেলের স্টাফদের এ ব্যাপারে জানান, দেখা যায় হোটেলের তালিকাতে কোন বাচ্চার রেকর্ডই ছিলও না।
হোটেল স্টাফরা তো বটেই, হোটেলে আসা অতিথিরাও এসব অদ্ভুত ব্যাপার উপলব্ধি করেন। হোটেলের স্টাফরা প্রায়ই দেখত অতৃপ্ত আত্মারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, লাইট আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যাওয়া, দরজা খুলে যাওয়া, পিয়ানোর কি গুলো আপনা আপনি বাজছে, মিউজিকের সুর বাজছে। হোটেলের মালিক এফও স্ট্যানলির মৃত্যুর পরেও নাকি হোটেলে ঘুরাফিরা করতে দেখা গেছে, বিশেষত বল রুমে সেখানেই নাকি তিনি আত্মহত্যা করেন।
দ্য স্ট্যানলি হোটেলের ভেতরকার চিত্র। ছবি : সংগৃহীত
ভানগড় দূর্গ
এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাগুলোর মাঝে একটি হলও ভারতের ভানগড় দুর্গ। রাজস্থানের আলবর জেলায় অবস্থিত এই দুর্গে সূর্যাস্তের পর আর কাউকে থাকতে দেয়া হয়না। প্রচলিত আছে, ১৫৭৩ সালে আমের রাজা ভগবন্ত দাস এই দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। ভানগড়ের রাজকুমারী রত্নাবলীর প্রেমে সিন্ধিয়া নামের এক তান্ত্রিক পাগল ছিলেন। কিন্তু রাজকুমারী তার প্রেমে সাড়া না দেয়ায় তান্ত্রিক নিজে আত্মহত্যা করে, তবে মারা যাওয়ার আগে কালাযাদুবলে পুরো ভানগড় দুর্গ ধ্বংস করে যায়।
ভানগড় দূর্গ। ছবি : সংগৃহীত
বলা হয়, যেদিন তান্ত্রিক মারা যায় তার পরের দিনের সূর্য ভানগড় নগরীর আর কেউ দেখে নি। সকলেই এক রাতের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। বলা হয় আজও নাকি দুর্গে তান্ত্রিকের আত্মা ঘুরে বেড়ায়। সাহস করে অনেকেই দুর্গে সন্ধ্যার পরেও থেকে গেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি। মৃতদেহও পাওয়া যায়নি, যেন পুরোই অদৃশ্য হয়ে গেছে।
উডচেস্টার ম্যানশন, ইংল্যান্ড। ছবি : টুইটার
উডচেস্টার ম্যানশন :
ইংল্যান্ডের গ্লাস্টারশায়ারে অবস্থিত এই ভবনটি ২০০ বছরের পুরাতন হলেও আজও শেষ হয়নি এর নির্মাণ কাজ। বলা হয়, ভবনটিতে যারাই কাজ করতে যায় তাদেরই মৃত্যুবরণ করতে হয়।
টেমস নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত টাওয়ার অফ লন্ডন। ছবি : দ্য টেলিগ্রাফ
টাওয়ার অফ লন্ডন
১৫৩৬ সালে হেনরি অষ্টমের স্ত্রীকে এই টাওয়ারে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। বলা হয়, আজও নাকি তিনি তার খন্ডমস্তক নিয়ে টাওয়ারে হাঁটাহাঁটি করেন। ' টাওয়ার অফ লন্ডন' মুভিটি এই স্থানকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।